ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: রংপুরে মেডিকেল শিক্ষার্থী একদিনের রিমান্ডে


আত্মহত্যায় প্ররোচনা: রংপুরে মেডিকেল শিক্ষার্থী একদিনের রিমান্ডে

রংপুরের বহুতল ভবন থেকে নুজশাত জাহানের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত মেডিকেল শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনকে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

রবিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় শাহরিয়ারকে আদালতে হাজির করা হলে রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইন এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাদি পক্ষের আইনজীবী আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন জানান, মামলার উপাদান এবং মোবাইলের তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত সাকিনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে, যা তদন্তের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৬ জুন রাতে, সাকিন নুজশাতের সঙ্গে মোবাইলে ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড কথা বলেন। গত তিন মাসে তাদের মধ্যে ১১৮ বার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে এবং একে অপরের সঙ্গে ম্যাসেজও আদান-প্রদান করা হয়েছে। গভীর রাতে এত দীর্ঘ সময় একটি ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের কথা হতে পারে না বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

বিবাদির আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম মন্ডল জানালেন, আমরা সাকিনের জামিন আবেদন করেছিলাম। তবে আদালত আমাদের আবেদন নাকচ করেছে এবং রিমান্ড শেষের পর পুনরায় জামিনের আবেদন দায়ের করা হবে।

অন্যদিকে, উল্লেখ্য যে, গত ২২ জুন বিকালে নগরীর একটি হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে নুজশাত জাহান মৃত্যু বরণ করেন। এ ঘটনায় পরের দিন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন নুজশাতের বাবা নজরুল ইসলাম। ঘটনার পরেই অভিযুক্ত রংপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র সাকিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভার তথ্য

দেশে গুরুতর অপরাধের হার কমছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


দেশে গুরুতর অপরাধের হার কমছে

মাঠ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা কমছে। চলতি বছরের মে মাসে এপ্রিলের তুলনায় জঘন্য অপরাধের সংখ্যা কমেছে ২৪টি, যা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩৭টি, অর্থাৎ ৮.৪৪ শতাংশ কমেছে।

মহানগর ডেস্কের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ২১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সারা দেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মাসিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্যটি উঠে এসেছে।

সভায় উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।

সভার উপস্থাপকরা জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে জঘন্য বা গুরুতর অপরাধের সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় ২৪টি বা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। সেই সঙ্গে আগের বছরের মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসে এ ধরনের অপরাধ ২৩৭টি বা ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকরা প্রতি মাসে সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান। ঐ প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও পাঠানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান, প্রতি মাসে জেলায় পরিচালিত কার্যক্রম বিভাগীয় কমিশনারদের সভায় উপস্থাপন করা হয়। সেখানকার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। জেলা প্রশাসকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করে। এভাবেই মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তবে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়, এবং যদি অবনতি হয়, তবে করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যেসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সেগুলোকে গুরুতর বা জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা (দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণ ও ধর্ষণের ফলে মৃত্যু, যৌতুকের কারণে নারীর মৃত্যু, মুক্তিপণের জন্য বা হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ (দণ্ডবিধির ৩৬৪-ক ধারা), রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধের উদ্যোগ (দণ্ডবিধির ১২১ ধারা), সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৫২১টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ৪৬৬টি ছিল, এবং মে মাসে তা দাঁড়ায় ৪৮৫টিতে।

রাজশাহী বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৩৪৯টি, যা ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ২৬১টিতে নেমে আসে।

খুলনা বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ২৭১টি, ২০২৬ সালের এপ্রিলে এটি ২১৯টি এবং মে মাসে ২৪২টিতে দাঁড়ায়।

বরিশাল বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ২২২টি, এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ২২১টি ছিল।

সিলেট বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ১৯৩টি, ২০২৬ সালের এপ্রিলে এটি ১১৯টি এবং মে মাসে ১২৩টিতে দাঁড়ায়।

রংপুর বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৩১৩টি, যেটি ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ২৬৩টিতে দাঁড়ায়।

ময়মনসিংহ বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ১৬৩টি, আর ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ১৬২টি।

অপরাধের তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৪৮৮টি, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে কমে ৪১১টিতে, এবং মে মাসে আরও কমে ৪০২টিতে নেমে আসে।

সারা দেশে ২০২৫ সালের মে মাসে মোট ২ হাজার ৮০৯টি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৯৬টি এবং মে মাসে কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৭২টিতে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং প্রায় সব ধরনের অপরাধ কমেছে।

তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আমি যে পরিসংখ্যান পেয়েছি, তাতে দেখা গেছে ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই অপরাধ কমেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী (বুস্ট আপ) করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখায় তিনটি আলোচিত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের স্বীকৃতিও দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া কয়েক জন পুলিশ সদস্য, দৌলতদিয়ার নৌদুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নৌ-পুলিশের তিন সদস্য, এবং মুন্সিগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেফতারে অবদান রাখা তিন পুলিশ সদস্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী ৩০ দিন ইরানের একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে হরমুজ প্রণালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


আগামী ৩০ দিন ইরানের একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে হরমুজ প্রণালি

ইরান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, আগামী ৩০ দিন ধরে এই প্রণালিটি একদিনের জন্যও ইরানের একক দখলে থাকবে।তিনি বাগদাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

আরাগচি এরপর বলেন, ‘ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ ফলাফল এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অগ্রগতি সম্পর্কে আমি ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেছি।’

আরাগচি আরো মন্তব্য করেন, ‘এদিকে, আগামী ৩০ দিন ধরে হরমুজ প্রণালি ইরানের পূর্ণ তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে। সমস্ত বাধা দূর হলে, তখন এই জলপথের পূর্ণ ব্যবহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা এই বিষয়ে কাজ করে চলেছি।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জোর দিয়ে বলেন, ‘এই দায়িত্ব ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর বর্তায়। এই অবস্থানে অন্য কোনো দেশের ভূমিকা নেই। সমঝোতা স্মারকে এদিকটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা একতরফা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবে এবং প্রণালিটি পুনরায় খোলার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে।’

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গের কারণে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এটি জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে, নিশ্চিত করা হয় নি যে, হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা মারা গেছে কি না।

এতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু মোট ৬১৯ শিশুর। এই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ সমূহের কারণে মোট ৭১২ শিশু মারা গিয়েছে।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া, হামের উপসর্গজনিত রোগী সংখ্যা ৯৪১। এই সময়ে ৮৮৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গেছে ৮৬৫ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭ এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭১০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ রোগী। তাদের মধ্যে ৭৯ হাজার ১৫২ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২ বছরে সেতুর কাজ শেষ হয়নি, দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ পি.এম


২ বছরে সেতুর কাজ শেষ হয়নি, দুর্ভোগে ২০ গ্রামের মানুষ

এক সময় যে সেতু দিয়ে হাজারো মানুষ প্রতিদিন নির্বিঘ্নে চলাচল করতেন, বর্তমানে সেখানে রয়েছে ভেঙে পড়া কাঠামো এবং নড়বড়ে একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই সেতুতে পার হচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও ছোট যানবাহনের চালকরা।

দুই বছর আগে নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হলেও কাজের গতি এতই ধীর যে, মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনও নির্মাণকাজ অর্ধেকেই আটকে আছে। এর ফলে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে ভোগ করছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়, আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় নেহালপুর ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার ভায়া কুলটিয়া ইউপি সড়কের ‘বড় খাল’-এর ওপর ২০ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজটি পান সাতক্ষীরার পলাশপোলের ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদার।

২০২৪ সালের ১ মে কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো সেতুর বেশির ভাগ অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন সেতুর দুই পাশে পিলার নির্মাণ করা হলেও মূল কাঠামোর কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন সেতুর পাশে কাঠের গুঁড়ি ও তক্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সেতু।

সময়ের সঙ্গে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতু পার হচ্ছেন। আর ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেল ঠেলে কিংবা টেনে পার করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার জন্য কাঠের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে গেলে এই সড়কে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নেহালপুর-হাজিরহাট-কুলটিয়া সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন অন্তত ২০টি গ্রামের চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতায় সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে।

পদ্মনাথপুর গ্রামের ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, "দুই বছর ধরে একটু একটু করে কাজ হচ্ছে, কিন্তু শেষ হচ্ছে না। কাঠের সেতু দিয়ে ভ্যান পার করতে খুব কষ্ট হয়। এতে আয়ও কমে গেছে।"

ডাঙ্গা মহিষদিয়া গ্রামের শ্রমিক আলমগীর হোসেন বলেন, "শুকনো মৌসুমে কষ্ট করে চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলে এই পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। তখন দুর্ভোগের সীমা থাকে না।"

পাঁচকাটিয়া গ্রামের ভ্যানচালক অজিত বিশ্বাস জানান, "যাত্রী নামিয়ে ভ্যান টেনে সেতু পার করতে হয়। প্রতিদিনই এই কষ্ট করতে হচ্ছে। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হওয়া দরকার।"

হরিদাসকাটি গ্রামের কৃষক প্রণব বিশ্বাস বলেন, "এই সড়কটি আমাদের সময় ও দূরত্ব দুটোই বাঁচায়। কিন্তু সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় দুই বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কবে যে এর শেষ হবে, জানি না।"

মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, "ভবদহ এলাকার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বছরে প্রায় ছয় মাস কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে শাটারিং ও পুরোনো সেতুর অবশিষ্ট অংশ অপসারণের কাজ চলছে। এরপর স্লাব ঢালাই শুরু হবে। কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।"

ফয়সাল আহমেদ আরও বলেন, "মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সেতুটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ঠিকাদারকে এটি দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. ইকবাল জমাদার বলেন, "জলাবদ্ধতার কারণে পানি সেচে কাজ করতে হওয়ায় সময় বেশি লেগেছে। পুরোনো সেতু অপসারণের কাজ শেষ হলেই স্লাব ঢালাই শুরু হবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে মূল কাজ শেষ করার আশা করছি। পাশাপাশি দুই দিনের মধ্যে অস্থায়ী কাঠের সেতুটিও মেরামত করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%