০১:০৮ এম
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতায় সংগঠনটির অভ্যন্তরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আগ্রহও বেড়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে রবিন-আকরাম নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসছেন—তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা
দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের প্রত্যাশা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহাম্মেদ এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম মাওলা গোলাপ।
এ ছাড়া সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন সোহেল, সহ-সভাপতি কাউসার খান, সহ-সভাপতি নেছার উদ্দিন রুজেনসহ আরও কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান সিজার, মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান মিন্টু, সদ্য সাবেক দপ্তর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ রাফি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জীবন, মুক্তাদির ভূঁইয়াসহ আরও কয়েকজন নেতা।
আলোচনায় থাকা কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রত্যেকেই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরছেন।
জাকারিয়া খান সিজার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত নেতার গণজোয়ারের দাবি, নির্বাচনে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশের আশাবাদ
ইকবাল হোসেন সোহেল বলেন, “দলের দুঃসময়ে আমি মাঠে ছিলাম নিবেদিত প্রাণ হিসেবে। আগামীতেও থাকব। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।”
মেহেদী হাসান জীবন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে শহীদুল ইসলাম বলেন, ছাত্র রাজনীতির কঠিন সময়ে তিনি মিছিল-মিটিংয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। নতুন নেতৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখছেন তিনি।
কাউসার খান বলেন, “ছাত্রদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছি। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম, আগামীতেও থাকব। নতুন কমিটিতে কে কোন দায়িত্ব পাবেন, সেটি সম্পূর্ণভাবে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বিষয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই আমরা মেনে নেব। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
আরও পড়ুন: সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে বাবার দাফনে বাধা সন্তানরা
পদপ্রত্যাশী নেতারা প্রত্যেকেই নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নির্ধারিত হবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন