ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট, বন্ধ ৩ ইউনিট; বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে


কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকট, বন্ধ ৩ ইউনিট; বিদ্যুৎ উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

টানা খরার কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পানি কমে যাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালু রয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বৃষ্টিপাত না হলে হ্রদের পানির স্তর আরও কমে যাবে এবং উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, তার সাথে সঙ্গেই আরও একটি ইউনিট বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, রুল কার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর থাকার কথা ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৭৩ দশমিক ৯১ ফুটে। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় পানির স্তর ৪ দশমিক ৪৩ ফুট কম রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় জামায়াতের পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস পালিত, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট চালু ছিল। এর মধ্যে ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩২ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে দুটি ইউনিট চালু রেখে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। যদি বৃষ্টিপাত না হয়, তাহলে হ্রদের পানির স্তর আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন আরও সীমিত হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়দের মধ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অনুভব করা হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘকাল পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি নেমে যেতে পারে, যার প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাথে সাথে এলাকার পরিবেশ ও অর্থনীতিতেও পড়বে।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় দেশের বৃহত্তম ও একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সেনাবাহিনী মোতায়েন ও ইউএনও প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি ১১-দলীয় জোটের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের দ্রুত পদায়নের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের দ্রুত পদায়নের দাবি

নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী দ্রুত পদায়ন ও নিয়োগ কার্যক্রমের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সমস্যা সমাধানের জন্য।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত সুপারিশের প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ১৪ হাজার ৩৮৪ জন এখনো বিদ্যালয়ে পদায়নের জন্য অপেক্ষা করছেন। এর ফলে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, অনেক প্রার্থী পূর্বের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আশায় অনেকেই অন্য চাকরিতে যোগদান করেননি এবং অনেকেই বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস হারিয়ে বেকার হয়ে রয়েছেন। প্রায় ৯ লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে লিখিত, মৌখিক ও অন্যান্য ধাপ অতিক্রম করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইতিহাসে চূড়ান্ত সুপারিশের পর বিদ্যালয়ে পদায়নে এত দীর্ঘসূত্রতার নজির কখনও দেখা যায়নি।

নিয়োগ প্রত্যাশীরা জানান, তারা কখনোই প্রশিক্ষণের বিরোধী নন। বরং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার বিশ্বাস তাঁদের রয়েছে। তবে, চূড়ান্ত সুপারিশের পর যদি পুনরায় মূল্যায়ন কিংবা বিধিমালাবহির্ভূত নতুন শর্ত আরোপ করা হয়, তবে তা সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী বিদ্যালয়ে পদায়নের পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান তাঁরা।

এছাড়া, গর্ভবতী এবং সদ্য সন্তান জন্মদানকারী নারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দাবিও রাখছেন তাঁরা।

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে বলে উল্লেখ করে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা জানান, এ পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে দ্রুত পদায়ন করলে শিক্ষক সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবে।

তারা অভিযোগ করেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নতুন করে গোয়েন্দা রিপোর্ট (এনএসআই রিপোর্ট)-এর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, যা অতীতের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোতে দেখা যায়নি।

পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর অতিরিক্ত এই ধাপ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা জানতে চেয়ে তাঁরা বলেন, এটি নিয়োগ কার্যক্রমে আরও বিলম্ব ও দীর্ঘসূত্রতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে কিনা, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনটি সুস্পষ্ট দাবি জানান। এর মধ্যে তিনি ১৪ হাজার ৩৮৪ জন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করতে এবং এনএসআই রিপোর্ট সম্পর্কে স্পষ্ট ও লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেন। এছাড়া, নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণাসহ একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করার দাবিও জানান।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুপারিশপ্রাপ্তরা জানায়, তারা রাজপথে নয়, শ্রেণিকক্ষে থাকতে চান। কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি না করে বরং দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও জাতি গঠনের কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিকের মৃত্যুর ঘটনায় থাই নারী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিকের মৃত্যুর ঘটনায় থাই নারী আটক

মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে কর্মরত একজন মার্কিন কূটনীতিককে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সঙ্গেও জড়িত একজন থাই নারীকে আটক করেছে পুলিশ, এ বিষয়ে কূটনৈতিক মহলের একাধিক সূত্র বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে। খবর এপির মাধ্যমে জানা গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে তারা ঘটনাটির সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ করেনি।

একটি ই-মেইল বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ‘পরিবার ও স্বজনদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ মুহূর্তে আমাদের কাছে দেওয়ার মতো আর কোনো তথ্য নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমারে কর্মরত কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের তিনজন সদস্য জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেলে ওই কর্মকর্তার মরদেহ পাওয়া যায়।

এই দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সুবিধাসম্পন্ন হোটেলটি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। এটি মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে একজন থাই নারীকে হেফাজতে নিয়েছে।

২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি-কে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটি ব্যাপক সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। সেখানে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থী বাহিনী লড়াই চালাচ্ছে।

মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ সাধারণত গণমাধ্যমকে খুব কম তথ্য প্রদান করে থাকে। যে পুলিশ স্টেশনটি সাকুরা হোটেল এলাকার দায়িত্বে রয়েছে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অন্যদিকে সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেলের ব্যবস্থাপকও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এছাড়া ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত থাই দূতাবাস এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আটক থাই নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা তদন্ত সংক্রান্ত অন্যান্য কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং এখন পর্যন্ত মার্কিন, মিয়ানমার বা থাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ বা সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে ৭২১ ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


রাজশাহীতে ৭২১ ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ

রাজশাহীতে গত দুই দশকে নগরায়ণের ছবি পাল্টে গেছে। তবে এই উন্নয়নের আড়ালে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছাড়াই নির্মিত এসব ভবন বর্তমানে নগরবাসীর জন্য চরম নিরাপত্তার ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই দশক আগে জীবন বীমা কর্পোরেশন ছিল রাজশাহীর একমাত্র দশতলা ভবন। বর্তমানে নগরী বহুতল ভবনে পূর্ণ হয়ে গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মানা হয়নি।

রাজশাহী মহানগরীর উপশহর নিউমার্কেট মোড়ে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছাড়াই ৯ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ রানা। ডেভলপার কোম্পানির মাধ্যমে নির্মিত এই ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রি হলেও পরে আরডিএ জানায়, কোনো অনুমোদন ছাড়াই এটি নির্মিত হয়েছে। এ নিয়ে মামলাও করেছে কর্তৃপক্ষ। সাহেব বাজারের ১২ তলা এস এস টাওয়ারেরও একই অবস্থা।

সাধারণত সাত তলার উপরের ভবনগুলোকে বহুতল ভবন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বেশিরভাগ ভবন মালিক সাত তলার অনুমোদন নিয়ে আট বা দশ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী রাস্তা ছাড়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আরডিএ-র তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বহুতল ভবনের সংখ্যা ১ হাজার ২৪৫টি। এর মধ্যে ৮৪৮টি ভবনেই রাস্তা না ছেড়ে নির্মাণ করা হয়েছে। অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের দায়ে বর্তমানে ১৪টি মামলা চলমান রয়েছে।

নগরবাসী ও সচেতন মহলের মতে, আরডিএ-র কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নকশা অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছেন। নুরুল ইসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ‘ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে এসব ভবনের আশেপাশে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার পথ নেই। উদ্ধার কাজ পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ায় যেকোনো দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়বে।’

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, নগরীর একটি মোট ৭২১টি ভবন এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণ করায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তিনি।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বলেন, ‘আরডিএ-র উচিত শুধু নোটিশ বা মামলা দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা। নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে না দিলে এই দৌরাত্ম্য থামানো যাবে না।’

আরডিএ-র ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল তারিক জানান, গত পাঁচ বছরে দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৪০টি ভবনের বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আরডিএ-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, ‘অনুমোদনহীন ভবন মালিকদের নোটিশ দিয়ে মামলা করার প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। তবে নিয়ম বহির্ভূত সব বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলা হবে। এখন আরডিএ-র কোনো কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে প্ল্যান পাস করানোর সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, গত এক দশকে রাজশাহীতে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি ভবন মালিককে নকশা বহির্ভূত বা অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে নোটিশ পাঠিয়েছে আরডিএ। পরিকল্পিত নগরায়ণের পথে এই অবৈধ বহুতল ভবনগুলো এখন প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান সফরে কাতারের প্রতিনিধিদল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


ইরান সফরে কাতারের প্রতিনিধিদল

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং আঞ্চলিক সংকট নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কাতারের তেহরানে পৌঁছেছে।

ইরানের স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা উল্লেখ করে আলজাজিরা জানাচ্ছে, কাতারের এই প্রতিনিধিদলটি ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন।

বিশেষ করে, চলমান এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে, তা এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%