ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই আন্দোলন ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল: আতিকুর রহমান রুমন


জুলাই আন্দোলন ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল: আতিকুর রহমান রুমন

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়; বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলাফল। তিনি অস্তিত্ববান ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে সকলের অংশগ্রহণের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেন। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে অন্যদের অবদান খাটো করতে না করার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানান।

শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘বুলেটের মুখে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের হলো শেষ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আতিকুর রহমান রুমন উল্লেখ করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে কারাবরণ করতে গিয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের ফলে নির্বাসিত জীবন অতিবাহিত করেছেন। তবে তারা কখনো নিজেদের ব্যক্তিগত ত্যাগের ভিত্তিতে আন্দোলনের একক কৃতিত্ব দাবি করেননি।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত প্রচার-প্রসারে কোনো কৃতিত্ব নেই। বিএনপি কখনো বলেনি যে তারা একা সব কিছু করেছে। আজ যারা নিজের একক কৃতিত্ব দাবি করছেন, তারা জনগণের কাছে একদিন প্রত্যাখ্যাত হবেন। ইতিহাসও তাদের স্থান বরাদ্দ করবে না।

সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ে অনেক সাংবাদিক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে BNP এর নেতাকর্মীদের সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, বেশ কিছু সাংবাদিক তাদের মোটরসাইকেল ও গাড়িতে তুলে আমাকে এবং বিএনপির অন্যান্য নেতাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছেন। এজন্য তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

র‌্যাবের ‘আয়নাঘরে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


র‌্যাবের ‘আয়নাঘরে’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

ভারতে পাচারের আগে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই সেল) বা ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল, এমনটি জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে র‍্যাবের গোপন বন্দিশালা টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধির রুল ৪৬এ, রোম সংবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল বিচারিক পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এত দিন ‘আয়নাঘর’ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও, বিচারকদের শুধু নথি কিংবা সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর না করে সরেজমিনে ঘটনাস্থল দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ একটি মেমোরেন্ডামে লিপিবদ্ধ হবে, যা মামলার বিচারিক নথির অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, পরিদর্শনে ভবনের ভিতরে মোট ২২টি ছোট-বড় কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকটি কক্ষের সাইজ এতটাই ছোট যে সেখানে একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে শুয়ে থাকাও সম্ভব নয়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য অনুসারে, এসব কক্ষে ব্যক্তিদের হাত ও চোখ বেঁধে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানোর অভিযোগও রয়েছে। পরে অনেককে বিভিন্ন মামলায় আদালতে সোপর্দ করার পরও অনেকে আর ফিরে আসেননি।

তিনি আরও বলেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গুম হওয়া ব্যক্তির কোনো সন্ধান মেলেনি এবং তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ আরও অনেকে রয়েছেন। গত বছরের আগস্টের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী ফিরে এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে আয়নাঘরের কিছু নির্দিষ্ট কক্ষ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম জানান, ব্যারিস্টার আরমানকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল বলে তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, তদন্তকারীরা সেটিও শনাক্ত করেছেন। একইভাবে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে র‍্যাব-১ এর এই স্থাপনায় একটি কক্ষে আটকে রাখার এবং পরে তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার তথ্যও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, র‍্যাব-১ এর টিএফআই সেল পরিদর্শনের পর, এবার ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে ডিজিএফআই-সংশ্লিষ্ট কথিত আরেকটি গোপন আটককেন্দ্র, জেআইসি, পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে, আগামী শনিবার বিচারকেরা সেখানে বিচারিক পরিদর্শনে যাবেন।

আইনগত বিষয় তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয় এবং গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হয়। একই বাধ্যবাধকতা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬১ ও ১৬৭ ধারায়। কিন্তু আয়নাঘরে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক ও আইনগত বিধান অনুসরণ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, গুম, নির্যাতন ও হত্যার মতো অভিযোগগুলো শুধুমাত্র আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এসব অভিযোগের উপর ইতিমধ্যে বিচার চলছে এবং আরও অনেক ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, র‍্যাবের টিএফআই সেল পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম এবং টিএফআই সেলের গুমের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। সকাল সাড়ে ১০টার পরে তারা রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ এর কার্যালয়ে পৌঁছান।

এছাড়া, টিএফআই সেলের গুমের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোট আসামি ১৭ জন রয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার রয়েছে। তারা তখন র‍্যাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে।

এ মামলার আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, মো. হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

এর আগে, ২১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ টিএফআই সেল পরিদর্শনের আবেদন মঞ্জুর করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গাবালীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল,,,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. আসাদ মিয়া (পটুয়াখালী) রাঙ্গাবালী

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গাবালীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল,,,

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, রাঙ্গাবালী উপজেলা শাখা।
গণমিছিলটি উপজেলার একটি নির্ধারিত স্থান থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
সমাবেশে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, রাঙ্গাবালী উপজেলা শাখার সভাপতি কবির মাওলানা । এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, দেশের জনগণ অতীতের অন্যায়, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না এবং সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালু করতে সরকারের উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালু করতে সরকারের উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী

সরকার দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সব বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানিয়েছেন। তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে মির্জাপুরের ঐতিহ্যবাহী এই বন্ধ কারখানাটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মির্জাপুরে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এবং স্থানীয় এমপির সহযোগিতায় সেসব প্রতিষ্ঠানকে আরো আধুনিকায়ন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী শনিবার সকালে দীর্ঘ ২৯ বছর যাবৎ বন্ধ থাকা মির্জাপুরের ‘টাঙ্গাইল কটন মিল’ কারখানাটি পরিদর্শন করতে গিয়ে এ কথাগুলো বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে সোলার বিদ্যুতের বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যাতে দেশের ব্যবসায়ীরা এবং শিল্পপতিরা ইন্ডাস্ট্রিগুলো সঠিকভাবে চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন।

বিটিএমসির সচিব এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প পরিচালক কাজী ফিরোজ হোসাইন জানান, স্বাধীনতার আগে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল কটন মিল কারখানাটি চালু করা হয়।

১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির ২৭ নম্বর আদেশে কারখানাটি জাতীয় করণ করা হয়। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বিটিএমসি দ্বারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয় এবং এরপর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ভাড়াসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে কারখানাটি চালু থাকে। তবে ১৯৯৮ সাল থেকে কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব, মির্জাপুর থানার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আরিফ, সহসভাপতি আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদের শিকদার, উপজেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আবুল হোসেন, গোড়াই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জুয়েল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান স্বপন প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানি অবকাঠামোতে সাইবার হামলা, ইরানি সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


পানি অবকাঠামোতে সাইবার হামলা, ইরানি সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ ও বর্জ্যপানি শোধনাগারের প্রযুক্তি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ফলে বিভিন্ন স্থাপনার স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।

এ কারণে অনেক এলাকায় কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত পদ্ধতিতে পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারী সংস্থাগুলো। তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, হামলাকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানি হ্যাকারদের পরিচিত কৌশল অনুসরণ করে থাকতে পারে। এমনকি এতে তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়া অথবা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাকে আরো বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এফবিআই জানিয়েছে, অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যে এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে কোন কোন অঙ্গরাজ্য আক্রান্ত হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, মিনেসোটা রাজ্যে 30টিরও বেশি স্থানীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

অন্যদিকে, কর্মকর্তারা জানান, হামলায় মূলত প্রোগ্রামযোগ্য লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে দূর থেকে পানি সরবরাহ, পাম্প ও বর্জ্যপানি শোধনাগারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যবেক্ষণ করা হয়। মিনেসোটা রাজ্যের বিভিন্ন শহরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সমস্যা হলেও এখন পর্যন্ত পানির মান বা সরবরাহে কোন সমস্যা দেখা যায়নি। সাউথ সেন্ট পল শহরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর জনকল্যাণ বিভাগের কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গেই হাতে পরিচালিত পদ্ধতিতে কাজ শুরু করেন। ফলে পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া গ্রাহকদের কোন ব্যক্তিগত তথ্যও ফাঁস হয়নি। ব্রাহামে একটি কূপের পাম্প সোমবার ভোরে অচল হয়ে যায়। মেয়র নেট জর্জ জানান, কর্মীরা মাত্র 90 মিনিটের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা চালু করে সেবা স্বাভাবিক রাখেন। অন্যদিকে, প্লাইমাউথ শহরে দুটি পানির টাওয়ার এবং 14টি পয়োনিষ্কাশন পাম্পিং স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহরের জনকল্যাণ বিভাগের পরিচালক মাইকেল থম্পসন বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে পুরো ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্মীরা হাতে পরিচালিত পদ্ধতিতে সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ২০২৩ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের পানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে একই ধরনের সাইবার হামলা হয়েছিল। সে সময় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ও কারখানার নির্ধারিত ডিফল্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে প্রবেশ করেছিল। বর্তমানে হামলার সঙ্গে একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এই সাইবার হামলার ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনেসোটা রাজ্যের পানি অবকাঠামোতে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করার প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বরং অঙ্গরাজ্যের প্রশাসন এবং ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজের সমালোচনা করেছেন। ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, মিনেসোটায় 30টি পানি স্থাপনায় সাইবার হামলা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, এর জন্য ইরান নয়, বরং মিনেসোটার প্রশাসনিক ব্যর্থতাই দায়ী। তার ভাষায়, মিনেসোটার নেতৃত্ব অযোগ্য এবং তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ইরানকে দোষারোপ করছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, হামলার জন্য কে দায়ী, প্রেসিডেন্ট তা ভালোভাবেই জানেন। একই ধরনের হামলা অন্য অঙ্গরাজ্যেও হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ওয়ালজ দাবি করেন, আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সাইবার হামলাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তার মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ) পানি অবকাঠামো পরিচালনাকারী সব প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিক অ্যান্ডারসন বলেন, ছোট-বড় সব ধরনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বর্তমানে সাইবার হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। তিনি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ইন্টারনেট থেকে তাদের পরিচালন প্রযুক্তি এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মডেম দ্রুত বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান। এছাড়া মিনেসোটা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সাইবার হামলার পরেও কোথাও পানীয় পানি ব্যবহারে কোন সতর্কতা জারি করা হয়নি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পানীয় পানির নিরাপত্তার জন্য কোন পরিচিত ঝুঁকি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অতীতে বিদেশি হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সিআইএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা ডিফল্ট ব্যবহারকারী তথ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কয়েকটি পানি সরবরাহ ও বর্জ্যপানি শোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছিল। এছাড়া ২০১৩ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাই শহরের একটি বাঁধের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে একজন ইরানি হ্যাকারকে অভিযুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%