০৫:১৪ পি.এম
পাকিস্তানের সরকার বেলুচিস্তানে ভারতের কথিত সম্পৃক্ততার প্রমাণ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের রাজনৈতিক ও জনবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ এ তথ্য সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা আইনশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসবাদের বিষয় নয়, বরং এটি আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে ভারতের চাপিয়ে দেওয়া একটি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’।
শুক্রবার জিও নিউজের নয়া পাকিস্তান অনুষ্ঠানে রানা সানাউল্লাহ মন্তব্য করেন যে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে ভারত বিরুদ্ধে সংগৃহীত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হবে। তার দাবি, পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাতে আফগানিস্তানকে পরিকল্পিতভাবে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে যে বেলুচিস্তানে চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ আরও ১৭ জন ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। এর ফলে অভিযোগ অনুসারে অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে প্রাণঘাতী হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণে এই অভিযান শুরু হয়। এর আগে, আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পুলিশ চৌকিতে আক্রমণ চালালে সেখানকার পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রাথমিক সংঘর্ষে ১৫ জন হামলাকারী নিহত হলেও, নয়জন পুলিশ সদস্যের মৃত্যুও ঘটে। পরে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে। নিরাপত্তা বাহিনী সুত্রের দাবি, ৬ জুলাই থেকে সেখানে ওই অভিযান চালানো হচ্ছে। পরে সন্ত্রাসীরা বুঝতে পেরে আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী জানিয়েছেন, মাঙ্গি চেকপোস্টে হামলায় মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং অভিযানে ২৬ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়। অন্যদিকে, খুজদারের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। পরবর্তী অভিযানে আরও আটজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হন। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ৫ জুলাই থেকে অপারেশন শাবান ও অন্যান্য গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে মোট ৯১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পৃথক হেলিকপ্টার অভিযানে পাঁচ থেকে ছয়জন নিহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক তিনটি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৪২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কোয়েটায় ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান-সংক্রান্ত প্রাদেশিক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আবারও বেলুচিস্তানে ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ’ নির্মূলে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজের অশুভ পরিকল্পনা আমাদের নস্যাৎ করতে হবে। পুরো জাতি সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের ‘পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী’ সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে রয়েছে এবং পাকিস্তানে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন