বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১৮ পি.এম
বিশ্বজয়ী কোরআনে হাফেজদের সরকার সম্মানিত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মন্তব্য করেন, "বিশ্বজয়ী এই হাফেজে কোরআনদের সম্মানিত করলে দেশও সম্মানিত হবে।"৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
জামায়াত আমির বলেন, "ক্রীড়া সাংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরলে তাদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেই, সম্মানিত করি। কিন্তু কোরআনের হাফেজরা বারবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেরকম কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।"
বুধবার সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই দাবি জানিয়েছেন এবং তিনি বলেন, "যদি তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানিত করা হয়, তাহলে দেশ সম্মানিত হবে। আমি এই দাবিটি আবার জানালাম। আশা করি সরকার এটা করবে।"
তিনি আরও বলেন, "তাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়াই শুধু শেষ নয়, বরঞ্চ আরো যত ধরনের সম্মানিত করার সুযোগ আছে সেটাও যেন করা হয়, এটাও আমাদের দাবি।" তিনি বলেন, "আমরা বিরোধী দল হিসাবে বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই সুযোগটা আজকে পাওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।"
ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, "অচিরেই এযাবতকালে যত হাফেজে কোরআন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বিজয়ী হয়েছেন, তাদের জন্য একটা সংবর্ধনার ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।"
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি জানান, "এ বছর মক্কায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া চারজন প্রতিযোগীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন প্রথম এবং তিনজন বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।"
তিনি বলেন, "বিশ্বমঞ্চে তাদের এ সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "মক্কার বায়তুল হারামে বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা প্রদর্শিত হয়েছে।"
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "নৈতিক শিক্ষার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ধর্মীয় শিক্ষা। ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ভালো ও নৈতিক নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" তিনি বলেন, "কওমি শিক্ষাব্যবস্থা ও হিফজুল কোরআনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সরকারের যথাযথ সহযোগিতা থাকা উচিত। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার।"
জামায়াত আমির মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, "বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী মাদ্রাসার পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা গ্রহণ করছে।" তিনি বলেন, "এ সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।"
তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি নৈতিক শিক্ষার যত বেশি বিকাশ হবে রাষ্ট্রে তত বেশি ভালো নাগরিক তৈরি হবে।" তিনি বলেন, "আর একটা ভালো দেশ গড়তে হলে ভালো নাগরিক আমাদের লাগবে। কিন্তু আমাদের ইসলামী শিক্ষাটা অনেকটা উপেক্ষিত।"
জামায়াত আমির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের সহযোগিতাকারী বিদেশি শিক্ষককে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মানিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "হাফেজদের এ অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় গৌরব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে একটি গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ, ইনসাফের বাংলাদেশ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দৃষ্টান্ত।"
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং তা’মিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মেইন ক্যাম্পাসের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রা লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে একটি মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, "আমাদের কর্মসূচি কোন দল এবং গোষ্ঠীর জন্য নয়। আমাদের কর্মসূচি ন্যায় এবং ইনসাফের ভিত্তিতে যে সমাজটা আমরা চেয়েছিলাম চব্বিশের আগস্টের পরে সেই সমাজটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না বলেই আমাদের পেরেশানির জায়গা থেকে জনগণের পক্ষ হয়ে নৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য আমাদের এই কর্মসূচি।"
এ সময় বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "আমরা মক্কায় সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সম্মান পেয়েছি। কিন্তু এদেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা কোন সংবর্ধনা পাইনি। তবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা দেখিয়েছেন, এজন্য আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।"
জাকারিয়ার শিক্ষক মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, "আমরা রাষ্ট্রীয় কোন সহযোগিতা চাইনি, পাইওনি। তবে আগামীতে যত হাফেজ বিশ্বজয় করবে, তাদের যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান দেয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
‘১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ’ সম্পর্কে যে তথ্য জানাল পুলিশ
র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কামিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে ফেরত পাঠাতে বলা হয়।
বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।
বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’
সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দফতর থাকবে ঢাকায়।
এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি
বিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
“জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।”
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।
তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা
বিলের ১২ ধারায় এসআরবি-কে কোনও স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রয়োগ করতে হবে।
১৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন ইউনিটের কর্মকর্তা তা প্রয়োগ করতে পারবেন।’
তবে গ্রেফতার বা আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবি-এর কাছে আটকে রাখা যাবে না। বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
ফৌজদারি মামলার তদন্ত করতে পারবে
আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনও সময় এসআরবি মহাপরিচালককে কোনও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনও সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।
তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবি-এর হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথাও বিলে বলা হয়েছে।
সদস্যদের যেসব কাজ শৃঙ্খলা লঙ্ঘন
বিলের ১৭ ধারায় এসআরবি সদস্যদের বিভিন্ন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ করা, অনুমতি ছাড়া গার্ড, চৌকি বা পেট্রোল ত্যাগ করা, আটক বা গ্রেফতার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করা রয়েছে।
এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, অসুস্থতার ভান করা, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকাকেও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি ৭ দিনে প্রতিবেদন
কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আশঙ্কার যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে আটক করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে আটকাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।
কোনও সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। আর “আটককৃত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনও প্রমাণ না থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হইবে।”
শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর ও পদাবনতি
এসআরবি সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অব্যাহতি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক বছরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার বিধান রয়েছে।
লঘুদণ্ড হিসেবে অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা, তিরস্কার, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রেখে অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড বা অন্য দায়িত্ব এবং দৈনিক দুই ঘণ্টা করে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য শাস্তিমূলক ড্রিলের বিধান রাখা হয়েছে।
তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনও সদস্যকে এসব শাস্তি দেওয়া যাবে না।
শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল
বিভাগীয় কার্যধারায় দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এবং মহাপরিচালকের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর বেতন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যৌক্তিক। তবে নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর করার পরিবর্তে ধাপে ধাপে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বেতন সমন্বয় না হওয়ার কারণে সরকারি কর্মচারীদের আয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাই পে-স্কেল সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল। ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে একবারে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ বাজারে প্রবাহিত হবে না। এর ফলে পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও নেই।
মন্ত্রী জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেতন ছাড়াও বাজারে পণ্যের সরবরাহ, আমদানি পরিস্থিতি, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দামের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। ভোজ্যতেলের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, সয়াবিন তেল প্রায় পুরোপুরি আমদানি-নির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারের এফওবি মূল্যের সঙ্গে জাহাজভাড়া, খালাস, বিমা, রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য খরচ যোগ করে স্থানীয় দাম নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ওএমএস কার্যক্রম এবং আমদানির এলসি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে।
এদিকে, চামড়া শিল্পে সংস্কার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাভারে নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় ট্যানারিতে নিজস্ব ইটিপি এবং ছোট ট্যানারিকে কেন্দ্রীয় সিইটিপির আওতায় এনে শতভাগ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা হবে। এলডব্লিউজি সনদ অর্জন এবং উচ্চমূল্যের চামড়াজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানে নতুন করে হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ওয়াশিংটনের ভুল পদক্ষেপ অবিলম্বে সংশোধনের জন্য বেইজিং আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, চীনা কোম্পানি ও নাগরিকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করেছে তেহরানের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়াং লিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, চীন বারবার তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছে যে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনও নেই এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে।
মুখপাত্র উল্লেখ করেন, চীনের পক্ষ থেকে বারবার বিষয়টি তুলে ধরা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একাধিকবার চীনা কোম্পানি ও নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বেইজিং এ ধরনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ ও দৃঢ় বিরোধিতা প্রকাশ করেছে।
হুয়াং লিং আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক আদান-প্রদানে অন্যায্যভাবে হস্তক্ষেপ করে। একই সঙ্গে, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
হুয়াং আরও জানান, চীন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভুল কার্যক্রম অবিলম্বে সংশোধন এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। এছাড়া, নিজেদের কোম্পানি ও নাগরিকদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান।
সূত্র: সিনহুয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেছেন, “জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথ আরো প্রশস্ত হচ্ছে।”
এ মন্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরের পাইনার খালে রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকের উৎপাদন ধরে রাখা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ অপরিহার্য। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিকে আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষিতে গবেষণা এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল এবং বিদেশে খাদ্য রপ্তানিও সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারও খাল খনন শুরু হয়েছে। এতে দেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় হবে। এর জন্য কৃষক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রায় ১৫০ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়। এ কর্মসূচির আয়োজন করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি, তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জমিদার, সদস্যসচিব সামিউল্লাহ, ঢাকা জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক জুয়েল মোল্লা, ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ