শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৫ পি.এম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, মেহরাবের ইমামরা যখন সমাজের ইমাম হয়ে উঠবেন, তখন ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, খুন ও গুমের মতো অপরাধ সমাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
তিনি শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘সিরাতুন্নবী (সা.) হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান নবীন হাফেজদের নেতৃত্বের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ যাদের বুকে কুরআন ধারণ করার শক্তি দিয়েছেন, তারা যেন কেবল মেহরাবেই সীমাবদ্ধ না থাকেন। এই কুরআনের শিক্ষাকে সমাজে বাস্তবায়নের জন্য এবং আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করুন। আমরা মেহরাবের ইমামকে সমাজের নেতৃত্ব দিতে দেখতে চাই।’
তিনি হাফেজদের কাছে হাশরের ময়দানে শাফায়াতের আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই কুরআনের হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করিনি। সেই বিচারদিনে আপনারা যাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফায়াতের সুযোগ পাবেন, সেই তালিকায় আমাদেরও একটু স্মৃতিতে ও বিবেচনায় রাখবেন। তাহলেই আজকের এই আয়োজন ও আমাদের আসা সার্থক হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা ছোটখাটো মতপার্থক্য ভুলে ইসলামি আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব ভেদাভেদ পেছনে ফেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের মতো ইসলাম ও ন্যায়ের পথে লড়ে যেতে হবে। কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহর আলোকেই আমাদের সমাজকে নতুন করে সাজাতে হবে।
জামায়াত আমির কুরআন চর্চার বিস্তার নিয়ে বলেন, সমাজে এ ধরনের সুন্দর ও প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন যত বেশি হবে, কুরআনের চর্চাও তত বাড়বে এবং দ্বীন কায়েমের কাজ ত্বরান্বিত হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমিরকে নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন, তার নেতৃত্বে একটি সহিহ-শুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও উন্নয়নমুখী ঢাকা মহানগরী গড়ে উঠবে বলে এই নগরবাসী প্রত্যাশা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবিকতার হাত বাড়িয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ইয়াছিন সওদাগর ফাউন্ডেশন। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে তিনটি পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে ফাউন্ডেশনটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ, একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম ও সাহেদুর রহমানকে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জনাব মোবারক হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় ইয়াছিন সওদাগর ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।
ফাউন্ডেশনটির এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় তিনটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। সমাজের অসহায় ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তাদের প্রতি সহমর্মিতা ও পাশে থাকার প্রত্যয়েরও বহিঃপ্রকাশ।
স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইয়াছিন সওদাগর ফাউন্ডেশনের এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
মানুষ মানুষের জন্য—অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে মানবিক উদ্যোগই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্দ্বীপের রহমতপুর ইউনিয়নে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন।
এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের আগে তিনি মিয়াজান হাজি মসজিদে উপস্থিত হন। এ সময় মসজিদে আগত মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর কুশল বিনিময় হয়।
এ সময় আসন্ন নির্বাচন নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তিনি তাঁদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রহমতপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনী তফসিল ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির সঙ্গে এসব কার্যক্রম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম চুয়েট সি’। এই প্রতিযোগিতার সামগ্রিক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিভাগে দ্বিতীয় স্থানও লাভ করেছে দলটি।
বাংলাদেশের আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) দলও একই প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান দখল করেছে। পাশাপাশি আইইউটির দল পরিবেশগত নকশা বিভাগ এবং ‘এস্থেটিকস ইন কংক্রিট’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। দুই দলের সম্মিলিত অর্জন চারটি পুরস্কার।
আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের (এসিআই) আয়োজনে গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের জমা দেয়া প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচিত ৪০টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করে।
চুয়েটের দলটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েটের অনুষদ উপদেষ্টা ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম। অন্যদিকে, আইইউটি থেকে অংশ নেয়া দলের পরামর্শক হিসেবে ছিলেন এসিআই বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক উদ্দিন।
মূল পর্বে চুয়েটের প্রতিনিধিত্ব করেন খন্দকার ফাহাদ আলম, স্বরূপ চন্দ্র মোদক, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও সুমাইয়া বিনতে মান্নান। আইইউটি থেকে অংশ নেয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন আরিনা তাহরিনা আমিন, রাজিত মুহাম্মদ চৌধুরী, জাসিয়া জুবায়ের, লামিয়া তাবাসসুম, রাগীব শাহরিয়ার, মো. হুমায়েদ তাহসিন হক, মো. মাহাদী হাসান নিলয় এবং মো. জুবায়ের আনজুম।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে বোঝা যায়, আমাদের সামর্থ্য কতটা। আমরা যে অনেক কিছু করতে সক্ষম, তা এখানে এসে নতুন করে উপলব্ধি করেছি। তবে দুঃখের বিষয়, সব সময় আমরা যথেষ্ট সুযোগ পাই না। যদি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাই তাহলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবো।”
দলটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, “২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়সহ বিভিন্ন স্থানে মোট ছয়টি পুরস্কার অর্জন করেছে। তবে সেগুলোর সবই ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতায়। গত বছর মালয়েশিয়ায় আমাদের দল চতুর্থ স্থান অর্জন করে, সেটি ছিল সশরীরে অংশগ্রহণ। আমেরিকার মাটিতে সশরীরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো করবে, এটি ছিল আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন নিয়েই দলটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। এখন তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, চুয়েট ও সারা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।”
জানা যায়, প্রতিযোগিতায় মর্টারের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ নির্ধারিত ছিল প্রবাহক্ষমতার জন্য এবং ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য। এছাড়া কার্বন নিঃসরণের পরিমাণের জন্য ১০ শতাংশ, অর্থনৈতিক সাশ্রয়িতার জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবেদনের মানের জন্য বাকি ১৫ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ ছিল।
উল্লেখ্য, আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানদণ্ড, কোড ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রণয়ন এবং প্রচারে কাজ করে। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকৌশলী, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে এবং কংক্রিট প্রযুক্তির উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম আয়োজন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ