ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাগেশ্বরীতে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও এসআইএর বিরুদ্ধে মানববন্ধন


নাগেশ্বরীতে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও এসআইএর বিরুদ্ধে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টায় নাগেশ্বরী থানা গেটের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে “ঘুষখোর ইদ্রিস আলীর প্রত্যাহার চাই” শ্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদে চলে যায় মানববন্ধনকারীরা। এ সময় তারা মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানায়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দুটি আলাদা স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের মাধাইখার কুমরিয়ারপাড় এলাকার ভেতর দিয়ে সাবেক একটি রাস্তা দিয়ে অনেক দিন ধরে এলাকার কয়েকশ পরিবার যাতায়াত করে আসছিল। हाल हीতে ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাটি পাকা করতে মাপামাপি শুরু করলে স্থানীয় খলিল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মুকুল মিয়া মেইন রাস্তা থেকে প্রায় ৮০ ফুট রাস্তা বাঁশ বেধে বন্ধ করে দেয়। এই কারণে এলাকার হাজারও মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। স্থানীয়রা একাধিকবার রাস্তা খুলে দেওয়ার জন্য তাদের সাথে বৈঠক করেছে, কিন্তু তারা রাস্তাটি খুলে না দিলে নিরুপায় হয়ে পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা বের করে চলাচল করতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ১৭ মে এলাকার এমদাদদুল হক, শামছুল হক, হাবিবুল ইসলাম ও আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তার অভিযোগ ছিল যে, রাস্তা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকার গাছ কেটেছেন বিবাদীরা। এছাড়াও ১৩ জুন দুই বিঘা জমির প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পাট ক্ষেত নষ্ট করার দাবী জানিয়ে এমদাদুল হক, শামছুল আলম, রেজাউল করিম ও আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলীর ওপর। কিন্তু জানা যায় যে, এসআই ইদ্রিস তদন্ত না করে মামলা দুটি রেকর্ড করেন। মামলায় উল্লেখিত স্বাক্ষী এছাব উদ্দিনের ছেলে উকিল আমিনের দাবী, তিনি মামলার ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তার স্বাক্ষীত্ব দেওয়া নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এসআই ইদ্রিস আলী মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে এলাকার লোকজনকে হয়রানি করে যাচ্ছেন এবং আদালতের মাধ্যমে নোটিশ জারি করে তা গোপন রেখে আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। এ অবস্থার কারণে মামলার ভয়ে অনেকেই স্ত্রী ও সন্তানছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সময় তারা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং এসআই ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলাকারী হাফিজুল ইসলামের শাস্তির দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর রহমান স্বপন, স্থানীয় উকিল আমিনসহ অনেকে। বহু মানুষের অভিযোগ, এসআই ইদ্রিস আলী অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ঘুষখোর পুলিশ সদস্য। টাকা পেলেও তিনি দিনকে রাত বানিয়ে ফেলেন। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে এরকম অসংখ্য অভিযোগ উঠে আসছে। নাগেশ্বরী থানার এসআই ইদ্রিস আলী বলেন, আমি দুই মাস আগে আদালতে প্রসিকিউশন দিয়েছি। আদালত ওয়ারেন্ট জারি করেছে। আমি তিনজনকে ধরে কোর্টে পাঠিয়েছি। এখানে আমার কী করার আছে? আমি কোন ভুল করি নাই। উনি অপরাধ করেছে এবং মানুষের গাছপালা কাটছে। উনি আদালতে প্রমাণ করুক যে এই ঘটনা মিথ্যা। থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান জানান, এসআই ইদ্রিসের বিরুদ্ধে যে মানববন্ধন হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এবং ইর্ষান্বিত হয়ে করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেলের দামের উল্টো আচরণ কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ এম


তেলের দামের উল্টো আচরণ কেন?

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই তেলের দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। গত সোমবার, তেলের দাম প্রায় আট শতাংশ নিচে নেমে যায়, যা গত মে মাসের পর একদিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন। মার্কিন প্রশাসনের সংঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করায় এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর না আসায় তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। এই সামান্য ইতিবাচক লক্ষণই সম্ভবত তেলের বাজারকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে সাহায্য করেছে।

 বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বাজারের এই প্রতিক্রিয়া মূলত সংঘাতের শুরু থেকেই লক্ষণীয় 'শান্তিপ্রবণতা'র ফল। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি স্বল্পস্থায়ী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পরও বিশ্ব অর্থনীতি এর সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছে, যা বাজারের তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হয়েছে।

 তবে তেলের সরবরাহ সংকটের তীব্রতা সামাল দিতে চীন ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কৌশলগত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সংকটের শুরু থেকেই চীন তার বিশাল সংরক্ষিত তেল ব্যবহার করে আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ থেকে নিয়মিত লাখ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে থাকে। ফলে হরমুজ প্রণালী সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার পর বিপুল পরিমাণ তেল বের হয়ে আসায় বাজারে সাময়িকভাবে অতিরিক্ত সরবরাহের সৃষ্টি হয়েছে।

 বাস্তব পরিস্থিতি কিন্তু এখনো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয় এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র এবং গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ইরান এখনো প্রণালীটিতে নিজেদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের ওপর অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। এর ফলে অনেক জাহাজও এই জলপথ ব্যবহার করতে ভয় পাচ্ছে এবং প্রণালীতে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে আছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানকে টোল পরিশোধ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

 পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের কারণে, যারা সম্প্রতি লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে সৌদি আরবের তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে অবরোধ ঘোষণা করেছে। হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুটেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারের অনিশ্চয়তা কাটেনি।

 বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই সাময়িক বিরতি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার একটু এদিক-সেদিক হলেই তেলের বাজার আবারও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
লালমনিরহাটে

অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ এম


অপহরণ ও ছিনতাই মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভারতীয় একজন ট্রাকচালককে অপহরণ, কুপিয়ে জখম এবং অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মামলায় আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, আর অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার আদেশ রয়েছে। সোমবার, ২৭ জুলাই দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক এসএম. শফিকুল ইসলাম এই রায় দেন।

এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা সোনারভিটা এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সবুজ মিয়া (পলাতক), একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ওরফে বুলুর ছেলে মোঃ রমজান আলী এবং ভাটিয়াবাড়ি এলাকার শামছুল হক ওরফে সামছুর রহমানের ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট দুপুরে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে পাথর বহনকারী একটি ভারতীয় ট্রাক যান্ত্রিক কারণে বুড়িমারী রোডে আটকে যায়। ওই দিন গভীর রাতে, রাত ১টার দিকে আসামিরা পে-লোডার বা ক্রেন দিয়ে ট্রাকটি উদ্ধারের লোভ দেখিয়ে ভারতীয় চালক লক্ষ্ণীনন্দর সিংকে (৩৭) একটি মোটরসাইকেলে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে, ২২ আগস্ট রাত ৩টার দিকে পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় চালক লক্ষ্ণীনন্দর সিংকে ধারালো চাকু দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় চালককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩৯৪ (দস্যুতা ও আঘাত) ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, এই সাজা দুটি একই সঙ্গে চলবে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে যে রায় দিয়েছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করছি। একজন বিদেশি নাগরিককে অপহরণ ও ডাকাতির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার এই রায় সমাজে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সের দাবানল তৈরি করছে বজ্রপাত, কিন্তু কীভাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৯ এম


ফ্রান্সের দাবানল তৈরি করছে বজ্রপাত, কিন্তু কীভাবে?

ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি এবার এক অজানা ও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। সেখানকার দাবানলগুলো থেকে এখন তৈরি হচ্ছে বিশাল মেঘ এবং সেই মেঘ থেকেই ঝরছে বজ্রপাত! জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্যই ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো এমন বিরল ‘ফায়ার ক্লাউড’ বা আগুনের মেঘ দেখা যাচ্ছে।

ফরাসি গবেষক জ্যঁ-বাপতিস্ত ফিলিপি জানান, পর্তুগাল, ক্যালিফোর্নিয়া বা অস্ট্রেলিয়ায় এমন ঘটনা সাধারণ থাকলেও ফ্রান্সে এটি একেবারেই নতুন ঘটনা। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে পরপর তিনটি তাপপ্রবাহ আঘাত হানা ও তৈরি হওয়া ঘটে এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

কীভাবে তৈরি হয় এই ফায়ার ক্লাউড? ফিলিপির মতে, আগুনের প্রচণ্ড তাপে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বিশাল ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা বজ্রগর্ভ মেঘে পরিণত হয়। এই মেঘের কারণে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে। মজার ব্যাপার হলো, এই মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়লেও তা মাটিতে পড়ার আগেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, বায়ুমণ্ডল হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে শক্তিশালী নিম্নমুখী ঝোড়ো বাতাস সৃষ্টি করে, যা দাবানলকে আরও উসকে দেয়।

বর্তমানে দমকলকর্মীদের দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গিরোন্দ অঞ্চলে এই নতুন বিপাদের সাথে লড়াই করতে হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর সাধারণ বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিতে পারলেও, এই ‘ফায়ার ক্লাউড’ ঠিক কোথায় তৈরি হবে তা ধারণা করা প্রায় অসম্ভব। এই মেঘগুলো এতটাই অপ্রত্যাশিত যে, এরা মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের দিক পরিবর্তন করে ফেলে। এমনকি এই মেঘ জ্বলন্ত অঙ্গার শুষে নিয়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে দাবানল কল্পনাতীত বেগে নতুন নতুন এলাকায় ভয়ংকর রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলকে পাত্তা না দিয়ে তুরস্ককে এফ-৩৫ দিচ্ছেন ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ এম


ইসরায়েলকে পাত্তা না দিয়ে তুরস্ককে এফ-৩৫ দিচ্ছেন ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি ইসরায়েলের আপত্তি উপেক্ষা করে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনার ওপর দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন, তিনি আঙ্কারাকে অসাধারণ একটি মিত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা উপকরণের বিক্রয় নীতি নির্ধারণে বাইরের কোনো দেশের প্রভাবে ঠেকা দেওয়া হবে না, এমনকি ইসরায়েলেরও। এ মন্তব্যগুলো, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকের আগে তিনি করেন।

ওয়াশিংটন থেকে মিশিগান যাওয়ার পথে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তুরস্ক বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও মিত্র। তিনি তুরস্ক এবং ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে আঙ্কারার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তবে একই সঙ্গে তুরস্কের সামরিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তুরস্কের সেনাবাহিনী এই অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এবং সুসজ্জিত সেনাবাহিনী।

তিনি সিরিয়া সংকটে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প আঙ্কারার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে উন্মুক্ত ইঙ্গিত দেন। এরপর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ সম্ভাব্য চুক্তির প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন এবং হোয়াইট হাউসের সূত্র জানায়, ট্রাম্প মনে করেন মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করার পর যুক্তরাষ্ট্র আঙ্কারাকে এফ-৩৫ যুদ্ধ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অথচ তুরস্ক এই বহুমুখী যুদ্ধবিমান প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উৎপাদন অংশীদার ছিল। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বারবার এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য বলে আখ্যায়িত করে আসছেন এবং ন্যাটোর সম্মিলিত নিরাপত্তার স্বার্থে, তুরস্ককে পুনরায় এই কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। যদিও ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, তুরস্ক অতীতে বিভিন্ন মিত্রের কাছ থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। তবে এর মোকাবিলায় আঙ্কারা গত দুই দশকে নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতকে স্বাবলম্বী করে তুলেছে এবং বর্তমানে ড্রোন, মিসাইল, সাঁজোয়া যান থেকে শুরু করে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%