বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৪৬ পি.এম
দেশব্যাপী ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৯০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবং দুর্গম ও গ্যাপ এরিয়া চিহ্নিত করে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এ পরিকল্পনার কথা জানান। বর্তমানে সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক, দ্রুত সেবামূলক প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরো ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে এবং বর্তমানে তা একজন প্রকল্প পরিচালকের অধীনে বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের স্থানগুলো হচ্ছে ঢাকা, গাজীপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, নওগাঁ, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জামালপুর।
১২টি নতুন নির্মীয়মাণ ফায়ার স্টেশন হচ্ছে নবাবগঞ্জ-ঢাকা (বি শ্রেণি), পুবাইল-গাজীপুর (বি শ্রেণি), শিমুলতলী-গাজীপুর (বিশেষ শ্রেণি), ব্রাহ্মণপাড়া-কুমিল্লা (বি শ্রেণি), দেবীদ্বার-কুমিল্লা(বি শ্রেণি), নাঙ্গলকোট-কুমিল্লা (বি শ্রেণি), শিবপুর-নোয়াখালী (বি শ্রেণি), দাগনভূঞা-ফেনী (বি শ্রেণি), নারিকেলবাড়িয়া-যশোর (বি শ্রেণি), দৌলতপুর-কুষ্টিয়া (বি শ্রেণি), আজমেরীগঞ্জ-হবিগঞ্জ (স্থল-কাম নদী শ্রেণি) ও পিয়ারপুর-জামালপুর (বি শ্রেণি)।
এছাড়া ৮টি পুনর্নির্মাণ ফায়ার স্টেশন হলো মাদারীপুর সদর-মাদারীপুর (এ শ্রেণি), কুমিল্লা সদর-কুমিল্লা (এ শ্রেণি), মাইজদী-নোয়াখালী (এ শ্রেণি), চৌমুহনী-নোয়াখালী (এ শ্রেণি), নওগাঁ সদর-নওগাঁ (এ শ্রেণি), ঈশ্বরদী-পাবনা (এ শ্রেণি), সিলেট সদর-সিলেট (এ শ্রেণি) এবং ময়মনসিংহ সদর-ময়মনসিংহ (এ শ্রেণি)।
ফায়ার সার্ভিসের ডিজি বলেন, মিরপুর ও সদরঘাটে দুটি বহুতল আবাসিক ভবনের নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া সেবা সম্প্রসারণের জন্য ১০০টি ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অ্যাম্বুল্যান্স সংগ্রহের কাজ চলছে।
এছাড়াও মিরপুর ১০-এ আধুনিক ও ভূমিকম্প সহনশীল সদরদপ্তর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিষ্ঠান অগ্নিকাণ্ডসহ সব দুর্ঘটনায় প্রথম সাড়াদানকারী।
দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাড়া দেওয়ার জন্য জনবল ও সরঞ্জাম বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের বহরে রয়েছে বিশ্বের সর্বাধিক উচ্চতা সম্পন্ন টার্ন টেবল লেডার এবং রিমোট কন্ট্রোল ফায়ারফাইটিং ভেহিক্যাল।
ফায়ারফাইটিং ড্রোন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য হাইড্রোলিক স্প্রেডার, ভাইব্রেটর, সার্চ ভিশন ক্যামেরা ইত্যাদিও রয়েছে।
জাহেদ কামাল বলেন, বহুতল ভবনে নিজস্ব স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা জরুরি। উচ্চ ভবনে আগুন নেভানোর জন্য টার্ন টেবল লেডার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ৬৮ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন।
জরুরি কল গ্রহণ ও ডিসপ্যাচ ব্যবস্থা আধুনিক করা হয়েছে। আমাদের ইমার্জেন্সি রেসপন্স কন্ট্রোল সেন্টার (ইআরসিসি) নামে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের জন্য একটি হটলাইন নম্বর ১০২ চালু করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়েও সেবা গ্রহণ করা যায়।
ফায়ার ফাইটারদের প্রশিক্ষণে আধুনিক পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের কাজ জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
দেশে নগরায়নের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত সাড়াদান সক্ষম বাহিনীতে রূপান্তরের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনা, ভবন ধস, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সংগঠন প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। এ কারণে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
অবশ্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া ও প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী এবং ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫১ ধারায় দুই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে। গত ২৯ ও ৩০ জুলাই (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) রাতে আলাদা অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সহকারী পুলিশ সুপার (মীরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরীর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় এবং জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ২৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে এসআই (নিঃ) মামুন হাসানের নেতৃত্বে একটি দল ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের জোরা কবরস্থান এলাকায় সালাহ উদ্দিনের দোকানের সামনে থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ইছাখালী ইউনিয়নের ছুন্নিমিঝির টেক গ্রামের মোঃ আলীর ছেলে মোঃ ইমাম হোসেন (২৫), সাহেবদীনগর গ্রামের মৃত আমিনুল হকের ছেলে নুর নবী (৫০) এবং কাটাছড়া ইউনিয়নের পূর্ব বাড়ীয়াখালী গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ মান্নান (২৫)।
অন্যদিকে, ৩০ জুলাই রাত দেড়টার দিকে বারইয়ারহাট বাজার এলাকায় নাইট ডিউটিকালে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫১ ধারায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেন পিএসআই (নিঃ) মোঃ কামরুল হাসান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানার বালিয়াদ্দি গ্রামের মৃত ওহাব মিয়ার ছেলে মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩৭) এবং খুলনার দিঘলিয়া থানার চান্দি মহল গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন সরকারের ছেলে সঞ্জয় সরকার (৩২)। উভয়েই বর্তমানে বারইয়ারহাট পৌরসভা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক নির্মূলে থানা পুলিশের এই বিশে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা (বিভাগীয় মামলা সেল) আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোকে কেন্দ্র করে সংস্থার ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আহসান হাবিব প্রায় ১৫ বছর ধরে একই পদে ও একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ে বিভাগীয় মামলা পরিচালনার দায়িত্বকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি, বদলি বা সাময়িক বরখাস্তের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরি প্রদান, বদলি, ঘাটের টেন্ডার ও ইজারা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করে তিনি এবং তৎকালীন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কুমিল্লা ও ঢাকায় একাধিক স্থাবর সম্পদ, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাছের ঘের, গরুর খামার এবং ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ তাঁর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে, আহসান হাবিব এর সাথে যোগাযোগ করেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দাবি, দীর্ঘ সময় একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীরা বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : দেশের সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করতে জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সাথে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও ব্র্যাকের ‘সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা’ (সেল্প) কর্মসূচি。
বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো পেশাদার মধ্যস্থতাকারী (প্রফেশনাল মেডিয়েটর) তৈরির সুযোগ তৈরি এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ধারাবাহিকতায় এই সমঝোতা স্মারক দুটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রথম সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর (ডিবিএলএ) এবং ব্লাস্ট যৌথভাবে ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে ৩ জন কোর্ট প্যারালিগ্যাল নিয়োগ ও পরিচালনা করবে। ব্লাস্টের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত এই প্যারালিগ্যালরা শ্রম আইন সহায়তা সেলে আগত শ্রমিকদের শুধু প্রয়োজনীয় আইনি তথ্য সরবরাহ করবেন। তবে তারা ‘ডু নো হার্ম’ (কারো ক্ষতি না করা) নীতি অনুসরণ করবেন এবং সরাসরি কোনো আইনি পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন না।
পাশাপাশি, ब्लাস্ট পরিচালিত আপসযোগ্য বিরোধের মধ্যস্থতা সফল হলে ডিবিএলএ তাকে সরকারি আইনি স্বীকৃতি দেবে এবং মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে আদালতে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য ব্যর্থতার প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে।
অন্য চুক্তিটির অধীনে ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের জন্য ৬টি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। সফল অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করবে ডিবিএলএ। ব্র্যাকের সনদী মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক মীমাংসিত বিরোধের নথি সংশ্লিষ্ট চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (সিএলএও) দ্বারা সত্যতা যাচাই শেষে আইনি বৈধতা পাবে। তাছাড়া বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে বা মধ্যস্থতা অমীমাংসিত থাকলে আদালতে মামলা করার সুযোগ রেখে প্রতিবেদন জারি করবে লিগ্যাল এইড অফিস।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি লিগ্যাল এইড ব্যবস্থার সাথে শীর্ষস্থানীয় এনজিওগুলোর এই প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় দেশের বিচারপ্রার্থী প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠী ও শ্রমিক সমাজের কাছে দ্রুত ও আইনি সেবা পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের মতো অভিজ্ঞ এনজিওগুলোর দক্ষতা ও প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে সরকার কাজে লাগাতে চায়। পাশাপাশি জাপান (জাইকা), জার্মানি (জিআইজেড) ও ইউএনডিপির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাও এডিআর জোরদারে সহযোগিতা করছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস, অতিরিক্ত সচিব এস. এম. এরশাদুল আলম, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং ব্র্যাকের সেল্প কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বত বিপ্লবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিতভাবে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা লোকসান করতে বাধ্য হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি ৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল।
ফলের পরিণতিতে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
টিবিএস এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়কালে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ৮ টাকা ১০ পয়সা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেই লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকায়।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে একক হিসাবেও ব্যাংকটির ছয় মাসের লোকসান ১ হাজার ৩২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা হয়েছে। এই সময়ে একক শেয়ারপ্রতি লোকসান ৮ টাকা ২৪ পয়সা হয়েছে।
বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরই ইসলামী ব্যাংক মুনাফায় ছিল। এই সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালে ১৩৬ কোটি ৩৪ লাখ, ২০২৪ সালে ১০৮ কোটি ৭৮ লাখ এবং ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৬৩৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছে ব্যাংকটি।
ব্যাংকটির ভাষ্যে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধের ব্যয়ের বৃদ্ধি, খেলাপি বিনিয়োগ বাড়ার কারণে বিনিয়োগ আয় কমে যাওয়া এবং অন্যান্য ব্যাংকে রাখা অর্থ থেকে আয় হ্রাস পাওয়ার কারণে এ লোকসান হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এস আলম গ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ ঋণ আটকে থাকায় সেখান থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। কিন্তু আমানতকারীদের মুনাফা নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা, তবে এর মধ্যে মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে নিয়মিত অর্থ আদায় হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠন বা বিশেষ ব্যবস্থায় অনাদায়ী ঋণের একটি অংশ ব্যালান্স শিটের বাইরে রাখার সুযোগ দেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, গত দুই দিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার নতুন আমানত এসেছে এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীতে বিপুল বিনিয়োগ আটকে থাকার কারণে সেখান থেকে কোনো আয় আসছে না। অন্যদিকে আমানতকারীদের মুনাফা পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এই কারণেই ব্যাংকটি লোকসানে পড়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ