ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাছ কাটার অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ


গাছ কাটার অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলালের বিরুদ্ধে সরকারি বিধিমালা ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ১৩টি মূল্যবান গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার), বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমোদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো অপসারণ করে ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, আগে থেকেই কেটে রাখা বড় বড় গাছ ট্রাক্টরে তোলা হচ্ছে। এই সময় ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মুসলিমপাড়ার নুরু মিয়ার ছেলে মফিজসহ কয়েকজন শ্রমিক গাছগুলো ট্রাক্টরে বোঝাই করছিলেন। গাছগুলোর কোথায় নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে শ্রমিক মফিজ জানান, প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলালের নির্দেশে গাছগুলো করাতকলে নেওয়া হচ্ছে। পরে মুসলিমপাড়ায় মফিজের বাড়ির সামনে বিদ্যালয়ের গাছগুলো স্তূপ করে রাখা অবস্থায় দেখা যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হাজী সঞ্জীব আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেছেন যে, এর আগেও প্রধান শিক্ষক একাধিক মূল্যবান গাছ কেটে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন এবং সেই কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করেছেন। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবহারে নিয়মনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে না এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলালের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেছেন, “প্রধান শিক্ষক বর্তমানে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন। এ বিষয়ে আমি কোন কিছু জানিনা ফোনে ফোনে শুনেছি তাঁর সঙ্গে এখনো আমার কথা হয়নি। বিষয়টি জেনে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।” ঘটনা সম্পর্কে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। এখন অবগত হয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অনিয়ম বা বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেলুচিস্তানে ভারতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের ঘোষণা পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৪ পি.এম


বেলুচিস্তানে ভারতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের ঘোষণা পাকিস্তান

পাকিস্তানের সরকার বেলুচিস্তানে ভারতের কথিত সম্পৃক্ততার প্রমাণ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের রাজনৈতিক ও জনবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ এ তথ্য সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা আইনশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসবাদের বিষয় নয়, বরং এটি আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে ভারতের চাপিয়ে দেওয়া একটি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’।

শুক্রবার জিও নিউজের নয়া পাকিস্তান অনুষ্ঠানে রানা সানাউল্লাহ মন্তব্য করেন যে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে ভারত বিরুদ্ধে সংগৃহীত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হবে। তার দাবি, পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাতে আফগানিস্তানকে পরিকল্পিতভাবে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে, শুক্রবার পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে যে বেলুচিস্তানে চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ আরও ১৭ জন ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। এর ফলে অভিযোগ অনুসারে অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে পৌঁছেছে।

মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে প্রাণঘাতী হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণে এই অভিযান শুরু হয়। এর আগে, আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পুলিশ চৌকিতে আক্রমণ চালালে সেখানকার পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রাথমিক সংঘর্ষে ১৫ জন হামলাকারী নিহত হলেও, নয়জন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুও ঘটে। পরে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে। নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রের দাবি, ৬ জুলাই থেকে সেখানে ওই অভিযান চালানো হচ্ছে। পরে সন্ত্রাসীরা বুঝতে পেরে আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী জানিয়েছেন, মাঙ্গি চেকপোস্টে হামলায় মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং অভিযানে ২৬ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে, খুজদারের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। পরবর্তী অভিযানে আরও আটজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হন। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ৫ জুলাই থেকে অপারেশন শাবান ও অন্যান্য গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে মোট ৯১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পৃথক হেলিকপ্টার অভিযানে পাঁচ থেকে ছয়জন নিহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক তিনটি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৪২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কোয়েটায় ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান-সংক্রান্ত প্রাদেশিক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আবারও বেলুচিস্তানে ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ’ নির্মূলে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজের অশুভ পরিকল্পনা আমাদের নস্যাৎ করতে হবে। পুরো জাতি সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের ‘পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী’ সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে রয়েছে এবং পাকিস্তানে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহৃত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে লুণ্ঠিত মালামালসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে লুণ্ঠিত মালামালসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে ৫৯৪ কার্টুন সয়াবিন তেল এবং ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যানসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং শ্রীনগর থানা পুলিশ আলাপচারিতা ও অভিযান চালিয়ে আঃ গণি মিয়া (২৮) এবং অভি রহমান (২৮) কে লুণ্ঠিত মালামালসহ আটক করতে সক্ষম হয়। ডাকাত দলের সদস্য আঃ গণি মিয়া ঢাকা জেলার সাভার থানার মৃত কুদরত আলীর পুত্র এবং অভি রহমান ঢাকার কদমতলী থানার রাজন ব্যাপারীর পুত্র বলে জানা গেছে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম জানান, গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর রাত সাড়ে ৪ টায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে শ্রীনগর থানার ওমপাড়া এলাকায় মাওয়াগামী সার্ভিস লেনে কাভার্ড ভ্যানসহ ৬৬৫ কার্টুন সয়াবিন তেল (১১৯৭০ লিটার) লুটের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের হলে গতকাল শুক্রবার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার কান্দাপাড়া এলাকা থেকে লুণ্ঠিত ৯ কার্টুন সয়াবিন তেল, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১ টি পিকআপ এবং লুণ্ঠিত কাভার্ডভ্যানসহ আঃ গণি মিয়া এবং অভি রহমানকে আটক করা হয়।

পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বগুড়া জেলার শেরপুর থানাধীন বেলঘড়িয়া বাজারস্থ জ্ঞানেন্দ্রনাথের গোডাউন থেকে লুণ্ঠিত ৫৮৫ কার্টুন সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, কাভার্ডভ্যান চালক মোঃ আফছার উদ্দিন ৬৬৫ কার্টুন সয়াবিন তেল (১১৯৭০ লিটার) নিয়ে মেঘনাঘাটের সোনারগাঁও সিড ক্রসিং থেকে মালামাল নিয়ে যশোর যাচ্ছিলেন। ডাকাতদল একটি পিকআপে কাভার্ড ভ্যানের পথরোধ করে চালককে পিকআপে তুলে আটকিয়ে মালামালসহ কাভার্ড ভ্যানটি লুট করে নিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গত ছয় মাসে ৩৬০ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ যাত্রী কল্যাণ সমিতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


গত ছয় মাসে ৩৬০ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ যাত্রী কল্যাণ সমিতির

 

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে, জানুয়ারি থেকে জুন সময়কালে, বাংলাদেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে এবং ১০৯ জন আহত হয়েছে। এ তথ্য বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী শনিবার (১১ জুলাই) মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠবে, তেমনি নির্মাণ হবে একটি সুশৃঙ্খল জাতি।

জানান, মিরসরাই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচির অভাব রয়েছে। এব্যাপারে তিনি দাবি করেন যে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী নিহত হচ্ছে এবং অনেকে আহত হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী পরিসংখ্যান অনুযায়ী বললেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় হাজির ৩৬০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারায় এবং ১০৯ জন আহত হয়।

তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ছাত্রবাহী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪৫ জন নিহত হয়। এটি দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই ঘটনার পরেও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কার্যকর এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।

এর ফলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরি হয়নি। প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটছে।

সংগঠনের তথ্যানুসারে জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থী নিহত হয় এবং ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন প্রাণ হারায় এবং ১১ জন আহত হয়। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং একজন আহত হন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় ৫৬ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন।

মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন প্রাণ হারায় এবং ২৩ জন আহত হন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হন।

দেশের শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পাঁচটি সুপারিশ জানিয়েছেন। সুপারিশগুলো হলো—

১. পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা অন্তর্ভুক্ত করা।

২. প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।

৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের সব গুরুত্বপূর্ণ পারাপারস্থল, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা।

৪. মহাসড়ক সংলগ্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে 'রোড সেফটি গার্ড' নিয়োগ দেওয়া এবং লাল পতাকা ব্যবহারের মাধ্যমে যানবাহন থামিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা।

৫. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত কার্যক্রমে জোর ডিএনসিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত কার্যক্রমে জোর ডিএনসিসির

রাজধানীর সড়কগুলোকে আরো নিরাপদ করার লক্ষ্যে অবকাঠামোগত নকশা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, সরকার ইতিবাচক অবস্থানে আছে সড়ক নিরাপত্তাসহ নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে।

সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে ডিএনসিসি ও বিআইজিআরএসের চলমান কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার কথা রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ডিএনসিসি মিলনায়তনে ‘অবকাঠামোগত নকশার মাধ্যমে গতি নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। ‘ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি’ (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (ডব্লিউআরআই) এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম খান আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে ঢাকা উত্তরের সড়কগুলোকে নিরাপদ করার কাজটি সম্পন্ন করা হবে।

এ জন্য প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং স্থপতিদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারি, বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। নিরাপদ সড়ক নকশা প্রণয়নের জন্য আন্তর্জাাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, ডিএমপির সহযোগিতায় দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো শনাক্ত করার কাজ চলছে, এবং নতুন নকশার মাধ্যমে সেগুলো নিরাপদ করার কার্যক্রম চলবে।

নিরাপদ সড়ক নকশা বিষয়ে প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের প্রশিক্ষণও প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিত সড়ক নকশা, রেইজড ক্রসিং, গতিরোধক, সিগন্যাল এবং জেব্রা ক্রসিংয়ের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও ব্যাপকভাবে কমে আসবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সমাধানভিত্তিক সাংবাদিকতা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ এবং চালক ও সড়ক ব্যবহারকারীদের গতিসীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যমে প্রচারাভিযান পরিচালনা করছে ডিএনসিসি। এসব কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিআইজিআরএস বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, বিশ্বের ২৭টির বেশি ঘনবসতিপূর্ণ শহরে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পারাপার, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক নকশায় অবদান রাখায় ডিএনসিসির চার কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার সরকার এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা, মো. বাবর আহমেদ এবং মো. মহিনুর ইসলামকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। একই সময়ে ডিএনসিসি প্রশাসকের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে নিরাপদ সড়ক নকশা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, গতি নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামোগত নকশা এবং মেট্রোরেলের সঙ্গে সড়ক পরিবহনের সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ডব্লিউআরআইয়ের পরামর্শক ফারজানা ইসলাম তমা, সহযোগী পরামর্শক আরিনা তাহনীম, আরবান রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড নলেজ ম্যানেজমেন্ট ম্যানেজার রেত্নো হুইনানেস্টা এবং ডিএমটিসিএলের উপ-প্রকল্প পরিচালক সোহেল রানা বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%