বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:৫৯ পি.এম
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিতভাবে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা লোকসান করতে বাধ্য হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটি ৬৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল।
ফলের পরিণতিতে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
টিবিএস এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়কালে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) ৮ টাকা ১০ পয়সা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্যাংকটি ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেই লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকায়।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে একক হিসাবেও ব্যাংকটির ছয় মাসের লোকসান ১ হাজার ৩২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা হয়েছে। এই সময়ে একক শেয়ারপ্রতি লোকসান ৮ টাকা ২৪ পয়সা হয়েছে।
বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরই ইসলামী ব্যাংক মুনাফায় ছিল। এই সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালে ১৩৬ কোটি ৩৪ লাখ, ২০২৪ সালে ১০৮ কোটি ৭৮ লাখ এবং ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৬৩৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছে ব্যাংকটি।
ব্যাংকটির ভাষ্যে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধের ব্যয়ের বৃদ্ধি, খেলাপি বিনিয়োগ বাড়ার কারণে বিনিয়োগ আয় কমে যাওয়া এবং অন্যান্য ব্যাংকে রাখা অর্থ থেকে আয় হ্রাস পাওয়ার কারণে এ লোকসান হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এস আলম গ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ ঋণ আটকে থাকায় সেখান থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। কিন্তু আমানতকারীদের মুনাফা নিয়মিত পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা, তবে এর মধ্যে মাত্র ৬০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে নিয়মিত অর্থ আদায় হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠন বা বিশেষ ব্যবস্থায় অনাদায়ী ঋণের একটি অংশ ব্যালান্স শিটের বাইরে রাখার সুযোগ দেওয়া হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, গত দুই দিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার নতুন আমানত এসেছে এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীতে বিপুল বিনিয়োগ আটকে থাকার কারণে সেখান থেকে কোনো আয় আসছে না। অন্যদিকে আমানতকারীদের মুনাফা পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। এই কারণেই ব্যাংকটি লোকসানে পড়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার মনোহরদী উপজেলায় একটি বাল্য বিবাহের আয়োজন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পণ্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে খিদিরপুর ইউনিয়নের পীরপুর এলাকায় বাল্য বিবাহের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছিল।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেহানা আক্তার এবং মনোহরদী থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একটি বাল্য বিবাহ বন্ধ করে দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সূত্র অনুসারে, যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় কনের জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী তার বয়স ১৪ বছর ৩ মাস ৭ দিন। মেয়েটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। এ কারণে বিয়ের আয়োজনটি বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়।
এই ঘটনায় বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একইসঙ্গে ছেলে এবং মেয়ের অভিভাবকদের কাছে মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পুনরায় বিয়ের চেষ্টা করতে নিষেধ করে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মনোহরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ জুলাই, ২০২৬ : ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের একটি হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই বছর বয়সী একটি শিশু। এই হামলায় আরও দুই শিশুর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে 'ভারী মাত্রার' হামলা শেষ করার ঘোষণা দেওয়ার পর, বৃহস্পতিবার ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স এই তথ্য জানিয়েছে। হোরমোজগান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘কেশমের চাহ তাঙ্গু এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। এই নিহতদের মধ্যে আছেন বাবা, মা এবং তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান।’ তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও লক্ষ্য করা গেছে, হামলায় পরিবারের অন্যান্য দুই শিশু আহত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মান গাড়ি নির্মাতা জায়ান্ট বিএমডব্লিউ তাদের বৈশ্বিক জনবলের প্রায় ৫ শতাংশ, যা অন্তত ৮ হাজার কর্মী, ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ। ইউরোপে উচ্চ উৎপাদন খরচ এবং চীনে গাড়ি বিক্রির আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের দিকে প্রতিষ্ঠানটি হাঁটছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই ছাঁটাইয়ের মূল ধাক্কা জার্মানির কর্মীদেরই সামলাতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএমডব্লিউ মূলত গবেষণা, উন্নয়ন, পরিকল্পনা ও অন্যান্য কর্পোরেট বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিশেষ বিদায়কালীন প্যাকেজের প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে সাধারণ শ্রমিকদের জন্য এই প্রস্তাব সংরক্ষিত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সিইও মিলান নেদেলকোভিচ এ সপ্তাহে কর্মীদের সঙ্গে একটি সভায় এই স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনাটি আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
জার্মানির অটোমোবাইল শিল্পে মন্দার প্রভাব কিছুদিন ধরেই দৃশ্যমান। বিএমডব্লিউর এই ঘোষণার মাত্র একদিন আগে অপর বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পোরশে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফোক্সভাগেন প্রায় ১ লাখ কর্মী ছাঁটাই করার বিষয়টি ভাবনা করছে দীর্ঘস্থায়ী মন্দাকে সামলাতে। জার্মানির প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ জার্মান ইন্ডাস্ট্রিজ’ সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের শিল্প খাতে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চাকরি হারাচ্ছেন, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সংকটজনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় শূন্য প্রবৃদ্ধির সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির জন্য আসলে চরম জ্বালানি সংকটকেই দায়ী করেছেন। রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের পর বার্লিন রুশ তেল ও গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আগের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় র্যাবের একটি অভিযানে অনলাইন জুয়ার (বেটিং) আসর থেকে আট জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অভিযানের পর বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় তাদের আটক করা হয়। এ অভিযানে ৭টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ৬০ হাজার ৭১০ টাকা জব্দ করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে আছেন, জেলা শহরের পূর্ব পাইকপাড়ার মৃত জগদীস দেবনাথের ছেলে সুজন দেবনাথ (৪৮), কান্দিপাড়ার শাহজাহান ভূইয়ার ছেলে সালমান ভূঁইয়া (২৫), একই এলাকার মৃত মনির হোসেনের ছেলে মো. আকরাম হোসেন (৩৯) এবং মৃত আফরোজ মিয়ার ছেলে মো. কায়েস মিয়া (৪২)। এছাড়া গোকর্ণঘাটের মদন কর্মকারের ছেলে ঝন্টু কর্মকার (৩৪), কাজীপাড়ার মৃত ইদন মিয়ার ছেলে মো. আলামিন (৪৫), জেলার নাসিরনগর উপজেলার নরহা গ্রামের আলমগীর চৌধুরীর ছেলে শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (৩৮) এবং কসবা উপজেলার শ্যামবাড়ির মৃত খায়রুল বাসারের ছেলে মো. জহর (২৫) রয়েছেন।
এ বিষয়ে র্যাব-৯ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরনবী জানান, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বেটিং সাইটের মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা করে আসছিলেন। হাতেনাতে আটক হওয়া এই আট জনের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অনলাইন জুয়া নির্মূলে র্যাবের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এই র্যাব কর্মকর্তা। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ