ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফেনীতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড


ফেনীতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের মালেক মাস্টার বাড়ির সৈয়দ আহমদের ছেলে একরামুল হক ছুট্টু নামে এক ব্যক্তিকে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত একই সাথে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করেছে।

এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া কারণে আদালত অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একরামুল হক ছুট্টু পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ

আদালত এবং মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, একরামুল হক ছুট্টুর বিয়ে হয়েছিল ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ফেনী পৌরসভার বারাহীপুর এলাকার আরজিনা আক্তারের সাথে। বিয়ের কিছু সময় পর তিনি অন্য এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে, তিনি স্ত্রীর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তিনি আরজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়াতে শুরু করেন।

এই নির্যাতনের জেরে ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট রাতে আরজিনা মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন, ২৭ আগস্ট, পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত আরজিনার মামা মীর হোসেন দুলাল বাদী হয়ে একরামুল হক ছুট্টুকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দাগনভূঞা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রায় প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে রায় কার্যকর হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক পাচারকাণ্ডে লাইবেরিয়ার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিযুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ এম


মাদক পাচারকাণ্ডে লাইবেরিয়ার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিযুক্ত

লাইবেরিয়ায় মাদক পাচার, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগের মধ্যে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জুয়েল হাওয়ার্ড-টেইলরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আন্তদেশীয় একটি মাদক পাচার চক্রের তদন্তের সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলি গতকাল উত্থাপন করা হয়।

বুধবার, রাজধানী মনরোভিয়ার রবার্টস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে ওঠার আগে তাকে আটক করা হয়। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে। লাইবেরিয়ার পুলিশপ্রধান গ্রেগরি কোলম্যান জানান, গত মাসে জব্দ করা প্রায় ৩১৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের কোকেনের সঙ্গে হাওয়ার্ড-টেইলরের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৬৩ বছর বয়সী হাওয়ার্ড-টেইলর এখনও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।

তাঁর আইনজীবী বিবিসিকে জানিয়েছেন, বিচারকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।

হাওয়ার্ড-টেইলরের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া নিয়ন্ত্রিত মাদক আমদানি, বিক্রি ও পরিবহন, অবৈধ মাদক পাচার, অপরাধে প্ররোচনা এবং অপরাধ সংঘটনে সহায়তার মতো বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তিন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন ক্রোয়েশিয়ার নাগরিক এবং একজন ইউক্রেনের নাগরিক।

লাইবেরিয়ার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এই তিন ব্যক্তি হাওয়ার্ড-টেইলরের সঙ্গে একই মাদক পাচার চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করতেন। লাইবেরিয়ার বিচারমন্ত্রী অসওয়াল্ড টুয়েহ জানিয়েছেন, ওই তিনজনকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

লাইবেরিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। জুন ও জুলাইয়ে দুটি বড় চালান জব্দ হওয়ার পর এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। জুলাইয়ের অভিযানে প্রায় চার টন কোকেন জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।

ধারণা করা হচ্ছে, এসব কোকেন ইউরোপে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। লাইবেরিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছে, এটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাদকবিরোধী অভিযান। তারা বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে একটি বড় ও জটিল আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই হাওয়ার্ড-টেইলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। পুলিশপ্রধান গ্রেগরি কোলম্যান শেষ মাসে জব্দকৃত প্রায় ৩১৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের কোকেনের সঙ্গে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য যোগাযোগ তদন্ত করছেন।

তদন্ত বর্তমানে মাদক পরিবহনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মাদক ব্যবসায় অর্থ জোগান দেওয়ার ব্যক্তি, চক্রের সংগঠক এবং এই কার্যক্রমকে নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক প্রভাব দিয়ে সহায়তা করার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। লাইবেরিয়ার সরকার জানায়, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত যে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতার প্রভাব অনুযায়ী কাউকে ছাড়া দেওয়ার কথা বলেও তারা উল্লেখ করেছে। সরকারের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি পদই আইনকে উপেক্ষা করতে পারবে না। রাজনৈতিক যোগাযোগ কাউকে আইনগত ব্যবস্থা থেকে রক্ষা করবে না। একইভাবে নাগরিকত্বের কারণে কেউ দায়মুক্তি পাবেন না। সরকারের বক্তব্য, মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত যে কেউ, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

জুয়েল হাওয়ার্ড-টেইলর লাইবেরিয়ার রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। তিনি দেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক বিদ্রোহী নেতা চার্লস টেইলরের সাবেক স্ত্রী। চার্লস টেইলর ১৯৯৭ সালে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাতিসংঘ-সমর্থিত বিশেষ আদালত তাকে সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সহায়তা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চলা ওই গৃহযুদ্ধে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। চার্লস টেইলর ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক বছর পর, হাওয়ার্ড-টেইলর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরে সাবেক ফুটবলার ও রাজনীতিক জর্জ উইয়া তাকে নির্বাচনী জোটের অংশীদার হিসেবে নিয়োগ করেন। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উইয়া প্রেসিডেন্ট থাকাকালে, হাওয়ার্ড-টেইলর দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে কোকেন পাচারের ক্ষেত্রে পশ্চিম আফ্রিকার ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। মাদক পাচারকারীরা পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশের দুর্বল সীমান্ত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের সংকটকে কাজে লাগাচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে সাগর ও আকাশপথে মাদক এনে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশকে ইউরোপে পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। লাইবেরিয়ায় সাম্প্রতিক বড় মাদক চালান জব্দ করা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সেই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অংশ বলে মনে করছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অর্থনৈতিক চাপেই ইরান চুক্তি করবে: জেডি ভ্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ এম


অর্থনৈতিক চাপেই ইরান চুক্তি করবে: জেডি ভ্যান্স

জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন যে, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে ইরান শেষ পর্যন্ত চুক্তি করতে বাধ্য হবে। এছাড়া তিনি জানান, ইরান যাতে আবারও পারমাণবিক স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে—সেটিই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য।

ভ্যান্স এই প্রসঙ্গে বলেন, ইরানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকতে চায়, নাকি তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সময় ইরানের শেষ হয়েছে।

ভ্যান্সের ভাষ্য হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের পথ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখা খুবই জরুরি। তিনি দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর ইরানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণও আর নেই।

এদিকে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, যদি সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন কমে আসবে।

বেসেন্ট বলেন, ‘তেলের দাম কেন হঠাৎ বেড়ে গেল, তা আমি নিশ্চিত নই। আমরা যদি সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করি, তাহলে সম্ভবত বড় ধরনের সামরিক অভিযান (কাইনেটিক) নতুন করে শুরু করার প্রয়োজন হবে না।’ এখানে তিনি ‘কাইনেটিক’ শব্দটি ব্যবহার করে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি বোঝান।

তিনি আগামী সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলেও জানান।

সূত্র: সামাটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলি বসতি স্থাপন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানাল ফ্রান্স-জার্মানি-যুক্তরাজ্য-কানাডা-ইতালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪১ এম


ইসরায়েলি বসতি স্থাপন পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানাল ফ্রান্স-জার্মানি-যুক্তরাজ্য-কানাডা-ইতালি

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পশ্চিমা শক্তিগুলো কড়া সমালোচনা করেছে অধিকৃত পশ্চিম তীরের অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ই-ওয়ান এলাকায় প্রায় ১২শ'টি নতুন বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের জন্য। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে তেল আবিবের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ বলে বিবেচিত। বৈশ্বিক চাপের মুখে, ইসরায়েল দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জেরুজালেমের পূর্বে অবস্থিত এই স্পর্শকাতর ই-ওয়ান এলাকায় সব প্রকার নির্মাণকাজ স্থগিত রেখেছিল। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনিরা স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাব্য সমাধানের জন্য মারাত্মক আঘাত হিসেবে দেখছেন। যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে পুরো পশ্চিম তীর ভৌগোলিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

এই গঠনের ফলে পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনের অন্যান্য এলাকা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ইউরোপীয় মিত্রদেশসমূহ ও কানাডার পক্ষ থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "পশ্চিম তীরে যখন চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর চরমপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন মাত্রায় পৌঁছেছে, তখন ইসরায়েল সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক।" ওই বিবৃতিতে পরিষ্কার করে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, এই ধরনের একতরফা পরিকল্পনা কেবল শান্তির পথকে সুদূর পরাহতই করবে না বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের নিজস্ব অবস্থান ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব এই নির্মাণ পরিকল্পনাকে একটি অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার কড়া নিন্দা জানালে তা সঙ্গে সঙ্গে এক বাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক বিরোধিতা ও স্থানীয় বেদুইন ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি শান্তি কামীদের আইনি চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় গত বছরের আগস্টে অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি বসতি ইউনিটের মধ্যে ১২৩৪টির দরপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান করে। পূর্ব জেরুজালেম ও মালে আদুমিম বসতির মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই বিশাল নির্মাণ পরিকল্পনা বিস্তৃত। পরিকল্পনা উন্মোচনের সময়, ইসরায়েলের অতি-জাতীয়তাবাদী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছিলেন, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণা চিরতরে মুছে ফেলা হচ্ছে।

ঘোষিত দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ অক্টোবর, যা ইসরায়েলের আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে। এ কারণে নির্বাচনের পর নতুন কোনো সরকার ক্ষমতায় আসলেও এ দরপত্র বাতিল করা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে প্রায় ১৬০টি অবৈধ বসতি তৈরি করেছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করছেন। একই অঞ্চলে বাস করেন প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি, যারা গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছেন।

তীব্র আন্তর্জাতিক আপত্তি ও আঞ্চলিক সংকট সত্ত্বেও, ইসরায়েলের একের পর এক সরকার বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও বসতি স্থাপনকারী-বান্ধব জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং পরবিরতীতে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের গতি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ই-ওয়ান প্রকল্পের বিরোধীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চল দক্ষিণাঞ্চল থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর ফলে, রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম এবং বেথলেহেমকে কেন্দ্র করে একটি অখণ্ড ফিলিস্তিনি নগর অঞ্চল গড়ে তোলার পথ চিরতরে বন্ধ করে দেবে।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ২৫ দিন ধরে নিখোঁজ ১১ বছরের ফকরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ২৫ দিন ধরে নিখোঁজ ১১ বছরের ফকরুল

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার উড়িয়াইন গ্রামের ১১ বছর বয়সী শিশু ফকরুল আহমেদ গত ২৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।

নিখোঁজ ফকরুল আহমেদের বাবার নাম ফয়সাল মিয়া। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি দোকানে কাজ করত। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দোকান থেকে পানি আনতে যাওয়ার পর ফকরুল আর ফিরে আসেনি। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ শিশুর পরিচয়:
নাম: ফকরুল আহমেদ
বয়স: ১১ বছর
বাবার নাম: ফয়সাল মিয়া
গ্রাম: উড়িয়াইন
থানা: নাসিরনগর
জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ফকরুলের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি শিশুটির সন্ধান পেয়ে থাকলে বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকলে নিচের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

যোগাযোগ: ০১৭৮০-৭৫৫৭০৬

পরিবারের পক্ষ থেকে ফকরুলের সন্ধানে পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%