০৪:৫৫ পি.এম
পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব খুলনা গড়ে তুলতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা। বক্তাদের অভিমত হলো, খুলনা কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি নগরী নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র। তাই আগামীর খুলনাকে স্মার্ট, গ্রিন ও টেকসই নগরে রূপ দেওয়ার জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের মতামত ও অংশীদারিত্বই প্রধান শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) আয়োজিত "আগামীর খুলনা বিনির্মাণে কেডিএ ও জনগণের ভাবনা" শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: পূর্বধলা ভূমি অফিসে গ্রিল কেটে চুরি, সিসিটিভিতে নেই ফুটেজ
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা পূর্ণতা পায় না। উন্মুক্ত আলোচনায় উঠে আসা প্রতিটি মতামত ও সুপারিশ কেডিএর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে খুলনার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। সেই ভাবনার ধারাবাহিকতায় জনগণের মতামতকে উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা জানান, আগামীর খুলনা হবে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পরিকল্পিত আবাসন, কার্যকর ড্রেনেজ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত সবুজায়নের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বাসযোগ্য নগরী। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খুলনার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। উন্মুক্ত আলোচনায় উঠে আসা যৌক্তিক প্রস্তাবগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং খুলনাবাসীর প্রত্যাশার বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।
আরও পড়ুন: পটুয়াখালী জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে জনতার উপস্থিতি, আলোচনায় কবির শিকদার
অনুষ্ঠানে কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম সংস্থাটির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে খুলনার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একটি প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, নাগরিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা খুলনার জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবার মানোন্নয়নসহ নানা বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
এ সময় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ কেডিএ চেয়ারম্যানের হাতে একটি লিখিত প্রস্তাবনা তুলে দেন। এতে খুলনার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে একাধিক সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনুর রশীদ খান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিন, খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি এবং খুলনা প্রেসক্লাবের মোস্তফা সরোয়ার।
আরও পড়ুন: জগন্নাথপুরে পানি সেচ ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫
সভায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন, যদি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে খুলনাকে ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম আধুনিক, বাসযোগ্য ও টেকসই নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন