ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে উদ্যোগী: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী


সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে উদ্যোগী: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে কার্যকর অংশীদারির ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের উদ্যোগ একার নয়, বরং সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘জিও-এনজিও কোলাবোরেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘শিক্ষা সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ক্ষেত্রগুলোকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত।’

আরও পড়ুন: ইনানীর রিসোর্টে আগুন: নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল কাজে লাগাতে চায় সরকার।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী ঢামেকে ভর্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চুরির ঘটনা বেড়ে আতঙ্কে রোগী-স্বজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চুরির ঘটনা বেড়ে আতঙ্কে রোগী-স্বজন

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চুরির ঘটনাগুলি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, তারা ওয়ার্ড, কেবিন, লিফট এবং বারান্দা থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হারাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত সাতটি চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে তথ্য পাওয়া গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বাসিন্দা মাসুদ রানা ১৮ জুন অসুস্থ বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। কেবিনের বাইরে কিছু সময়ের জন্য যাওয়ার কারণে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার কথা বলে কেবিনে প্রবেশ করে তার মানিব্যাগ এবং নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মাসুদ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় জিডি করার পরেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। একই দিনে আরও দুজন চুরির শিকার হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। হাসপাতালের সূত্র জানাচ্ছে, দিনে গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে প্রবেশ করে চুরি ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুরির শিকার হওয়া রোগীর স্বজন ফয়সাল জানান, মেডিসিন বিভাগে যাওয়ার সময় যখন তিনি লিফটে ওঠেন, তখন নিচে নেমে এসে দেখতে পান তার মানিব্যাগ নেই। অন্য এক ভুক্তভোগী আমেনা বেগম জানান, রোগীকে দেখতে আসার সময়ে তার হাতে থাকা ব্যাগ এক যুবক ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর ফলে হাসপাতালে সবসময় আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে জানান, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলস্বরূপ চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

এই বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, চুরি প্রতিরোধের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ৫২টি সিসিটিভি ক্যামেরা চলমান আছে। তিনি আরও জানান, আগামী মাসের শুরু থেকে ৩০ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি রোগী ও স্বজনদের মূল্যবান জিনিসপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন।

হাসপাতালে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় রোগী ও স্বজনরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং চোরচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার মা ও নবজাতক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার মা ও নবজাতক

ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি সংঘটিত ভূমিকম্পে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৩ হাজার ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

এছাড়াও, ধসে পড়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৮ দিন বয়সী নবজাতক সন্তানের সঙ্গে অলৌকিকভাবে উদ্ধার হয়েছেন এক মা। তিনি কিভাবে এই ছোট শিশুকে জীবনযুদ্ধে স্থিতিশীল থাকার শক্তি দিয়েছে, সেটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন।

দায়ানা পাতিনো নামের ঐ নারী বলেন, তার ছেলে হুয়ান ডেভিড তাকে অন্ধকার গর্তে বেঁচে থাকার এবং সচেতন থাকার জন্য অশেষ শক্তি যুগিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হুয়ান বেঁচে ছিল, ততক্ষণ আমি আমার বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করেছি। তখনও সে শ্বাস নিচ্ছিল, তা নিশ্চিত হতে আমি বারবার ওর ছোট নাকে হাত দিয়ে পরীক্ষা করতাম।

মা ও শিশুর এই অলৌকিক উদ্ধারের ভিডিওটি এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান তৈরি করেছে। গত বুধবারের পর পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের ফলে অন্তত দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানির পর, শিশুটি এখন নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের “সবচেয়ে নির্মম প্রাকৃতিক বিপর্যয়” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে দেশটিতে আরও ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্য কোনো জীবিত মানুষ বের করার আশা ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে।

রোববার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি ক্লিনিকের চিকিৎসাধীন দায়ানা বিবিসির সঙ্গে মাটির নিচে কাটানো সেই ভীতিকর সময়ের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি তাঁর সন্তানের সঙ্গে উদ্ধার পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছিলেন।

দেশের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলের লা গুয়াইরায় নিজেদের আট তলার অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরে থালাবাসন ধোয়ার সময় ভূমিকম্প আঘাত হানে। তিনি এটিকে “সামান্য মৃদু কম্পন” ভেবে অসাবধানতায় ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরতে বেরিয়ে যান।

তিনি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, হঠাৎ তার মনে হলো তিনি বাতাসে ভাসছেন। এরপরই তিনি উপলব্ধি করলেন যে তিনি পানি আর কাদামাটির নিচে তলিয়ে যাচ্ছেন এবং গভীর অন্ধকারের মধ্যে আছড়ে পড়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে বাতাসে উড়ার পরেও তিনি তার সন্তানকে হারাননি, সেটি আজও তার কাছে মিরাকল। ধসে পড়া আসবাবপত্রের নিচে তিনি পুরোপুরি চাপা পড়ে গিয়েছিলেন।

দায়ানা বলেন, গর্তে পড়ার সাথে সাথে তিনি চিৎকার শুরু করেন। কিন্তু বুঝতে পারেন, তাঁর দুঃখের আহ্বানের উত্তর দেওয়ার মতো সেখানে কেউ নেই।

তিনি ঘোষণা করেন, আমি বুঝতে পারলাম অযথা চিৎকার করে আমি আমার শক্তি নষ্ট করবো না—যখন প্রয়োজন হবে, তখন আমি চিৎকার করবো, যখন আমি কাছে মানুষের কণ্ঠস্বর বা পায়ের আওয়াজ শুনতে পাব।

“আমি জানি না কিভাবে আমি এতটা শান্ত থাকতে পেরেছি। কারণ আমার বাম পা তখন কংক্রিটের নিচে চাপা পড়েছিল। আমি একটুও নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। এবং আমার কপালটি একটি শক্ত পাথরের সঙ্গে চাপা ছিল।”

দায়ানা বিশ্বাস করেন, পিঠের নিচে যখন তিনি একটি বাইবেল অনুভব করেন, তখন যেন নতুন লক্ষ্যে বেঁচে থাকার উপলব্ধি পেলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেখান থেকেই মূলত তার বেঁচে থাকার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

ধ্বংসস্তূপের অন্ধকারের মধ্যেও তিনি উপরে দিকে একটি চাঁদের মতো ছোট আলোর বিন্দু দেখতে পান। দায়ানা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার ভাইয়ের কণ্ঠে নিজের নাম শুনে তিনি অনুভব করেন, সহায়তার হাত এসে পৌঁছেছে।

“আমি নিজেকে বললাম, এটাই আমার শেষ সুযোগ। আমি আমার ফুসফুসের সব শক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠলাম। আমি সর্বদা চিৎকার করে বললাম ‘আমি এখানে’। এবং ও উপর থেকে বলেছিল, আমি তোমাকে খুঁজে পেয়েছি, এবং কথা দিচ্ছি যে আমি তোমাকে বের না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়বো না।”

তার ভাই সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে সংবেদনশীল এবং জটিল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে মা ও শিশুকে নিরাপদ অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা হয়।

ভূমিকম্পের ফলে দায়ানার দুই পায়ে বড় আঘাত হয়েছিল। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা যায়, শিশু হুয়ান বিশেষ কোনো আঘাত পায়নি।

দায়ানার স্বামী গার্সন ভূমিকম্প আঘাত হানার মুহূর্তে বাড়ি ফিরে গাড়ি পার্ক করার কাজে ছিলেন। তিনি সীমানা প্রাচীর টপকে কোনোমতে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হন।

কিন্তু সামনে তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি ধূলিসাৎ হতে দেখে তিনি সবচেয়ে খারাপ কিছুর আশঙ্কা করেছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানের ফিরে আসার সেই মুহূর্তকে “অলৌকিক ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন গার্সন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উদ্ধার কল্পনার ভিডিও দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে আবেগময়ভাবে কাঁধের মধ্যে ছেলে হরির ওপর হাত রেখে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে গার্সন; যেন সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।

স্মৃতিচারণ করতে গার্সন বিবিসিকে জানান, এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি ধরে নিয়েছিলাম তারা আর নেই। কিন্তু যখন আমি আমার ছেলেকে অক্ষত দেখলাম, তখন মনে হলো আমি নিজেই নতুন জীবন পেয়েছি। আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল আমার মৃত শরীর পুনর্জীবিত হয়েছে।

ভূমিকম্পের ফলে গার্সন ও দায়ানার সাজানো সংসার এবং সবকিছু ধূলির সাথে মেশে গেছে। তাঁদের প্রিয় পোষা কুকুরটি এখনও নিখোঁজ হওয়ায় তারা গভীরভাবে শোকাহত। তবে এই দম্পতি জানিয়েছেন যে, তারা এখন সম্পূর্ণ নতুন করে জীবন শুরু করবেন।

“আমরা আমাদের সবকিছু হারিয়েছি, তবে আমরা বেঁচে আছি, এটি সবচেয়ে বড় কথা, আমরা আমাদের হারানো সবকিছু আবার নতুন করে গড়ে তুলবো,” দৃঢ়তার সাথে বলেন গার্সন।

সূত্র: বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সি-ট্রাক বন্ধের ছয় মাস, ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রায় বাধ্য মনপুরাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২৯ পি.এম


সি-ট্রাক বন্ধের ছয় মাস, ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রায় বাধ্য মনপুরাবাসী

সাগরকূলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় যাতায়াতের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মাধ্যম বিআইডব্লিউটিসি-এর সি-ট্রাকটি দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে, প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শত শত যাত্রী যাদের জন্য এই একমাত্র মাধ্যম ছিল। প্রমত্তা মেঘনার ‘ডেঞ্জার জোনে’ সি-সার্ভে (সমুদ্র চলাচল উপযোগী সনদ) ব্যতীত যেকোনো সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হলেও, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ মালবাহী ট্রলারে চড়ে প্রতিদিন উত্তাল নদী পাড়ি দিচ্ছেন দ্বীপের বাসিন্দারা।

অভিযোগ উঠেছে যে এই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন বা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কোনো ধরনের তদারকি নেই। ফলে, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার আগেই জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ নৌযান বন্ধ করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

শনিবার (২৭ জুন) সরেজমিনে তজুমদ্দিন ঘাটে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়ানক চিত্র। মনপুরা থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে তজুমদ্দিন ঘাটে এসে পৌঁছায় একটি পণ্য পরিবহনের কাঠের ট্রলার। তবে ট্রলারটির কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট বা যাত্রী পরিবহনের বৈধ অনুমতি নেই। ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ট্রলারের খোন্দলের (ভেতরের অংশ) ভেতরেই গাদাগাদি করে বসে আছেন নারী ও শিশুরা।

এরপর বিকেল ৩টায় ফিরতি ট্রলারে আবারো তোলা হয় শতাধিক যাত্রী। যেখানে বসার জন্য কোনো সুব্যবস্থা নেই এবং লাইফ জ্যাকেটের মতো ন্যূনতম নিরাপত্তা সরঞ্জামও নেই। একই খোন্দলে মানুষের সঙ্গে গাদাগাদি করে নেওয়া হচ্ছে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ভারী মালামাল। প্রচণ্ড গরম ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে জীবন হাতে নিয়ে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন এই মানুষগুলো।

ভুক্তভোগী যাত্রী মনপুরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আমিমুল এহসান জসিম তার স্ত্রীকে নিয়ে ট্রলারে বসার জায়গা না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ পন্টুনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সময় সংবাদকে বলেন, 'এই ট্রলারে যাত্রা করা চরম এক ভোগান্তি আর মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার নাম। বাধ্য হয়ে মনপুরার মানুষ গত ৬ মাস ধরে এভাবে যাতায়াত করছেন। একাধিকবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে সি-ট্রাকটি বন্ধ রাখা হয়েছে। মনপুরার মানুষের স্থায়ী স্বস্তির জন্য এই রুটে একটি নতুন ও আধুনিক সি-ট্রাক বরাদ্দ দেওয়া হোক।'

স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মনপুরা যাওয়ার জন্য ঘাটে আসা হাজিরহাট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তপন চন্দ্র হাওলাদার ট্রলারের দুরাবস্থা ও নদীর উত্তাল ঢেউ দেখে ভয়ে ট্রলারে উঠতেই সাহস পাননি। তিনি বলেন, 'মনপুরার প্রতিটি মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।'

উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা আলী আকবর বলেন, 'মাঝনদীতে হঠাৎ ঝড়-বাদল শুরু হলে নারী ও শিশুদের কান্নার রোলে ট্রলারের ভেতর এক নারকীয় পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ আইন ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে।'

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, তজুমদ্দিন-মনপুরা রুটে নিরাপদ পারাপারের জন্য বিআইডব্লিউটিসির ‘এসটি ইলিশা’ নামের একটি সি-ট্রাক বরাদ্দ ছিল, যা গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে অচল হয়ে পড়েছে।

তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ মাস মেঘনা নদীর ১১০ কিলোমিটার এলাকাকে ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে সি-সার্ভে সনদ ছাড়া কোনো নৌযানে যাত্রী পরিবহন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু মনপুরা-তজুমদ্দিনসহ ভোলার ১০টি রুটে এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উপেক্ষা করে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে বিআইডব্লিউটিসির উপ-বাণিজ্য ব্যবস্থাপক (যাত্রী) খন্দকার মুহাম্মদ তানভী হোসেন সময় সংবাদকে জানান, 'মূলত যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ইজারা সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সি-ট্রাকটি বন্ধ ছিল। তবে আমরা সব জটিলতা কাটিয়ে উঠেছি। শিগগিরই এই রুটে পুনরায় সি-ট্রাক চালু করা হবে।'

এদিকে সম্প্রতি ভোলা সফরকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্বীপ অঞ্চলের নাগরিকদের যাতায়াত সুগম করতে সরকারি বা বেসরকারি খাত—যেখান থেকে সম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানসম্মত জাহাজ দেওয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক ও পাবলিক পরীক্ষা সংশোধনী বিলের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


মাদক ও পাবলিক পরীক্ষা সংশোধনী বিলের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের মুলতবি সভায় অনুষ্ঠিত হয়।

আজ জাতীয় সংসদ ভবনে বৈঠকের পর, বিল দু’টির পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা শেষে সংসদে রিপোর্ট আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি আন্দালিব রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সাকিলা ফারজানা, মো. মনজুরুল ইসলাম, মো. হাসান রাজীব প্রধান, আখতার হোসেন এবং আলফারুক আব্দুল লতীফ অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ আমন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বৈঠকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%