ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অভিনেত্রী সারা আলিকে ক্ষমা চাইতে বললেন ভারতের মুফতি


অভিনেত্রী সারা আলিকে ক্ষমা চাইতে বললেন ভারতের মুফতি

বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়ার কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ইসলামি শরিয়তবিরোধী হিসেবে তার কর্মকাণ্ডকে চিহ্নিত করে ইসলামি ধর্মীয় নেতা মুফতি শেহাবুদ্দিন রাজভি বেরেলভি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন। একইসঙ্গে, তিনি সারাকে তওবা করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সারা আলি খান গত ২৫ অক্টোবর কেদারনাথ মন্দিরে যান। সেখানে অন্যান্য ভক্তদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পূজো দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে। মন্দির দর্শনের সেই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আলোচনা এবং সমালোচনা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুফতি শেহাবুদ্দিন একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে সারার মন্দিরে পুজো দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মুসলিমদের অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে পূজা-অর্চনা বা ধর্মীয় আচার পালন করার অনুমতি নেই। তিনি মন্তব্য করেন, এই বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

আরও পড়ুন: ফ্রি ফায়ার গ্লোরি অ্যাওয়ার্ডে এক মঞ্চে গেমিং তারকারা

ভিডিওবার্তায় মৌলানা জানান, কয়েকজন মুসলিম যুবক সারা আলি খানের কেদারনাথ মন্দিরে পূজো দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

মৌলানা সারা আলি খানের মন্দিরে গিয়ে পূজো দেওয়ার এবং সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে এ কাজ অনুচিত। তিনি বলেন, এ জন্য অভিনেত্রীকে তওবা করে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে আল্লাহর কাছে তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলেও দাবি করেন ওই ধর্মীয় নেতা।

এটি প্রথমবার নয় যে সারা আলি খান কেদারনাথ মন্দিরে গেছেন। এর আগে তিনি একাধিকবার সেখানে গিয়েছেন। মন্দিরটির সঙ্গে তার গভীর আবেগের কথাও তিনি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন।

২০১৭ সালে ‘কেদারনাথ’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় সারা ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কেদারনাথ তাকে ব্ল্যাক কফি পান, পাহাড়ে ট্রেকিং এবং পাহাড়ি খাবারের প্রতি ভালোবাসার মতো নানা অভ্যাস ও আগ্রহের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘খলনায়ক’ সিনেমায় নিশো ও চঞ্চল, নতুন উদ্যোগ এসভিএফ আলফা-আইয়ের

২০১৮ সালে মুক্তি পায় অভিষেক কাপুর পরিচালিত ‘কেদারনাথ’ সিনেমা। এতে সারা আলি খানের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধুরীর স্বামী শ্রীরাম জানালেন ২৭ বছরের দাম্পত্যের রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৩ পি.এম


মাধুরীর স্বামী শ্রীরাম জানালেন ২৭ বছরের দাম্পত্যের রহস্য

মাধুরী দীক্ষিতের বিয়ের খবর একসময় বিশ্বের কোটি কোটি অনুরাগীর মন ভেঙে দিয়েছিল। চিকিৎসক শ্রীরাম নেনেকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন বলিউডের এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী, যখন তিনি অভিনয়জীবনের মধ্যগগনে ছিলেন।

দীর্ঘ ২৭টি বছর রূপালি পর্দা থেকে দূরে কাটানোর পরেও, তাদের অটুট ও মধুর দাম্পত্য সম্পর্ক আজও অনেকের কাছে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে। সম্প্রতি, এই দীর্ঘ পথচলার নেপথ্যে কী রহস্য রয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন মাধুরীর স্বামী ডা. শ্রীরাম নেনে।

নেনের সঙ্গে সংসার শুরু করার আট বছর পর, ২০০৭ সালে ‘আজ নাচ লে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল মাধুরীর। এরপর ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ ছবির ‘ঘাগরা’ গানে তার পারফরম্যান্স দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। ২০১১ সালে পাকাপাকি ভাবে মুম্বাইয়ে ফিরে আসার পর ‘ভুলভুলাইয়া ৩’, ‘মিসেস দেশপাণ্ডে’ কিংবা ‘মা বহেন’-এর মতো ভিন্ন স্বাদের প্রজেক্টেও নজর কেড়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

অন্যদিকে, সম্প্রতি নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন শ্রীরাম নেনে। তিনি লেখালেখি ও স্বাস্থ্যসচেতনতার জগতে পা রেখেছেন এবং প্রকাশ করেছেন তার নতুন বই ‘২১ ডেজ টু গুড হেলথ’। বইটির প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা কথা। প্রায় তিন দশকের কাছাকাছি সময়েও কীভাবে দুজনের মধ্যে নিখাদ বোঝাপড়া বজায় রয়েছে, সে বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই চিকিৎসক।

শ্রীরামের কথায়, “মাধুরী আর আমি ভীষণ ভাগ্যবান। আমাদের চিন্তাভাবনা, খাওয়াদাওয়া এবং জীবনযাপনের ধরন অনেকটাই এক। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেই সুন্দর। তবে শুধু বাইরের সৌন্দর্যের জন্য কিছু করবেন না। নিজের কর্মক্ষমতা এবং সুস্থতার জন্য যা প্রয়োজনীয়, তাই করা উচিত।”

দাম্পত্যের সাফল্যের চাবিকাঠি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, একে অপরকে সমান চোখে দেখা এবং পারস্পরিক সম্মানই তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। সংসারে পুরুষের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বা আধিপত্যের ধারণায় তারা একেবারেই বিশ্বাসী নন। বরং দুজনে মিলেই সমান ভাগে সংসার সামলান।

শ্রীরাম বলেন, “আমরা একে অপরের সঙ্গী। আমাদের সংসার পুরনো ধাঁচের নয়, যেখানে একজন পরিবারের প্রধান আর বাকিরা তার ওপর নির্ভরশীল। আমরা দুজনেই একটি পরিবারের সমান অংশীদার। একে অপরকে সম্মান করি। এই পারস্পরিক সম্মানই আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।”

তিনি আরও জানান, সংসারের ছোট-বড় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং জীবনের কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি। এ ছাড়া দুজনেরই নিজস্ব পেশাগত ও কাজের জগৎ রয়েছে, যেখানে কেউ কারো কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করেন না।

এদিকে, মাধুরী ও শ্রীরামের সুস্বাস্থ্যের রহস্য নিয়েও অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। এ প্রসঙ্গে হাসতে হাসতে শ্রীরাম জানান, এর নেপথ্যে কোনো জাদুকরী বা গোপন কৌশল নেই; বরং নিয়মমাফিক জীবনযাপনই তাদের ফিট থাকার চাবিকাঠি।

শ্রীরাম নেনে নিজে বরাবর খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, আর মাধুরীর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নাচ। শ্রীরামের ভাষায়, “আমরা দুজনেই নিয়ম মেনে চলি। শরীরচর্চা এবং শৃঙ্খলা আমাদের জীবনযাত্রার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটাই আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।”

চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর মাধুরী ও শ্রীরামের দাম্পত্য জীবনের ২৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। জীবনের এই দীর্ঘ পথচলায় পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্বের সমবণ্টন এবং সবসময় একে অপরের পাশে থাকাই তাদের সম্পর্কের মূল শক্তি—এমনটাই বিশ্বাস এই তারকা দম্পতির।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিকল্প শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


বিকল্প শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার

বাংলাদেশ সরকার বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বৈচিত্র্য আনতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই উদ্দেশ্যে তরুণ ও যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের বৈশ্বিক কর্মসংস্থান কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হলো অপ্রথাগত আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সুযোগ কাজে লাগানো। এই লক্ষ্যে সরকার বিকল্প ও উদীয়মান আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকার এক কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই মহাপরিকল্পনায় সরকারের মূল লক্ষ্যসমূহের মধ্যে নতুন ও উন্নত বাজারের সন্ধান, উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করা, নিরাপদ অভিবাসন ও দালালচক্র নির্মূল, সম্মানজনক কর্মসংস্থান ও আইনি সুরক্ষা এবং অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নতুন ও উন্নত বাজার সৃষ্টিতে সরকার মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত বাজারের বাইরে ইউরোপ (যেমন: ইতালি, জার্মানি, গ্রিস, রোমানিয়া), জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশের নতুন শ্রমবাজারে জায়গা করে নিতে চায়।

উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করতে দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বহুগুণ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

এদিকে, নিরাপদ অভিবাসন ও দালালচক্র নির্মূল করতে সরকারি বৈধ চ্যানেল এবং আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা এবং বিদেশগমনের খরচ বা অভিবাসন ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

সরকার সম্মানজনক কর্মসংস্থান ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মপরিবেশ ও আইনি ব্যবস্থাপনার মান কঠোরভাবে যাচাই করে কর্মী পাঠাতে চায়, যেন প্রবাসীরা কর্মক্ষেত্রে শোষণমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ পান।

এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সময়ে বৈদেশিক আয়ের ভিত্তি সুদৃঢ় করে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সারাদেশে বর্তমানে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), আধুনিক ড্রাইভিং, নার্সিং, কেয়ারগিভিং, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল এবং হসপিটালিটিসহ মোট ৫৫টি কারিগরি কোর্সে তরুণ-তরুণীদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের প্রধান শর্ত হিসেবে ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, জার্মান ও আরবি ভাষার ওপর বিশেষায়িত ভাষাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

কর্মীদের দক্ষতা যেন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, সেজন্য বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ সার্টিফিকেশন ও স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহের এ ইতিবাচক ধারা শুধু ধরে রাখাই নয়, এর প্রবাহ বাড়াতে সরকার অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে চাহিদাভিত্তিক কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতার পর সম্প্রতি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন উদ্যোগের আওতায় ৩৩৮টি অনুমোদিত ও তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে (জিরো-কস্ট) ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) তত্ত্বাবধানে এ বিশেষ পাইলট কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (এসএসডব্লিউ) নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তিও কার্যকর রয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় জাপানি ভাষায় স্বীকৃত দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট কারিগরি ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সনদধারী বাংলাদেশি কর্মীরা বয়স্কদের সেবাযত্ন, তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ, কৃষি ও আতিথেয়তা খাতে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তাদের আইনি সুরক্ষা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) যৌথভাবে ‘সাপোর্টিং আ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ’ শীর্ষক কাঠামোর আওতায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপের শ্রমবাজারে জনমিতিক পরিবর্তনজনিত শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় নিরাপদ, নিয়মিত ও নথিভুক্ত পথে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মী পাঠানো।

রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল এ আন্তর্জাতিক প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। প্রকল্পের অগ্রগতি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বোয়েসেল ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সমন্বিত অনলাইন ডেটাবেজ ব্যবহার করে ইইউ-স্বীকৃত দক্ষ পেশাজীবীদের সঙ্গে ইউরোপীয় নিয়োগদাতাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছে।

এদিকে, ইতালি সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাক-প্রস্থান ওরিয়েন্টেশন, প্রশিক্ষণ এবং ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ কর্মীরা সরাসরি ইতালির কাজের ভিসা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবা খাতেও সরকার অনুমোদিত স্পনসরশিপ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি নার্স ও কেয়ারগিভারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একই সময়ে জার্মানির নতুন ‘অপরচুনিটি কার্ড’ বা ‘চান্সেনকার্টে’ ব্যবস্থার আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী ও প্রকৌশলীরা দেশটিতে সরাসরি চাকরি খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

পূর্ব ইউরোপের রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া ও হাঙ্গেরি কৃষি, সরবরাহ ব্যবস্থা, ডেলিভারি সেবা এবং আতিথেয়তা খাতে বৈধভাবে দক্ষ কর্মী পাঠানোর গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে কৃষি খাতের মৌসুমি কাজ, নির্মাণ এবং মোটরগাড়ি মেরামত-সংক্রান্ত কাজে নির্দিষ্ট কোটার আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউরেশিয়ার পোশাক ও উৎপাদনশিল্পে অধিক মূল্য সংযোজনমূলক কারিগরি পদের কর্মসংস্থানের সুযোগও প্রতিবছর বাড়ছে। মালদ্বীপ ও সেশেলসের আবাসন, নির্মাণ ও পর্যটন খাতেও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা রয়েছে।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশেষ ডিজিটাল ‘মাইগ্র্যান্ট কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করেছে।

এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্সের ওপর বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা, নির্দিষ্ট বিমা সুরক্ষা এবং বিদেশে জরুরি আইনি সহায়তা সরাসরি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

একই সঙ্গে অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা কার্যকর করছে সরকার।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) পাঠ্যক্রমে বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে পোশাককর্মী সাকিবের মৃত্যু, আহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে পোশাককর্মী সাকিবের মৃত্যু, আহত ২

গাজীপুর মহানগরের নাওজোর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ফলে সাকিব নামে এক পোশাককর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনার সময় আরও দুজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে, প্রায় সোয়া সাতটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৃত সাকিবের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় অবস্থিত। তিনি ওই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে কয়েকজন পোশাককর্মীর সঙ্গে ভাড়া থাকতেন।

গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর রাজিব হোসেন জানিয়েছেন, নাওজোর এলাকায় তিন তলা একটি ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভবনটির নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকের ওপর দুটি কক্ষ নির্মাণ করে পোশাককর্মীদের ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালে হঠাৎ সেপটিক ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণের ফলে ঘটনাস্থলেই সাকিব মারা যান এবং বিস্ফোরণে কক্ষটির দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও জানান, সাকিবের মৃতদেহ বাসন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রামবাসীর চাঁদায় খেলার মাঠের ৬০ শতাংশ জমি কেনা, আনন্দ-উৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪২ পি.এম


গ্রামবাসীর চাঁদায় খেলার মাঠের ৬০ শতাংশ জমি কেনা, আনন্দ-উৎসব

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সকলের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। অবশেষে নিজেদের খেলার মাঠের জমি বুঝে পেয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন গ্রামবাসী।

গ্রামটিতে বসবাস করে সাত শতাধিক পরিবার। জনসংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের বেশি হলেও এখানে কোনো নির্দিষ্ট খেলার মাঠ ছিল না। ফলে ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে খেলাধুলা করা হলেও নতুন করে ফসলের আবাদ শুরু হলে শিশু-কিশোরদের খেলা বন্ধ হয়ে যেত।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেন গ্রামের সন্তান এস এম ইকবাল মাহমুদ ও ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম। কয়েক মাস আগে তাদের আলোচনার মাধ্যমে মাঠের জন্য জমি কেনার পরিকল্পনা শুরু হয়। পরে গ্রামের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসীকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সবাই জমি কেনার পক্ষে মত দেন এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

উদ্যোক্তারা জানান, গ্রামের কেউ ২০০ টাকা, কেউ ৫০০ বা এক হাজার টাকা দিয়েছেন। আবার সামর্থ্য অনুযায়ী কেউ দুই হাজার, পাঁচ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা করেছেন। ইকবাল মাহমুদ, খোরশেদ আলমসহ গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ দিয়ে উদ্যোগটি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন।

সবার দেওয়া অর্থে গ্রামের ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়। প্রতি শতাংশ জমির দাম নির্ধারণ করা হয় ৫২ হাজার টাকা। জমির মালিকও এক শতাংশ জমি দান করেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে জমিটি গ্রামবাসীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এ উপলক্ষে সকাল থেকেই গ্রামে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জমিতে জড়ো হন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি গ্রামের প্রবীণদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন তরুণেরা। দিনভর চলে আনন্দ-উৎসব।

উদ্যোক্তা খোরশেদ আলম বলেন, আপাতত ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। এর পাশে আরও ৬০ শতাংশ জমি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ১২০ শতাংশ জমি পাওয়া গেলে সেখানে একটি ভালো মানের খেলার মাঠ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই মাঠকে কেন্দ্র করে গ্রামের ক্রীড়াচর্চা এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।

নতুন মাঠ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গ্রামের শিশু-কিশোরেরাও। কিশোররা জানায়, আগে ধান কাটার পর খেতে খেলাধুলা করা গেলেও ফসলের আবাদ শুরু হলে আর খেলার সুযোগ থাকত না। এখন সারা বছর খেলার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা আনন্দিত।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল মান্নান ব্যাপারী বলেন, একটি খেলার মাঠের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছেন। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় গ্রামের সবাই আনন্দিত।

বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও মোনালিসা উইমেন্স স্পোর্টস একাডেমির পরিচালক মোনালিসা মুন্নি বলেন, গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি খেলার মাঠ। সম্মিলিত উদ্যোগে সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়া বড় অর্জন।

অন্যদিকে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা ছাড়াই গ্রামবাসীর নিজেদের অর্থায়নে জমি কেনার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা। তার মতে, বাবুপুরের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য গ্রামের মানুষকেও নিজেদের প্রয়োজনে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%