বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৫৪ এম
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার আলোচিত গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গোয়ালীমান্দ্রা সাকিনে জনৈক সাইদুলের বাড়ির পূর্ব পাশে ইটের সোলিং রাস্তার ওপর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের কঠোর নির্দেশনায় ডিবির এসআই (নিঃ) আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স অভিযান চালায়। অভিযানে ৫১০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—লৌহজং উপজেলার কারপাশা এলাকার নুরু শেখের ছেলে লিটন শেখ (৫২), শ্রীনগর উপজেলার দেউলভোগ এলাকার মৃত রহমত উল্লাহর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম শাহীন (৩৫), শ্রীনগরের ষোলঘর ভূইচিত্র এলাকার বজলু শেখের ছেলে মো. তুষার (২০) এবং লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা এলাকার ইস্কান্দারের ছেলে মো. জীবন হোসেন (৩১)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের জাতীয় ঋণের পরিমাণ এ নিয়ে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলারকে অতিক্রম করেছে। মূলত মার্কিন সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণের সুদ ও বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ধার নেওয়ার কারণে ঋণের বোঝা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ২০৩৬ সালের মধ্যে প্রায় ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলার হয়ে যেতে পারে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ দৈনিক ঋণ ও নগদ হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটির পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার, আর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে থাকা ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত দশকজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন দেশটির মোট ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তখন থেকেই ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই ঋণের বৃদ্ধি করোনা মহামারির সময় ঘটে, যখন ট্রাম্প ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিপুল পরিমাণ সরকারি ব্যয় ও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের বৃদ্ধির পেছনে দুই প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে, যা উল্লেখযোগ্য। কিছু সপ্তাহ ধরেই বাজেট পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রমের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি যদি দ্রুত পরিবর্তন না হয়, তাহলে দেশটি আরও বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পতিত হতে পারে এই সতর্কবার্তা তাদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঋণের বৃদ্ধি এবং সর্বশেষ রেকর্ড মাইলফলক ইতোমধ্যেই আমেরিকার জনগণের আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর ফলে মর্টগেজ ও গাড়ির মতো বিভিন্ন জিনিসের জন্য ঋণের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিনিয়োগের জন্য খরচ কমে আসছে ব্যবসায়ীর মজুরি, এবং পণ্য ও পরিষেবার মূল্য দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
দলনিরপেক্ষ সংস্থা কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের (CRFB) প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস বলছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সরকারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে উচ্চমাত্রায় পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও তার প্রভাব পড়ে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সরকার যত বেশি ঋণ নেবে, মূল্যস্ফীতির চাপ তত বেশি বাড়তে পারে।
এদিকে, বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জরুরি পরিস্থিতি বা বিদেশে অস্থিতিশীলতার সময় যুক্তরাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মধ্য পড়ে যাবে। ম্যাকগিনিয়াস আরো জানান, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত ২০ বছরেরও কম সময়ে ঋণ প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে। অথচ প্রথমবার যখন যুক্তরাষ্ট্র ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ নেয়, তখন তার জন্য ১৯৮১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, এবং সরকারি বন্ডের সুদও বাড়ছে। সম্প্রতি ২৫ বিলিয়ন ডলারের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড নিলামে গত ২০২১ সাল以来 সর্বোচ্চ সুদে বিক্রি হয়েছে। এর কয়েক দিন পর মঙ্গলবার দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় দুই দশকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়। বিপুল পরিমাণ সরকারি বন্ড বাজারে ছাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা অধিক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগের জন্য বাড়তি মুনাফা দাবি করছেন।
সাধারণত বন্ডের দাম ও সুদের হার পরস্পর বিপরীত। অর্থাৎ বন্ডের চাহিদা কমলে দাম কমে যাওয়ার সঙ্গে সুদের হার বেড়ে যায়। এই অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ কমানোর জন্য বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ১০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় বা বাইব্যাক কার্যক্রমের আকার দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পুনঃক্রয় করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ বেড়ে গেলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ঋণের খরচে পড়তে বাধ্য। বিশেষ করে বাড়ি কেনার বন্ধকী ঋণ, গাড়ির ঋণ, এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, সরকারি ঋণ, সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে, ভবিষ্যতে আরও গভীর আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সলমন খানের সঞ্চালনায় ‘বিগ বস্ ২০’-তে প্রতিযোগী হিসাবে যোগ দেওয়ার জন্য মৌনীকে নির্মাতারা প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে অভিনেত্রী সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
সলমন খানের ‘বিগ বস্’-এর নতুন সিজ়ন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু হতে চলেছে ‘বিগ বস্ ২০’। তবে নির্মাতারা এখনও পর্যন্ত প্রতিযোগীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি। এর মধ্যে সমাজমাধ্যমে একের পর এক নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই তালিকার মধ্যে এ বার উঠে এসেছে ‘নাগিন’-খ্যাত অভিনেত্রী মৌনী রায়ের নাম।
সলমন খানের সঞ্চালনায় ‘বিগ বস্ ২০’-তে মৌনীকে প্রতিযোগী হিসাবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নির্মাতারা নাকি মৌনীকে শো-তে নিয়ে আসতে খুব আগ্রহী। তাদের বক্তব্য, বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক দিতে প্রস্তুত বলেও শোনা যাচ্ছে।
বর্তমানে মৌনীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি ‘বিগ বস্’-এর ঘরে ঢুকছেন কি না, তার উত্তর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই জানা যাবে।
মৌনীকে ঘিরে জল্পনা শুরু হতেই সমাজমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “মৌনী ‘বিগ বস্’-এর মতো অনুষ্ঠানের থেকে অনেক বেশি জনপ্রিয় নাম। তাঁর হাতে একটিাধিক কাজ রয়েছে। তবে যদি তিনি সত্যিই আসেন, তা হলে অনুষ্ঠান জমে উঠবে।”
অভিনেত্রী জেনিফার উইঙ্গেটের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, “মৌনী এবং জেনিফার উইঙ্গেট কোনও দিনই ‘বিগ বস্’-এ আসবেন না। কারণ, এঁরা দু’জনেই যথেষ্ট জনপ্রিয়। এখানে এসে আলাদা করে কিছু পাওয়ার নেই।”
শুধু মৌনী নয়, আরও বেশ কয়েকজন তারকার নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। যে নামগুলি ইতোমধ্যে আলোচনার ক্ষেত্রে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাহী ভিজ, গীতা বসরা, জন্নত জ়ুবের, সুনীল পাল এবং শৌভিক চক্রবর্তী। এমনকি ললিত মোদীর নামও আলোচনায় রয়েছে।
‘বিগ বস্ ২০’-এর সূচনা হবে ৬ সেপ্টেম্বর। এই সিজ়নেও সঞ্চালকের ভূমিকায় উপস্থিত থাকবেন সলমন খান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নিহতদের মধ্যে আরও দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দুজনের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকার খবর শোনার পর নিহতদের স্বজনরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের একজন আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫)। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুচ সরদারের ছেলে। পেশাতে তিনি ছিলেন ঘের ব্যবসায়ী। অপর নিহত ব্যক্তি একই উপজেলার বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানিয়েছেন, কোমরব্যথার চিকিৎসা নিতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে গিয়েছিলেন। বুধবার তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার রাত ১০টার দিকে স্বজনরা খবর পান, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ফলে তিনি নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেছেন, প্রায় ৭-৮ বছর আগে হজ পালন করে দেশে ফিরে সাজু জানিয়েছিলেন, তিনি আর বিয়ে করবেন না। এরপর থেকে তিনি অবিবাহিত জীবনযাপন করছিলেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এক বছর আগে সাজুর মা মারা যান। তার আগে মারা গেছেন তার বাবা। চার ভাইয়ের মধ্যে সাজু ছিলেন সবার ছোট। তার মেঝো ভাই রাজু সরদারও মারা গেছেন। বর্তমানে বড় ভাই সাহেব সরদার ও সেঝো ভাই উজ্জ্বল সরদার জীবিত আছেন। সাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের মাতম চলছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঘটনাটি জানার পর নিহতদের পরিচয় এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাত বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, হোটেলটিতে প্রায় ২৫ জন বাংলাদেশি অবস্থান করছিলেন। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে হামের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহতর হয়ে উঠছে। আক্রান্ত এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এখন পর্যন্ত চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও সন্দেহজনক হামসহ মৃত্যুর সংখ্যা ১৪০ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ২০ আগস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক হামের ১৩১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে রয়েছে ৩৪৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩২০, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুটির বয়স ছিল ৮ মাস। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। শিশুটির বাড়ি কানাইঘাটে।
জেলা হিসেবে সন্দেহজনক হাম রোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে, যেখানে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর রয়েছে সিলেট ৫০, হবিগঞ্জ ১৪ এবং মৌলভীবাজারে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হাম রোগেও চার জেলায় মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন রোগী ভর্তি হওয়া, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় সিলেটে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ