০৭:৫৩ পি.এম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এবং জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনৈতিক দর্শন আজও ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিআরএনডি)’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের আয়োজনটি কেবল একটি গ্রন্থ প্রকাশের অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ ও গবেষণার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
আরও পড়ুন: হাসনাত আব্দুল্লাহ: সরকারের এক বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে
একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হওয়ায় রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে একাডেমিক গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রূপকার এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আপসহীন দেশপ্রেম, বাস্তবমুখী রাষ্ট্রচিন্তা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের দর্শন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণের দীর্ঘকাল ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
তিনি একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা বাড়ালো সরকার
এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণের একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও মৌলিক প্রয়াস। অতীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনা হলেও, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে বিশ্লেষণের এমন বিস্তৃত প্রচেষ্টা খুব কমই দেখা গেছে।
তিনি বলেন, এই গ্রন্থে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে কেবল একটি রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি, জনগণের ক্ষমতায়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বিত একটি রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তার মতে, গ্রন্থটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে গবেষণাযোগ্য একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা। এর ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা অধ্যয়ন এবং উন্নয়ন গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে।
আরও পড়ুন: মাগুরায় নানা আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
তিনি বলেন, গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তাকে রাজনৈতিক অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, শিক্ষা, পুলিশ সংস্কার, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ হিসেবে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগামী সংস্করণগুলোতে যদি আরও বেশি প্রাথমিক দলিল, আন্তর্জাতিক গবেষণার সূত্র, তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং ভিন্নমতের একাডেমিক মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
কারণ প্রকৃত গবেষণার সৌন্দর্য নিহিত থাকে মতের বহুমাত্রিকতা এবং অনুসন্ধানের সাহসের মধ্যে।
আরও পড়ুন: নারীরা সুযোগ পেলে বিদেশে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে: শামা ওবায়েদ
সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (সিআরএনডি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বই একটি সময়কে ধারণ করে, কিন্তু একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। তাই এই প্রতিষ্ঠানের সামনে রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সিআরএনডি ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সুশাসন, জনপ্রশাসন, মানবাধিকার, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদের ভিত্তির ওপর একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই আদর্শ ধারণ করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
প্রতিটি নাগরিক যদি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সড়ক প্রতিমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে দেশ, জনগণ এবং জাতীয় নেতৃত্বের কল্যাণ কামনা করেন।
এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ‘সবার আগে দেশ, গর্বের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ শরীফ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য মানসুরা আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.এ কে এম ওবায়দুর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন