ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুলিয়ারচরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় স্কুলছাত্রীর বাড়িতে হামলা, মারধরের অভিযোগ


কুলিয়ারচরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় স্কুলছাত্রীর বাড়িতে হামলা, মারধরের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক স্কুলছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। দিনের আলোয় এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বড় বোন বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছিল। সর্বশেষ এর প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দিনের বেলায় শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে হামলা ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের নাম অনিক (১৯)। তার বাবা খোকন ও মা শারমিন। তাঁদের বাড়ি কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গালকাটা এলাকায়। তবে অনিক ছোটবেলা থেকেই মাধবদী গ্রামে তার নানাবাড়িতে বসবাস করে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হামলার পর স্কুলছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সে স্কুলে যেতেও ভয় পাচ্ছে। অভিযোগ দায়েরের পর ফের হামলার আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় একজন স্কুলছাত্রীর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইভটিজিং ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রামীণ মানুষের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:০৮ পি.এম


গ্রামীণ মানুষের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতির কঠিন সময়ে গ্রামীণ মানুষের অবস্থার দিকে নজর দিয়ে প্রকল্প গ্রহণের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এ কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরকার সরে এসেছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স অন ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড এসডিজি’র সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী গ্রামাঞ্চলের কারিগরদের তৈরি শীতলপাটি, মৃৎশিল্প, তাঁত, কামার-কুমারের পণ্য, এবং রুপার গয়নাসহ বিভিন্ন পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের বিষয়টি বাতলে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব পণ্যের উন্নতির জন্য আলিবাবা, অ্যামাজন ও ইবের মতো আন্তর্জাতিক অনলাইন বিপণন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যেতে উন্নত কাঁচামাল, নকশা, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তা দেওয়া হবে।

আমির খসরু বলেন, ‘শুধু কারিগরদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানই যথেষ্ট নয়। তাদের পণ্যের মান বাড়াতে উন্নত কাঁচামাল, নকশা, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণন সহায়তা প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। তবে তাদের তৈরি পণ্যের সঠিক মূল্য তারা পাচ্ছে না।’

থাইল্যান্ডের ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের উদাহরণ উল্লেখ করে, আমির খসরু বলেন, থাইল্যান্ডের গ্রাম পর্যায়ের মানুষকে দক্ষতা উন্নয়ন, কাঁচামাল, নকশা ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরে, এখানে উৎপাদিত পণ্যগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের আগ্রহ রয়েছে।

তবে, এই কাজ একা করার পক্ষে নয় জানিয়ে, তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কারিগরদের কাছে নকশা, কাঁচামাল, ঋণ ও বাজারসংযোগ পৌঁছানোর জন্য বেসরকারি খাত ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোরও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।

সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় শুধুমাত্র গ্রামীণ কারিগরদেরই নয়, থিয়েটার, সংগীত ও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান আমির খসরু। এসব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর করলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় নিরাপদ নৌ-চলাচলে কর্তৃপক্ষের ৩ নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় নিরাপদ নৌ-চলাচলে কর্তৃপক্ষের ৩ নির্দেশনা

চট্টগ্রাম, ১২ আগস্ট, ২০২৬: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনটি নির্দেশনা জারি করেছে। বন্দরসীমা, বহির্নোঙরে জাহাজের নিরাপত্তা, অননুমোদিত নৌযান চলাচল এবং অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপনের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণেই সংস্থাটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ‘চট্টগ্রাম বন্দরসীমায় নৌ-নিরাপত্তা জোরদার, বহির্নোঙরসহ বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এণ্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ জোরদারের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় টহল, নজরদারি, সমন্বয় ও সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, পুলিশ, নৌপরিবহণ অধিদপ্তর, মার্কেন্টাইল মেরিন অফিস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনুরোধ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের ওয়াচম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়াচম্যান বুকিং সেল-এর সুপারিশ ও অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনটি নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- (১) চট্টগ্রাম বন্দরসীমা ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত সব জাহাজে আইএসপিএস কোড এবং প্রচলিত বন্দর নিরাপত্তা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। জাহাজ বহির্নোঙরে আগমনের পর থেকেই সার্বক্ষণিকভাবে অ্যাঙ্কর ওয়াচসহ ভিএইচএফ চ্যানেল ১৬ এবং ১২-তে মনিটরিং, নিয়মিত ডেক পেট্রোল এবং পর্যাপ্ত সিকিউরিটি লাইটিং বজায় রাখতে হবে। পোর্ট কন্ট্রোলের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো অননুমোদিত নৌযান, ফ্রেশ ওয়াটার বার্জ, সার্ভিস বোট বা অন্যান্য নৌযান জাহাজের পাশে ভিড়তে পারবে না। কোনো সন্দেহজনক নৌযান, ব্যক্তি বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনা পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে পোর্ট কন্ট্রোল এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে জানাতে হবে।

(২) বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়াচম্যান বুকিং সেল থেকে ওয়াচম্যান নিয়োগের জন্য জাহাজের মাস্টার ও শিপিং এজেন্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়। নিযুক্ত ওয়াচম্যানদেরকে জাহাজের নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।

(৩) চট্টগ্রাম বন্দরসীমা, প্রবেশপথ এবং বহির্নোঙর এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা, মাছ ধরার জাল স্থাপন অথবা ফিশিং বোট দ্বারা নৌ-চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এই ধরনের কার্যকলাপ জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য মহৎ ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামীর জানাজার ৫ মিনিট আগে স্ত্রীর মৃত্যু, একসঙ্গে দাফন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


স্বামীর জানাজার ৫ মিনিট আগে স্ত্রীর মৃত্যু, একসঙ্গে দাফন

কুমিল্লার চান্দিনায় স্বামীর জানাজার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, এতে পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রাণীচড়া গ্রামে হৃদয়বিদারক এই ঘটনা প্রকাশ পায়। পরে একই সময়ে স্বামী এবং স্ত্রীর জানাজা শেষে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।

নিহত দম্পতি হলেন রাণীচড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৬১) এবং তার স্ত্রী সালেহা বেগম (৫৬)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে আব্দুস সাত্তার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তাকে পরে ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু ঘটে।

মঙ্গলবার বাদ জোহর তার জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়। জানাজার প্রস্তুতি নিতে বাড়িতে মরদেহ আনা, কফিন প্রস্তুত করা, কবর খোঁড়াসহ দাফনের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। স্বজন ও স্থানীয়রা জানাজার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মসজিদে আজানও হয়ে যায়।

জানাজায় যাওয়ার প্রস্তুতির ঠিক পাঁচ মিনিট আগে হঠাৎ আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সালেহা বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের পরিবেশ আরো ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মোশারফ হোসেন জানান, আব্দুস সাত্তার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রায় দেড় বছর আগে অবসর নেন। তার স্ত্রী সালেহা বেগমও এক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং এর আগে তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

মোশারফ হোসেন বলেন, স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোকে সালেহা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এমন ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মৃত্যুকালে আব্দুস সাত্তার ও সালেহা বেগম দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। পরে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের একই সঙ্গে জানাজা এবং দাফন করা হয়। স্বামীকে হারানোর শোকের মাঝেই স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় রাণীচড়া গ্রাম তথা আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে নতুন শহর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


বাংলাদেশে নতুন শহর উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০২৬ : বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশে নতুন শহর উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে আরো বড় ভূমিকা রাখতে চায় কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি (কোটরা)। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, স্মার্ট সিটি সমাধান এবং কোরীয় প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগানোর ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।

ঢাকায় কোটরার উপপরিচালক লি সাং-হুন (ড্যানিয়েল লি) বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বাংলাদেশে অবকাঠামো ও নতুন শহর উন্নয়ন প্রকল্পে কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে কোটরা কাজ করছে।

গত মার্চে বাংলাদেশে নতুন শহর উন্নয়নে সহায়ক ছয়টি অবকাঠামো প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কোটরা প্রায় ৩৫ লাখ মার্কিন ডলারের একটি সরকারের উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) প্রকল্প চালু করেছে। আগামী তিন বছর এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলবে।

লি বলেন, কোরিয়ার অর্থনৈতিক উদ্ভাবন অংশীদারত্ব কর্মসূচির (ইআইপিপি) আওতায় ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনের (এনএসইজেড) স্মার্ট সিটি উন্নয়নের জন্য পানি সরবরাহ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ই-লজিস্টিকস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাত চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে অবকাঠামো, স্মার্ট সিটি, পরিবহন, রেলপথ, বন্দর, পানি ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সহ উদীয়মান খাতে বাংলাদেশে কোরীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে কোটরার ভূমিকা আরো বাড়ছে।

‘আমরা কোরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করি’Ñ এই মন্তব্য করেন লি। তিনি বলেন, কোরীয় কোম্পানির জন্য ক্রেতা খুঁজে বের করা, ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন, অবকাঠামো ও আইসিটি প্রকল্পের দরপত্রে অংশগ্রহণে সহায়তা ও বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পরামর্শ দেয় কোটরা।

কোটরা এখনো বাংলাদেশে নিজস্ব কার্যালয় নেইÑ এমন কোরীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের বাজার পরিচালনার উদ্দেশ্যে শাখা কার্যালয় সেবাও দিয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি নেওয়া একটি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে লি বলেন, জুনে কোটরা ঢাকা এবং ঢাকায় নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস যৌথভাবে অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক একটি প্রদর্শনী ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রায় ৪০টি কোরীয় কোম্পানি এবং বাংলাদেশের ২২টি সরকারি সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

উক্ত আয়োজনে পরিবহন, বিদ্যুৎ, পানি, স্মার্ট সিটি, ডিজিটাল সরকারব্যবস্থা, শিল্পের আধুনিকায়ন এবং তৈরি পোশাক খাতে বিধিবিধান মেনে চলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

লি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে কোরিয়ার প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও বিনিয়োগ সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো।

তিনি জানান, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও সবুজ প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন শহর উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) উদ্যোগ নিয়েও কোটরা কাজ করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই এবং প্রযুক্তিনির্ভর নগরায়নে কোরিয়ার বৃহত্তর আগ্রহের প্রতিফলন ঘটছে।

বাংলাদেশে কোটরার কার্যক্রমের শিকড় তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেন লি। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭৮ সালে কোরিয়ার দেউ কর্পোরেশন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি পোশাক খাতে প্রবেশ করে।

তখন বাংলাদেশের শ্রমিকরা কোরিয়ার উৎপাদনকেন্দ্রে গিয়ে সেলাইয়ের কৌশল ও কারখানা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পরে দেশে ফিরে তারা অর্জিত জ্ঞান স্থানীয় শিল্পে ছড়িয়ে দেন।

লির ভাষায়, এটিই ‘কোরিয়া এবং কোটরার বাংলাদেশে রেখে যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার’। তার মতে, জ্ঞান এবং দক্ষতা হস্তান্তরের ওই প্রক্রিয়া বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং দেশটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার পথ তৈরি করে।

পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাক খাতে কোরীয় বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি পায়। ইয়াংওয়ান কর্পোরেশনও যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করে এবং বাংলাদেশকে বড় ধরনের পোশাক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখে।

চট্টগ্রামের কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) কথাও উল্লেখ করেন লি। তিনি বলেন, প্রায় ৯৯২ হেক্টর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চল একটি স্থায়ী শুল্কমুক্ত শিল্পাঞ্চল।

‘বাংলাদেশে নিজ নামে একটি বিশেষ শিল্পাঞ্চল রয়েছে, এমন একমাত্র দেশ কোরিয়া’Ñ এই মন্তব্য করেন লি। তার মতে, কেইপিজেড দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক।

বর্তমানে বাংলাদেশে কোটরার কার্যক্রম ভোক্তা পণ্য, সরকারি ক্রয়, সড়ক, পরিবহন, রেলপথ, বন্দর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সবুজ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রকল্প এবং সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ)-সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন উদ্যোগসহ বিস্তৃত খাতে ছড়িয়ে পড়েছে।

লি বলেন, ব্যবসার সুযোগ চিহ্নিত করা, বাংলাদেশি ক্রেতা ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি, ব্যবসায়িক বৈঠকের আয়োজন, স্থানীয় প্রদর্শনীতে কোরীয় প্যাভিলিয়ন পরিচালনা এবং বাংলাদেশে বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোরীয় কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করে কোটরা।

গত জুনে যমুনা ফিউচার পার্কে অনুষ্ঠিত ‘কে-গুডস ফিয়েস্তা ২০২৬’-এর উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ওই আয়োজনের মাধ্যমে কোরিয়ার ভোক্তা পণ্য সরাসরি বাংলাদেশের ভোক্তা, আমদানিকারক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পরিচিত করা হয়।

বাংলাদেশে কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার পরিমাণ কয়েকশ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ক্রমপুঞ্জীভূত বিনিয়োগ এবং শতাধিক কোরীয় কোম্পানির কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে জানান লি।

তবে তার মতে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূল্যায়ন শুধু বিনিয়োগের অঙ্ক দিয়ে করা উচিত নয়।

লি বলেন, ‘আমরা বরং এটিকে বেশি মূল্য দিই যে, কোরিয়া এই দেশে একটি পুরো শিল্পের ভিত্তি গড়ে উঠতে সহায়তা করেছে এবং আজও আমরা প্রতিবছর নতুন নতুন খাতে একই কাজ করে চলেছি।’

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতেও নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং কোরীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ তৈরিতে কোটরা কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে অবকাঠামো, নতুন শহর উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রকল্পকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%