শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ইরিত্রিয়ার ওপর আরোপিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন লোহিত সাগর এবং এর আশপাশের অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান। খবরটি দ্যা মিডল ইস্ট আই-এর।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ইরিত্রিয়ার ক্ষমতাসীন দল পিপলস ফ্রন্ট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড জাস্টিস (পিএফডিজে), দেশটির সামরিক বাহিনী এবং রেড সি ট্রেডিং করপোরেশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, রেড সি ট্রেডিং করপোরেশন ইরিত্রিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
এছাড়া, ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হাগোস গেব্রেহিওয়েতের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
২০২১ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলের সংঘাতে ইরিত্রিয়ার ভূমিকার জন্য এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। উল্লেখযোগ্য যে, ওই যুদ্ধে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে লড়াইয়ে অংশ নেয়।
আফ্রিকান ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী, টাইগ্রে সংঘাতে প্রায় ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে।
১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই প্রেসিডেন্ট আফওয়ারকি ইরিত্রিয়া শাসন করছেন। ২০২০-২০২২ সালের ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় দুই দেশ সাময়িকভাবে মিত্র হলেও পরবর্তীতে তাদের সম্পর্ক আবারও অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে আদ্দিস আবাবা ও আসমারার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে, ইথিওপিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানের গৃহযুদ্ধে ইউএই-সমর্থিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সহায়তা দিতে ইথিওপিয়া ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে দেশটি আমিরাতের সরবরাহ করা ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্রব্যবস্থাও ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে, ইরিত্রিয়া সুদানের সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে। এ বিষয়ে মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরবও একই অবস্থানে রয়েছে।
একসময় ইউএইর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ইরিত্রিয়া। লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর আসাবে আমিরাতের একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।
ইরিত্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান সালেহ অভিযোগ করেন, ইউএই আফ্রিকাজুড়ে ‘বন্দর সাম্রাজ্যবাদ’ অনুসরণ করছে এবং ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে লোহিত সাগরে একটি নৌঘাঁটি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা ইরিত্রিয়ার লোহিত সাগর উপকূলের দৈর্ঘ্য এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। জিবুতি, ইরিত্রিয়া ও ইয়েমেনের জলসীমা মিলিয়ে গঠিত হয়েছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বাহিনী দেশটির পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। বর্তমানে তারা তাইজ ও মারিব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও লড়াই করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান সালেহ বলেন, ইয়েমেন সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তার মতে, দেশটিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে উপকূলীয় দেশগুলোরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে ইয়েমেনে ঐক্যবদ্ধ সরকার না থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণঅধিকার পরিষদ, দিনাজপুর জেলা কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি শুক্রবার (১৮ই সেপ্টেম্বর) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা উপজেলার নেতৃত্ববৃন্দ কমিটি গঠন ও আগামীর রাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে মতামত প্রদান করেন।
মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। তিনি বলেন, "গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলন করে আসছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মিত্রদের দাবি হলো, বিএনপির উচিত তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তাদের মূল্যায়ন করা। আবু হানিফ বলেন, "বিএনপি যখন ফ্যাসিবাদের আমলে হামলা মামলায় বিপর্যস্ত ছিল, তখন এই মিত্ররা তাদের পাশে ছিল। এখন যদি মিত্রদের মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে সংকটে পড়লে বিএনপি কাউকে পাশে পাবে না।"
আবু হানিফ আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ মিছিল করছে। তিনি বলেন, "তারা এই সাহস পেত না, প্রশাসনে থাকা নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের গুপ্তদের চিহ্নিত করতে হবে।" তিনি সতর্ক করেন যে, "এটা না হলে সরকার যেকোন সময় বিপদে পড়তে পারে।" সম্প্রতি গুলশানে অনুষ্ঠিত নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের মিছিলে দেখা গেছে যে, গুলশান জোনের ডিসির সাথে তাদের পূর্বে যোগাযোগ ছিল, এবং প্রশাসনের সিগন্যালে তারা মিছিল করার সাহস পেয়েছে। তিনি বলেন, "এটি শুধু গুলশানে নয়, সারাদেশে একই অবস্থা। টাকার বিনিময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগকে মিছিল করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের দ্বারা।" সুতরাং, তিনি সকলকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফ্যাসিবাদ বিরোধী সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক প্রধান সাকিব হোসাইন মন্তব্য করেন, "জুলাইয়ের পর সুবিধাবাদের রাজনীতি শুরু করেছে এনসিপি, অনেকেই সেখানে যুক্ত হয়েছে শুধু ধান্দা করার জন্য।" তিনি বলেন, "এনসিপি এখন হাদীর নামে ব্যবসা শুরু করেছে, অথচ এই হাদীই বলেছিলো এনসিপি জুলাইয়ের ঐক্য নষ্ট করেছে।" সাকিব হোসাইন সতর্ক করেন যে, "সুতরাং, এদের এই ধান্দাবাজির ব্যবসা বেশি দিন চলবে না।"
গণঅধিকার পরিষদ, দিনাজপুর জেলার সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম আজমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদ রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মোন্নাফ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, পেশাজীবি অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ তোফায়েল আহমেদ দিহান, দিনাজপুর জেলার সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি হারুনর রশীদ হিমেল, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মোসাদ্দেক, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ইয়াকুব, জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক মন্তব্য করেছেন, ‘রাজপথে নেমে ১১ দলের গণদাবি আদায়ের জন্য আমরা কাজ করছি। এই রাজপথ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা ঘরে ফিরে যাবো। বর্তমান সরকারের জন্য গণভোটের গণরায় কার্যকর করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তারেক জিয়া সরকারকে গণভোটের রায় কার্যকর করেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে ইনশাল্লাহ।’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া-বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে লংমার্চের পথসভার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বাংলার মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ১১ দল স্পষ্ট ভাষায় বলছে যে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য তারা নিজেরাই গড়বে। তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে সরকারের লুকোচুরি আর সহ্য করা হবে না। শহীদ শরীফ ওসমান হাদী ও দেশপ্রেমিক ইলিয়াস আলীসহ যাদেরকে গুম, খুন, হত্যা করা হয়েছে, তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মানুষ আদায় করে ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ।’
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের যারা এখন পর্যন্ত বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেনি এবং মানুষের আবেগ নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে, তাদেরকে স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সফল হবো।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ গত বছরের নভেম্বরে পুত্রসন্তানের মা হয়েছেন। বর্তমানে তিনি সিনেমার রুপালি পর্দার কোলাহল থেকে অনেকটাই দূরে অবস্থান করছেন। মাতৃত্ব এবং নিজের ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। সর্বশেষ তাকে ‘মেরি ক্রিসমাস’ সিনেমায় দেখা গেছে।
সন্তান জন্মের পর একজন মায়ের শরীরে পরিবর্তন আসা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে রুপালি পর্দার তারকাদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের একটি অংশ সেই স্বাভাবিকতা মেনে নিতে নারাজ।
সম্প্রতি, স্বামী অভিনেতা ভিকি কৌশলের সঙ্গে হাজির হয়ে ক্যাটরিনা কাইফ ঠিক এমনই এক অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। সন্তান হওয়ার পর ওজন বৃদ্ধি ও চেহারার পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে কঠোর বডি শেমিংয়ের শিকার হন তিনি।
তবে, অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের এই কঠিন পরিস্থিতিতে তার ভক্ত-অনুরাগীরা পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি, আরেক বলিউড তারকা হৃতিক রোশানও নীরব সমর্থন জানিয়ে অভিনেত্রীর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ক্যাটরিনার বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হর্ষবীর জৈন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন— ‘ক্যাটরিনা একজন সফল মা, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং জনপ্রিয় তারকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বয়সের সঙ্গে শারীরিক পরিবর্তন কিংবা মাতৃত্বের চিহ্ন কখনো কারো ব্যর্থতা হতে পারে না।’
হর্ষবীরের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃতিকের নজরে আসার পর তিনি এতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। তবে, পোস্টে কোনো মন্তব্য করেননি এই অভিনেতা।
উল্লেখ্য, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ এবং ‘ব্যাং ব্যাং’ সিনেমায় একসঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন ক্যাটরিনা কাইফ ও হৃতিক রোশান। ছবিটি বক্স অফিসে ভালো আয় করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে, সৌদি আরব ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারকে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা অক্টোবর মাসে নির্ধারিত অপরিশোধিত তেলের বরাদ্দ পাবে না।
সাধারণত, ইউরোপীয় রিফাইনারিগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ক্রয় করে থাকে। তবে বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতিতে, যা ‘ফোর্স মেজর’ হিসেবে পরিচিত, জ্বালানি কোম্পানিগুলো এসব সরবরাহ বাতিল করার অধিকার রাখে। দ্যা মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে কাতারও হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক অবরোধের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে জারি থাকা ‘ফোর্স মেজর’ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংঘাতের মধ্যেও সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থানে ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, দেশটির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন পারস্য উপসাগর থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহন করে, যা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে রপ্তানির সুযোগ দেয়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তেল, অর্থাৎ দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল রপ্তানি করা সম্ভব ছিল।
তবে গত সপ্তাহে ড্রোন হামলায় পাইপলাইনটি অচল হয়ে পড়ে। সৌদি আরবের দাবি, হামলাটি ইরাক থেকে চালানো হয়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা সক্রিয়। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইয়ানবু বন্দর এবং সৌদি আরামকোর অন্যান্য তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে।
হুতিরা ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সময়ে, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, আর সৌদি বাহিনীও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। তবে জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্য প্রকৃত বাজারে তেল সংগ্রহের খরচ পুরোপুরি প্রতিফলিত করে না। ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরও বেশি বেড়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদনের কারণে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হয়েছে, যেখানে গত এক সপ্তাহে ডিজেলের দাম ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হুতিরা সৌদি আরবগামী জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করার পর সৌদি আরব তাদের তেল পরিবহনের একটি অংশ সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান পাইপলাইনের মাধ্যমে পুনঃনির্দেশ করতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় এক দশক আগে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ক্ষমতায় আসে হুতি আন্দোলন। এরপর তাদের ক্ষমতাচ্যুত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব দেশগুলোর একটি জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সৌদি আরব এখনও হুতিনিয়ন্ত্রিত বন্দর ও বিমানবন্দরের ওপর আকাশ ও সমুদ্র অবরোধ বজায় রেখেছে।
হুতিদের দাবি, যদি এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে জারি করা নিজেদের বাণিজ্যিক অবরোধও তুলে নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ