মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
১১:৪৪ এম
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার উড়িয়াইন গ্রামের ১১ বছর বয়সী শিশু ফকরুল আহমেদ গত ২৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিখোঁজ ফকরুল আহমেদের বাবার নাম ফয়সাল মিয়া। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি দোকানে কাজ করত। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দোকান থেকে পানি আনতে যাওয়ার পর ফকরুল আর ফিরে আসেনি। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ শিশুর পরিচয়:
নাম: ফকরুল আহমেদ
বয়স: ১১ বছর
বাবার নাম: ফয়সাল মিয়া
গ্রাম: উড়িয়াইন
থানা: নাসিরনগর
জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ফকরুলের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি শিশুটির সন্ধান পেয়ে থাকলে বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকলে নিচের নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
যোগাযোগ: ০১৭৮০-৭৫৫৭০৬
পরিবারের পক্ষ থেকে ফকরুলের সন্ধানে পোস্টটি বেশি বেশি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে আজ পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে মতিঝিল থানার ৮ জন, পল্টন থানায় ৪ জন, সবুজবাগ থানায় ৮ জন, খিলগাঁও থানায় ৬ জন, রামপুরা থানায় ১১ জন, শাহজাহানপুর থানায় ৬ জন এবং মুগদা থানায় ১১ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালির ঐতিহাসিক শহর কোমোর প্রায় ৩০টি এলাকায় সাইকেল চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শহরটির মেয়র আলেসান্দ্রো রাপিনেসে। সম্প্রতি, একটি বৈদ্যুতিক সাইকেলের ধাক্কা লেগে আহত হওয়ার পর জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছেন।
নতুন এই নিয়ম প্রয়োগের সময়সীমা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এসব এলাকায় সাইকেল চালকদের তাদের সাইকেল থেকে নেমে সেটি হেঁটে নিয়ে যেতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল বৈদ্যুতিক সাইকেলের ক্ষেত্রেই নয়, সাধারণ সাইকেলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। মেয়র রাপিনেসে জানিয়ে দিয়েছেন যে, জননিরাপত্তা বাড়াতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইতালীয় বার্তা সংস্থা আনসাকে তিনি বলেন, নিজের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে তিনি বুঝেছেন, দ্রুতগতির বৈদ্যুতিক সাইকেলের ধাক্কা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি বলেন, ‘মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়। আর আমি জানি, এই দানবগুলোর একটির ধাক্কা খেলে কেমন লাগে।’
মেয়র রাপিনেসে জানিয়েছেন, জুলাই মাসে সিটি হল থেকে বের হওয়ার সময় একটি বৈদ্যুতিক সাইকেলের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে।
ওই ঘটনার জন্য তাকে হাসপাতাল যেতে হয়নি। তবে ঘটনাটি তাকে শহরের যান চলাচল বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। মেয়রের কথায়, ঘটনার কিছুক্ষন আগেই তার প্রশাসন শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা করেছিল। যদিও ওই বৈদ্যুতিক সাইকেলটি কে চালাচ্ছিল তা এখনও জানা যায়নি। রাপিনেসে নিজের তৈরি অনলাইন ভিডিও সিরিজ ‘রাপিনিউজ২৪’-এর একটি ভিডিওতে সিদ্ধান্তটির ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাকে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়নি। আমাকে একটি সাইকেল ধাক্কা দিয়েছিল। আমি তথ্য সংগ্রহ করেছি। আর সেখান থেকেই এই ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে।’
সাইকেল নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্তটি শহরের নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থার একটি অংশ হবে। পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে কোমোর ব্যস্ত কেন্দ্রীয় এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এর আওতায় শহরের একটি অংশে সীমিত যান চলাচল এলাকা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় গাড়ি ও ভ্যান চলাচলের ওপর নতুন বিধিনিষেধও আরোপ করা হবে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অনেক রাস্তা শহরের পুরোনো এবং সবচেয়ে প্রশস্ত সড়ক। এসব রাস্তা পণ্য সরবরাহকারী যানবাহনের চালকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়মের অধীনে সীমিত যান চলাচল এলাকার কিছু যানবাহনের জন্য বার্ষিক অনুমতিপত্র প্রয়োজন হবে। অতিরিক্তভাবে, প্রতিদিন ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হলে ৩ ইউরো ফি দিয়ে অনুমতিপত্র নিতে হবে। দোকান এবং রেস্তোরাঁয় পণ্য সরবরাহকারী গাড়িগুলো সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত হোটেলে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন পর্যটকরা। তবে তাদের থাকা জায়গায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
কোমোর নতুন নিয়মটি শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক সাইকেলের জন্য নয়। সাধারণ সাইকেলের জন্যও একই বিধিনিষেধ থাকবে। ইতালির সড়ক আইনে সাধারণ ও বৈদ্যুতিক সাইকেলের মধ্যে এই ধরনের আলাদা শ্রেণীবিভাগ করা হয়নি, তাই দুই ধরনের সাইকেলকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। শহরের পুরোনো এবং ব্যস্ত এলাকাগুলোতে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। তবে মেয়রের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় যাতায়াতের জন্য সাইকেল এখন একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হওয়ায় অনেকে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি বাতিলের দাবিতে অনলাইনে একটি আবেদনও শুরু হয়েছে।
স্থানীয় নাগরিক সংগঠন সিভিতাস কোমো এই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটি সিদ্ধান্তটিকে ‘সন্দেহজনক ও ভুল’ বলে উল্লেখ করেছে। আরেকটি স্থানীয় সংগঠন নোভা কোমো আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিবাদী সাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। সংগঠনের সদস্যরা নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানাতে এই কর্মসূচী পালন করবেন।
ঐতিহাসিক অথবা ব্যস্ত এলাকায় সাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা ইতালিতে নতুন কিছু নয়। দেশটির পালেরমো শহরে ২০২৩ সাল থেকে প্রধান সড়কের কয়েকটি অংশে সাইকেল চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ইউরোপের আরও বেশ কিছু শহরে বৈদ্যুতিক সাইকেল, বৈদ্যুতিক স্কুটার এবং এক ব্যক্তির ব্যবহারের অন্যান্য ছোট যানবাহনের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। যুক্তরাজ্যেও এ ধরনের কিছু নিয়ম প্রবর্তিত হয়েছে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসও বৈদ্যুতিক স্কুটার ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে নিয়ম কঠোর করেছে। ২০২৩ সালে শহরটিতে ভাড়ায় চালানোর বৈদ্যুতিক স্কুটার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যাট রেনশ'র (ডানে) দলে ফেরা নিশ্চিত হয়েছে, নাথান লায়নের (বামে) জায়গায় নামতে পারে স্কট বোল্যান্ড (মাঝে)। ছবি : সংগৃহীত
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে বড় হারের পর অস্ট্রেলিয়া শিবিরে পরিস্থিতি কিছুটা থমথমে হয়ে আছে। এই সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের আগে স্কোয়াডে যে রদবদল করা হয়েছিল, এবার ম্যাকাই টেস্টের বল গড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
সাধারণত টেস্ট শুরুর অন্তত একদিন আগে একাদশ চূড়ান্ত করার রেওয়াজ থাকে, তবে এবার লাল-সবুজের দলের বিরুদ্ধে রুখে দিতে অজি টিম ম্যানেজমেন্ট বেশ দেখেশুনে ও মেপে পা ফেলছে।
কামিন্সের দল আগামীকাল (শনিবার) ভোরে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামবে। ম্যাচটি ড্র হলে, ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কাছে টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া করার কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা হবে অস্ট্রেলিয়ার। তাই জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। জানা গেছে, অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নকে একাদশের বাইরে বসিয়ে চার বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে ম্যাকাইয়ের চেনা বাউন্সি উইকেটে ঝাঁপাতে পারে অজিরা।
সংবাদমাধ্যম ফক্স স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, স্পিনার ছাড়া মাঠে নামার পরিকল্পনা মূলত পেসার স্কট বোল্যান্ডের জায়গা প্রসারের জন্য জোরদার হচ্ছে। এটি সত্যি হলে, অস্ট্রেলিয়া তাদের খেলা সর্বশেষ আট টেস্টের মধ্যে এটি হবে পঞ্চমবারের মতো, যেখানে তারা বিশেষজ্ঞ কোনো স্পিনার ছাড়াই মাঠে নামবে। এর আগে তাদের সর্বশেষ অ্যাশেজের অধীনে অ্যাডিলেড টেস্টে নাথান লায়ন চোট পাওয়ার পর মেলবোর্ন ও সিডনি টেস্টেও স্পিন আক্রমণ ছাড়াই দল সাজিয়েছিল।
ডারউইন টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অজিদের একাদশে পরিবর্তনের সুর বেজে উঠেছিল।
সেখানকার স্থানীয় ছেলে জ্যাক ওয়েদারল্ড দুই ইনিংসেই আলো ছড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন, ফলে অজি নির্বাচকরা তাকে স্কোয়াড থেকেই বাদ দিয়েছেন। তার জায়গায় ডাক পাওয়া ৩০ বছর বয়সী ম্যাট রেনশ আগামীকাল ম্যাকাইতে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামতে পারেন, এমন জোরালো গুঞ্জন রয়েছে।
অন্যদিকে, নাথান লায়নকে মূল একাদশ থেকে বাদ দেওয়া হলে, এটি হবে ডারউইন টেস্টের দল থেকে দ্বিতীয় বড় পরিবর্তন। এই পরিস্থিতিতে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজলউডের সঙ্গে স্কট বোল্যান্ড গতির ঝড় তুলতে দেখা যেতে পারে। কামিন্স নিজেই বলেছেন, বোল্যান্ডকে আগামী ম্যাচে খেলানোর বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা হচ্ছে।
তবে অজি অধিনায়ক জানিয়েছেন, টসে নামার ঠিক আগমুহূর্তে তাদের একাদশ চূড়ান্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় দফা অনানুষ্ঠানিক ভোট পরিচালনা করবে। এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্রমেই বাড়তে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে কার প্রতি কতটা সমর্থন রয়েছে, তা বোঝার জন্য।
এ ব্যাপারে বার্তা সংস্থা এএফপি’র রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। গত মাসে প্রথম দফার গোপন ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন। ওই ভোটে ভেটো প্রদানের ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ প্রার্থীদের বিষয়ে গোপনে মতামত দিয়েছেন।
নতুন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, যিনি বর্তমানে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান; চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বির্কেট, উগান্ডার ওলার ওতুনু এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল।
প্রথম দফার ভোটের পর ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকিও তার প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী ৩১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে যাওয়া বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে যোগ দিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল ফোর্তি বলেন, প্রথম দফার ভোট মহাসচিব নির্বাচনের প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরেছে। দ্বিতীয় দফার ভোট থেকে প্রতিযোগিতাটি কোন দিকে এগোচ্ছে, সে বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসের ভোটের তুলনায় এবারের প্রার্থীদের ভোটের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থন আরও সুসংহত করতে পারছেন, নাকি পিছিয়ে পড়ছেন—এ দিকে কূটনীতিকরা নজর রাখবেন।
তবে শুক্রবারের ভোটের পর কোনো প্রার্থী যদি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যান—এমন সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন ফোর্তি। তিনি যোগ করেন, ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ দেশ—যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—সম্ভবত পরবর্তী পর্যায় পর্যন্ত তাদের পছন্দ প্রকাশ না-ও করতে পারে। নতুন প্রার্থীও প্রতিযোগিতায় যুক্ত হতে পারেন।
জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি জানান, বর্তমানে থাকা কোনো প্রার্থীকে নিয়ে যদি অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং কেউ যদি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে না পারেন, তাহলে নতুন প্রার্থীকেও দেখা যেতে পারে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে কোনো প্রার্থী কমপক্ষে ৯টি ভোট পেলেও, তার জন্য আরো একটি বড় বাধা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে সেই প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারবেন না। এই পাঁচ দেশের মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিরোধ রয়েছে।
কোনো প্রার্থী নিরাপত্তা পরিষদের এই দুই ধাপের বাধা অতিক্রম করতে পারলে তার নাম জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের এই অনানুষ্ঠানিক ভোট পদ্ধতি ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে চালু হয়েছিল। তখন ভেটোর কারণে দুই প্রার্থীর মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, সেই অচলাবস্থা কাটাতে এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়।
স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন দেশের সমালোচনা থাকলেও, বিভিন্ন রূপে এই অনানুষ্ঠানিক ভোট পদ্ধতি চালু রয়েছে। ফোর্তি বলেন, শুক্রবারের ভোটের পরে কিছু প্রার্থী হয়তো বুঝতে পারবেন যে তাদের প্রচারণা আর এগিয়ে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ