বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:১৫ পি.এম
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বটি দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপুকে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের ফ্যাক্সের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্যের নাম ঘোষণা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই ঘোষণার সাথে সাথে বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তবর্তীকালীন ৮ম চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বড় ভাই কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সদস্যরা হলেন- ১. শাশ্বত চাকমা, রাঙ্গামাটি সদর, ২. বিল্টু চাকমা, বাঘাইছড়ি, ৩. সুবিমল চাকমা, বরকল, ৪. অনিল বরণ চাকমা, জুরাছড়ি, ৫. উথোয়াইমং মার্মা, কাপ্তাই, ৬. পাইচিং মং মার্মা, কাউখালী, ৭. প্রেমা তালুকদার, রাজস্থলী, ৮. তিমথী খিয়াং, রাজস্থলী, ৯. সুপর্ণ দেব বর্মন, গর্জনতলী, রাঙ্গামাটি, ১০. মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, তবলছড়ি, রাঙ্গামাটি, ১১. তোফাজ্জল হোসেন, লংগদু, ১২. মোহাম্মদ ফারুক, গর্জনতলী, রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ১৩. নন্দিতা দাশ, মাষ্টার কলোনী, রাঙ্গামাটি পৌরসভা, ১৪. চন্দ্রা চাকমা, রাজদ্বীপ পাড়া, রাঙ্গামাটি পৌরসভা।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, ১৯৮৯ এবং এই আইনের সব সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সব দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর প্রেরিত প্রজ্ঞাপন দ্বারা গঠিত পরিষদ বাতিল করা হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদারকে দায়িত্ব দেওয়ার খবরে পাহাড়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে জেলা পরিষদের নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর তাঁর দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দীপন তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০২৩ সালে ঘোষিত রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচনের আয়োজনের দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন দীপন তালুকদার। তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারের সদিচ্ছায় নির্বাচন হলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যদিয়ে পরিষদের কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে-এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন, কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে নতুন চেয়ারম্যানের কাছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দল-মত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমান সুযোগ এবং দুর্গম এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জেলা পরিষদের নেতৃত্ব শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সকল পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব পরিষদ পরিচালনা করা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীপন তালুকদারের নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় কৃষি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের মধ্যে বিদ্যমান সেবা-সংক্রান্ত ঘাটতি চিহ্নিতকরণ করার জন্য এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় কৃষি সেবা সহজ ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তঃসংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই সভাটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কলাপাড়া কৃষি অফিসের সভাকক্ষে জাগোনারী প্রদৃপ্ত প্রকল্পের আয়োজনে কেয়ার বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
প্রদৃপ্ত প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাফর আলম সভাটির সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস এবং কেয়ার বাংলাদেশ-এর টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর সাবাহ সাবনম।
সভায় কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি এবং বেসরকারি কৃষি সেবার সুযোগ, সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা এবং সেবা প্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সেবা ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথি সভায় বলেন, কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং কৃষক ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং রোগব্যাধীও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই জমিতে কৃষকদের রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়ে জৈব সার ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি কৃষকদের সরকারি কৃষি সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান। তিনি কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পৃথক অভিযানে তিনটি বেকারি সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মোট ৯৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড পেয়েছে।
২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মংচিংনু মারমা পরিচালিত অভিযানে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ফকিরা বাজারের আর রহমান বেকারী, ঈদগাঁও ইউনিয়নের জাগির পাড়ার আনন্দ বেকারী এবং জালালাবাদ ইউনিয়নের সওদাগর পাড়ার নিউ ঢাকা বেকারীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া, ঈদগাঁও বাজারে ফুটপাত দখলের দায়ে দুইজনকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রধান সড়ক দখল করে ট্রাক পার্কিং ও মালামাল আনলোড করার দায়ে কামাল উদ্দিনের মুদির দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়।
অভিযানে ঈদগাঁও থানার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি দল সহযোগিতা করে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বায়ু ও শব্দদূষণ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এজন্য নগরবাসী বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং উন্মুক্ত স্থানের ধূলার কারণে বায়ুদূষণ বছরের পর বছর ধরে নগরবাসীর মধ্যে ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে।
একদিকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন, আবাসিক এলাকার আশপাশে অবস্থিত ওয়েল্ডিং ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ থেকে সৃষ্ট শব্দদূষণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন অভিজাত আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ জেনারেটরের শব্দও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। এসব কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শব্দদূষণের মাত্রা প্রায় ২০০ ডেসিবেলে পৌঁছেছে, যেখানে সহনীয় মাত্রা ৬০ ডেসিবেল।
পরিবেশবিদরা বলেছেন, হাজার হাজার ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে সৃষ্ট বায়ুদূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ সহনীয় হার ৬৫ শতাংশ হার্টিজ স্মোক ইউনিটের বিপরীতে ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, ধুলাবালির দূষণও ৫০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হয়েছে। অথচ সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেটস ম্যাটারের ক্ষেত্রে সহনীয় মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ২০০ মাইক্রোগ্রাম হিসেবে বিবেচিত হয়।
অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট মোড়, জিইসি মোড়, নিউমার্কেট, আগ্রাবাদ ও আন্দরকিল্লাসহ কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং উন্মুক্ত স্থানের ধূলা একত্রিত হয়ে নগরীর বায়ুর মান ভয়াবহভাবে অবনতি ঘটাচ্ছে।
নগরীর বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী নোহা আক্তার বলেন, ‘পাশের কক্ষ থেকে আমার মা জোরে ডাকলেও আমি শুনতে পাই না। কারণ পাশের আবাসিক ফ্ল্যাট ও ওয়েল্ডিং কারখানার জেনারেটর থেকে প্রচণ্ড শব্দ হয়।’
চকবাজার এলাকার শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমি সাধারণত রাতে পড়াশোনা করি। কিন্তু অতিরিক্ত শব্দের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘুমানোও যাচ্ছে না। ভারী যানবাহনের শব্দ শুনে আমার সন্তানরা প্রায়ই ভয় পেয়ে ঘুম থেকে উঠে কান্না করে।
বাসসের সঙ্গে আলাপকালে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুস সাত্তার বলেন, দীর্ঘসময় ধরে শব্দদূষণের মধ্যে থাকলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েই পুরোপুরি শ্রবণশক্তি হারাতে পারেন।
তিনি জানান, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ ধরনের পরিবেশগত অবনতি অব্যাহত থাকলে নগরবাসীর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের রোগ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ওয়েল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও লেদ মেশিন, লোহার কারখানা এবং জেনারেটর আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরে স্থাপন করতে হবে।
বিদ্যুৎ জেনারেটরও ভূগর্ভে স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারখানা ও ওয়েল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক এবং আবাসিক ভবনের ডেভেলপাররা এ পরিস্থিতি নিয়ে করা অভিযোগের প্রতি কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় ৩২টিরও বেশি হালকা ও ভারী যানবাহন ফিটনেস সনদ ছাড়াই চলাচল করছে। এসব যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, তারা প্রতি ছয় মাস পরপর এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহনের তথ্য নগরী ও জেলার ট্রাফিক বিভাগে পাঠায়, যাতে যানবাহনগুলো পরীক্ষা করে কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর এক কর্মকর্তা বাসসকে বলেন, সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকদের নিয়মিত নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। তাদের যানবাহন সংস্কার, ফিটনেস সনদ নবায়ন এবং সড়ক কর পরিশোধের জন্যও তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা দাবি করেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ এবং মহানগর ও জেলা পুলিশের সহায়তায় তারা ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক/জনসংযোগ) আমিনুর রশীদ বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন শুধু বায়ু ও শব্দদূষণই সৃষ্টি করে না, এগুলো যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার জন্যও দায়ী।
তিনি যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন বাসসকে বলেন, তারা বায়ু ও শব্দদূষণ কমাতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। ২০০৮ সাল থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমনের দায়ে বিপুলসংখ্যক ফিটনেসবিহীন যানবাহনকে জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শব্দদূষণ নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে লক্ষ্মীপুর থেকেই নতুন করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের সূচনা করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের ডিলার, ব্যবসায়ী, অর্থের জোগানদাতা, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং সেবনকারী—সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদকবিরোধী র্যালি ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সমাবেশ লক্ষ্মীপুর টাউন হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী আরও জানান, “এটাই মাদক নির্মূলের সময়। মানুষকে মাদকমুক্ত সমাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত জনপদ উপহার দিতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য মাদকের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি জানালেন, গত ১৬ আগস্ট থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতাধীন ১১টি জেলায় সর্বাত্মক মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযান শুরুর পর কুমিল্লায় তিন লাখ পিস ইয়াবার একটি বড় চালান আটক করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ডিআইজি আরও বলেন, “আগে বড় চালান আটক হলে অনেক সময় শুধু ক্যারিয়ারদের আইনের আওতায় আনা হতো। এবার তা হবে না। মাদক চক্রের মূলহোতা থেকে শুরু করে অর্থের জোগানদাতা ও বিক্রেতা—যারা যে পর্যায়েই জড়িত থাকুক, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, মাদক নির্মূল করা সম্ভব হলে অন্যান্য অপরাধও স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের প্রতিটি মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর পরে লক্ষ্মীপুর টাউন হল অডিটোরিয়ামে হল থেকে শুরু হয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের প্রধান সড়কে মাদকবিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ গিয়ে শেষ হয়।
জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাবুদ্দিন সাবু, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ