০৭:৩০ এম
বরিশাল নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আলোচিত মাদক কারবারি রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’কে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫৭ বোতল ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’ বরিশাল নগরীর আলোচিত সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেলের অন্যতম সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রের দাবি।
সোমবার রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে নগরীর আলেকান্দা রিফিউজি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে রফিককে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে রাব্বি, রানা, মিঠুন মৃধা ও সিফাত নামের আরও কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫৭ বোতল ফেনসিডিল ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আলেকান্দা রিফিউজি কলোনির বাসিন্দা রফিক দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কীর্তনখোলা নদীর পূর্বতীরের হিরননগর, কাজীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় তার মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিকের মাদক ব্যবসার কারণে ওইসব এলাকার তরুণ ও যুবকদের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রফিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রফিকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংবাদকর্মী মাছুদুর রহমান আসলামকে হুমকির অভিযোগ
সংবাদকর্মী মাছুদুর রহমান আসলামকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিক’ নতুন করে আলোচনায় আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসংলগ্ন সড়কে সন্ত্রাসী নাক কাটা রুবেলের সঙ্গে রফিক সংবাদকর্মী মাছুদুর রহমান আসলামকে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এর অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পুলিশের ওপর হামলা করে পালানোর অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অতীতে রফিককে গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের পরিবর্তনের পর রফিক ওরফে ‘গাঁজা রফিককে’ মাদকসহ দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিকের পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মাদক ব্যবসার অর্থে আলেকান্দা রিফিউজি কলোনিতে একটি বহুতল ভবন ও বিপুল পরিমাণ জমি অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাতে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রফিককে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে রফিকের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও মামলাগুলোও আইনগত প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন