০৬:১৯ পি.এম
বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মা এবং মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন কিশোর গ্যাংয়ের হামলায়।
এ ছাড়া আহতদের মামলা করার জন্য নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের মওলার পাড়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: বাঘাইছড়িতে শুরু হলো ১৭তম কঠিন চীবর দানোৎসব
আহতদের নাম হলো- ময়রা খাতুন (৫৫) এবং তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৫)। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ময়রা খাতুনের মাথায় চারটি সেলাই এবং রাবিয়া খাতুনের মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৯ জুলাই) রাতে সংগঠিত আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে স্থানীয় যুবক রাকিবের সঙ্গে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলামের গ্রুপের এক সদস্যের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর থেকে মোরশেদুল ইসলাম বিভিন্নভাবে রাকিবকে হুমকি দিতে শুরু করেন। এর ফলস্বরূপ, সোমবার সকালে মোরশেদুল ইসলাম ও তার ভাই মোহাম্মদ হাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দলের সদস্য রাকিবের বাড়িতে গিয়ে হামলা করে।
এই সময়, প্রতিবেশীরা যখন রাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিলেন, হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারাল দা ও কুড়াল নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালাতে শুরু করে। এতে ময়রা খাতুন, তার মেয়ে রাবিয়া খাতুনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। মা-মেয়ের মাথা, কপাল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতরভাবে জখম হয়। হামলার পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। পরে তাদের চমেক হাসপাতালে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
আরও পড়ুন: ১১ হাজারের বেশি যাত্রী পারাপারের পরও এস.টি. নিঝুম দ্বীপ সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। তার বাবা জাকের হোসেনের বিরুদ্ধে ভূমি দখলসহ আরও বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে।
আহত ময়রা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, "আমার মা এবং বোন কারো কোনো ক্ষতি করেননি। প্রতিবেশীকে হামলা থেকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাদের অপরাধ। এজন্য তাদের দা-কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মাথা, কপাল ও মুখে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আমরা অসহায় মানুষ। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে বিষয়টি থানাকে জানালেও, মামলার আশঙ্কার কারণে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর জানিয়েছেন, "ফাইনাল খেলা নিয়ে তর্কের জেরে মা-মেয়ের ওপর হামলা হয়েছে। তারা এখন চিকিৎসাধীন আছেন। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আরও পড়ুন: দীঘিনালায় দুই বৌদ্ধবিহারের কঠিন চীবরদান পরিদর্শনে জোন কমান্ডার
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরল আলম আশেক বলেছেন, "গুরুতর আহত অবস্থায় বাঁশখালী থেকে দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। পরে চিকিৎসকরা তাদের সার্জারি বিভাগে ভর্তি দেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন