১১:২৯ এম
ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের মালেক মাস্টার বাড়ির সৈয়দ আহমদের ছেলে একরামুল হক ছুট্টু নামে এক ব্যক্তিকে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত একই সাথে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করেছে।
এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া কারণে আদালত অপর পাঁচ আসামিকে খালাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একরামুল হক ছুট্টু পলাতক রয়েছেন।
আরও পড়ুন: শ্বশুরের মৃত্যুর এক দিন পর মারা গেলেন পুত্রবধূ
আদালত এবং মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, একরামুল হক ছুট্টুর বিয়ে হয়েছিল ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ফেনী পৌরসভার বারাহীপুর এলাকার আরজিনা আক্তারের সাথে। বিয়ের কিছু সময় পর তিনি অন্য এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে, তিনি স্ত্রীর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তিনি আরজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়াতে শুরু করেন।
এই নির্যাতনের জেরে ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট রাতে আরজিনা মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন, ২৭ আগস্ট, পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত আরজিনার মামা মীর হোসেন দুলাল বাদী হয়ে একরামুল হক ছুট্টুকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে দাগনভূঞা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রায় প্রদান করেছেন।
আরও পড়ুন: নেছারাবাদে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় দুজন
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন যে, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে রায় কার্যকর হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন