ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে মৌলভীবাজারে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, আলোচনায় নানা দাবি


প্রধানমন্ত্রীকে বরণে মৌলভীবাজারে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, আলোচনায় নানা দাবি

মৌলভীবাজার জেলার জন্য একটি সুসংবাদ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (১৭ জুন) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে মৌলভীবাজার আসছেন। নতুন সরকারের ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তিনি মৌলভীবাজারে সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে প্রস্তুতির কাজ চলছে ব্যাপকভাবে।

কিছুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন প্রসঙ্গে জেলা বাসীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে নতুন দাবি সহ পুরনো দাবিগুলি আবার আলোচনায় এসেছে।

একদিকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ব্যস্ত, অপরদিকে রাস্তাঘাট সংস্কারসহ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও চলমান রয়েছে। জেলা থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর আসলমঞ্চকে সফল করার জন্য বৈঠক, আনন্দমিছিলসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

মৌলভীবাজারে দীর্ঘদিন থেকে একটি মেডিকেল কলেজ এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি, প্রবাসী ও পর্যটন এলাকা হিসেবে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, জেলার হাওরগুলোর উন্নয়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণসহ বিভিন্ন দাবি আবার আলোচনার টেবিলে এসেছে।

প্রথমে জেলার শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। পরে মানুষের স্থান সংকুলান হবে না বলে রাজনগর উপজেলার সমাবেশটি সদরের মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এটি রাজনগর উপজেলার অনেকের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, যদি রাজনগরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘটতো, তবে রাজনগর পৌরসভা ঘোষণা, স্থানীয় কিছু দাবিদাওয়া পূরণের সুযোগ পাওয়া যেত। রাজনগরের মাওলানা মুফজ্জল হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজকে সরকারিকরণের দাবিও রয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি প্রকাশ হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রীর আসার ভ্রমণ ১৭ জুন (বুধবার) মৌলভীবাজার জেলায় হবে। সফরের সময় তিনি শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন এবং পরে দুসাই রিসোর্টে এক রাজনৈতিক সভায় অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়ক, সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের দুপাশের ঝোপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। জেলার সার্কিট হাউসটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। জেলা শহর ও শ্রীমঙ্গল শহরের ফুটপাথ পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করা হচ্ছে। রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর আসা-যাওয়া করার পথগুলো চারপাশ পরিষ্কার ও মেরামতের কাজ চলছে। সমাবেশের স্থান ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফর উপলক্ষে সকল রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার আগমনের কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। আমাদের জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভল্ট থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:০৬ এম


ভল্ট থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারের এস বি কমিউনিকেশন নামের পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি নিয়ে দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ঘটনার দিন রোববার (১৪ জুন) ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমন সাহা ছয়জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০ টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের কলেজ গেট এলাকায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কবিরহাট উপজেলার নূরসোনাপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৯), একই উপজেলার কালুয়া দিঘিরপাড় এলাকার শরিফ উল্যার ছেলে ইমাম হোসেন (২৪) ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আনোয়ার আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (২১)।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বসুরহাট বাজারের এস বি কমিউনিকেশনে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন অমিত সাহা (৩৩)। তিনি ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেন। সম্প্রতি তার আচরণ ও কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। গত ১৪ জুন সকাল ১০ টার দিকে তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তাকে তার বাসায় পাঠানো হলে অমিত সাহা দ্রুত অফিসে আসবেন বলে জানান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি। পরবর্তীতে আবারও তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাসাটি তালাবদ্ধ এবং তিনি সেখানে নেই। এতে সন্দেহ হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ক্যাশ ভল্ট ও হিসাবপত্র যাচাই করেন। এ সময় ভল্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার তিনটি পৃথক ক্যাশ চালানে যথাক্রমে ২০ লাখ টাকা, ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের তথ্য উল্লেখ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা ওই অর্থ গ্রহণ করেননি। ঘটনার পর থেকে অমিত সাহা পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইমন সাহার দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. نুরুল হাকীম বলেন, এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলজেরিয়া ম্যাচের আগে স্ক্যালোনির স্বস্তি, ফিরছেন চোটজয়ী দুই তারকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১১ এম


আলজেরিয়া ম্যাচের আগে স্ক্যালোনির স্বস্তি, ফিরছেন চোটজয়ী দুই তারকা

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে আর্জেন্টিনা বুধবার (১৭ জুন) আলজেরিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ম্যাচের আগে শিবিরে সুখবর এসেছে, কারণ চোট কাটিয়ে দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস অনুশীলনে ফিরে এসেছেন। কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি বলছেন, দলের প্রস্তুতিতে এটি একটি বড় ইতিবাচক ইঙ্গিত।

ক্যানসাসের কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে আর্জেন্টিনা সোমবার (১৫ জুন) অনুশীলন করেছে। সেখানে পারেদেস একটি অনুশীলন ম্যাচে তার ফিটনেস পরীক্ষা দেন। অন্যদিকে, তাগলিয়াফিকো জিম ও মাঠের ফিজিওর তত্ত্বাবধানে আলাদা কাজ করেছেন। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, তার অগ্রগতি ইতিবাচক এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

গত মাসে বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলার সময় লিয়ান্দ্রো পারেদেস হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। এরপর থেকে তিনি পুনর্বাসনের মধ্যে ছিলেন। তদুপরি, তাগলিয়াফিকো হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে চোট পেলে স্কোয়াডে তার উপস্থিতি নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। তবে তাকে স্কোয়াডে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণে আর্জেন্টিনা শিবিরে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। কোচ স্ক্যালোনি বর্তমানে চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন।

এদিকে ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজও গোড়ালির চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরে এসেছেন। বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী বুধবার সকালে ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মারা গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাজ কিংবদন্তি আবদুল্লাহ ইব্রাহিম.

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৪ এম


মারা গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাজ কিংবদন্তি আবদুল্লাহ ইব্রাহিম.

দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাজ সংগীতের অন্যতম রূপকার এবং কিংবদন্তি পিয়ানোবাদক আবদুল্লাহ ইব্রাহিম ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার পরিবার জানিয়েছে, জার্মানিতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, আবদুল্লাহ ইব্রাহিম তার অসাধারণ সংগীত প্রতিভা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে দেশকে সম্মানিত করেছেন।

১৯৩৪ সালে কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী আবদুল্লাহ ইব্রাহিমের প্রকৃত নাম ছিল অ্যাডলফ জোহানেস ব্র্যান্ড। মাত্র সাত বছর বয়স থেকে পিয়ানো বাজানো শুরু করা এই শিল্পীর কর্মজীবন হয়েছে প্রায় আট দশকের দীর্ঘ।

কিশোর বয়সে তিনি বিভিন্ন ব্যান্ডের সাথে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে ‘দ্য জ্যাজ এপিসলস’ নামে একটি দল গঠন করেন। এই দলে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক জ্যাজ কিংবদন্তি হিউ মাসাকেলাও যুক্ত ছিলেন। মঞ্চে প্রথমে তিনি ‘ডলার ব্র্যান্ড’ নামে পরিচিত হলেও ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ ইব্রাহিম রাখেন।

১৯৪৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন কঠোর বর্ণবৈষম্যবাদ শুরু হয়, তখন জ্যাজ সংগীতকে অপরাধ বা ভিন্ন সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখা হতো। রাজনৈতিক চাপের মুখে তাদের ব্যান্ডটি ভেঙে যাওয়ার পর ইব্রাহিম সুইজারল্যান্ডে চলে যান। সেখানে আমেরিকান জ্যাজ কিংবদন্তি ডিউক এলিংটনের নজরে পড়লে এলিংটন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। পরবর্তীতে জ্যাজ ছন্দের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সুরের মিশ্রণ ঘটিয়ে ইব্রাহিম একটি অনন্য নিজস্ব ধারা তৈরি করেন। ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া তার বিখ্যাত ট্র্যাক ‘ম্যানেনবার্গ’ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে বসবাস করলেও আবদুল্লাহ ইব্রাহিম কখনোই তার শিকড় ভোলেননি। সুযোগ পেলেই তিনি দেশে ফিরে গান গাইতেন। মাত্র তিন মাস আগেও তিনি কেপটাউন আন্তর্জাতিক জ্যাজ উৎসবে তার জীবনের শেষ সরাসরি পারফরম্যান্স করেন। তার সঙ্গী ডঃ মেরিনা উমারি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন, ‘আবদুল্লাহ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তার দেশের মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করেই শান্তিতে বিদায় নিয়েছেন। বিশ্বের যেখানেই তিনি থাকুন না কেন, দেশের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত, নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:১৬ এম


ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত, নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের ছেলে মারিউস বর্গ হইবিকে দুটি ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। অসলো জেলা আদালত সোমবার তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তবে চারটি ধর্ষণের অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ২৯ বছর বয়সী হইবি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর আগে তার জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড চেয়েছিল। অন্যদিকে, হইবির আইনজীবীরা সর্বোচ্চ ১৮ মাসের সাজা দাবি করেন। তারা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

মারিউস হইবি নিজে রাজপরিবারের সদস্য নন। তবে, এই মামলার প্রভাব পুরো নরওয়েজিয়ান রাজপরিবারের ওপর পড়েছে। যখন তার বয়স চার বছর, তখন তার মা মেটে-মারিত নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকনকে বিয়ে করেন। এর পর থেকেই তিনি রাজপরিবারের পরিবেশে বড় হন। রায় নিয়ে রাজপ্রাসাদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের আর কোনো বক্তব্য নেই।

ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিত বর্তমানে ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন। সম্প্রতি, তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য হইবির আইনজীবীরা একাধিকবার তাকে কারাগার থেকে মুক্তির আবেদন করেছিলেন। রায়ের পরও তার আইনজীবী পেতার সেকুলিচ আবার মুক্তির আবেদন জানান। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের মতে, অতীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার নজির রয়েছে। ফলে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি রয়েছে।

সোমবার আদালতের বিচারক জন স্ভেরদ্রুপ এফিয়েস্তাদ প্রথমে রায়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। পরে তিনি ১২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করেন। বিচারের সময় হইবি চারটি ধর্ষণের অভিযোগই অস্বীকার করেছিলেন। তবে আদালত দুটি ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। একটি ঘটনা ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাউগুম এস্টেটে ঘটে। আরেকটি ২০২৪ সালে অসলোর এক নারীকে কেন্দ্র করে ঘটে। হইবি তার সাবেক প্রেমিকা ও পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব নোরা হাউকল্যান্ডের ওপর নির্যাতনের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হন। আরেক নারী সঙ্গীকে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার ঘটনাও প্রমাণিত হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে অসলোর অভিজাত ফ্রগনার এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী নারীকে কেন্দ্র করেও নির্যাতন ও বেপরোয়া আচরণের বেশ কিছু অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে আরো দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে হইবি খালাস পেয়েছেন। একটি অভিযোগ ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে অসলোর একটি হোটেলে পরিচয় হওয়া এক নারীকে নিয়ে। অন্যটি ছিল ২০২৩ সালে লোফোটেন দ্বীপপুঞ্জে ছুটি কাটানোর সময় পরিচয় হওয়া এক নারীকে নিয়ে।

রায়ের পর হইবির আইনজীবী পেতার সেকুলিচ বলেন, এ ধরনের মামলায় আপিল করা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। তার সহকর্মী আইনজীবী এলেন হোলাগার আন্দেনেস বলেন, যেসব অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে রায়ের অন্য কিছু অংশ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। এরপর দুই আইনজীবী অসলোর বাইরে ইলা কারাগার ও আটক কেন্দ্রে গিয়ে হইবির সঙ্গে দেখা করেন।

এই মামলায় মোট ছয়জন নারী ভুক্তভোগী হিসেবে ছিলেন। তবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন। হইবিকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করার সময় ওই নারীকে কাঁদতে দেখা যায়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের মার্চে অসলোতে একটি পার্টির পর ওই নারী ঘুমিয়ে ছিলেন অথবা এমন অবস্থায় ছিলেন যে তিনি প্রতিরোধ করতে পারেননি। এর আগে তাদের মধ্যে সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার সময় তার সম্মতি ছিল না।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল হইবির নিজের ধারণ করা ভিডিও। পুলিশ তার মোবাইল ফোনে এসব ভিডিও খুঁজে পাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। ফেব্রুয়ারিতে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এক নারী বলেন, তিনি পুরো ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি আদালতকে বলেন, 'আমি কখনোই এটা ঘটতে দিতাম না।' আদালতও একমত হয় যে ওই নারীর পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল না। বিচারকরা আরো মন্তব্য করেন যে ২০১৮ সালের ঘটনার সময় ওই নারী ঘুমিয়ে ছিলেন। তার পক্ষে হইবির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল না। গত বছর তিনি জানতে পারেন যে হইবি পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেছিলেন। মামলার ষষ্ঠ নারীকে ঘিরেও কয়েকটি অপরাধে হইবিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে ছিল নির্যাতন ও বেপরোয়া আচরণ। ওই নারী অসলোর ফ্রগনার এলাকায় থাকতেন বলে তাকে ‘ফ্রগনার নারী’ নামে পরিচিত করা হয়। আদালত রায়ে চারজন নারীকে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার ক্রোনার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে নোরা হাউকল্যান্ডও রয়েছেন। বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মামলায় তার নাম প্রকাশ করা যাবে।

এই রায় নিয়ে নরওয়েতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণের মামলায় প্রমাণের মান অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না বলে মনে করেন। অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞানী আনিয়া এমিলি ক্রুস যৌন সহিংসতা নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি এই বিচারের কিছু অংশে উপস্থিত ছিলেন। তার মতে, নরওয়ের সমাজের একটি অংশের মধ্যে ব্যাপক হতাশা রয়েছে। কারণ তারা মনে করেন ধর্ষণের মামলায় আদালত অনেক সময় ন্যায়বিচার দিতে পারছে না। তিনি বলেছেন, প্রমাণ অনেক শক্তিশালী না হলে বিচার পাওয়া যায় না। নারীদের করা বেশির ভাগ ধর্ষণের অভিযোগ পুলিশ নথিভুক্ত করে রেখে দেয়।

সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, যেসব ধর্ষণের মামলা আদালত পর্যন্ত পৌঁছায়, তার প্রতি তিনটি মামলার মধ্যে একটি খালাসে শেষ হয়। তার মতে, এমন মামলায় অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারা নারীরা একা নন। একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরো অনেক নারী যেতে বাধ্য হন।

রাজপরিবারবিষয়ক বিশ্লেষক ক্যারোলিন ভাগলে বলেন, এই মামলার কারণে রাজপরিবারের ভাবমূর্তি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের স্বাস্থ্য। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। খ্যাতি ও জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ পেগি সিমচিচ ব্রনের মতে, রাজপরিবার এখন একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের মুখে রয়েছে। তার ভাষায়, হইবির ঘটনা যেকোনো পরিবারের জন্যই একটি ট্র্যাজেডি। রাজপরিবার এখন একদিকে আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাচ্ছে, অন্যদিকে এই ঘটনার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%