বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:২২ এম
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ফলে বিপর্যস্ত অবস্থায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,২৯৫ জনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মৃতের পরিবারের সদস্যরা জীবিত স্বজনদের ফেরার আশা ছাড়ছেন না। কিন্তু উদ্ধারকাজে ধীরগতির জন্য আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অনেক কমে যাওয়ার মতামত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ দেশের উপকূলীয় অঞ্চল শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। লা গুয়াইরা শহরের ধসে পড়া ভবনগুলোতে কেউ আর জীবিত অবস্থায় নেই, এটি নিশ্চিত হয়ে উদ্ধারকর্মীরা সেগুলোকে 'মৃত' বা 'D' চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করছেন। প্রতিদিন ধ্বংসস্তূপ থেকে অসংখ্য মৃতদেহ বের করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও স্বজনেরা জীবিত প্রিয়জন ফিরে পাওয়ার আশা পুরোপুরি ছাড়েননি। তবে সময়ের সাথে সাথে তাদের সেই আশা নিভে আসছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের খোঁজের চেয়ে টিকে থাকার লড়াই এখন বড় হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে, তীব্র খাদ্য ও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ত্রাণ শিবিরের সামনে খাবারের জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার এবং কাড়াকাড়ি চলছে, যা চরম বিশৃঙ্খলার দিকে পরিচালিত করছে। এর মধ্যে ব্যাপক চুরি ও লুটপাটও দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘকাল ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য খাত আগে থেকেই দুর্বল ছিল। বর্তমানে রাজধানী কারাকাসের হাসপাতালগুলো আহত মানুষের ভিড়ে উপচে পড়ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতির কারণে চিকিৎসকরা কেবল গুরুতর রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে হাম ও ডিপথেরিয়ায় সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা সতর্ক করা হয়েছে।
চরম মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার ৫ লাখ মানুষের তিন মাসের খাবারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৫ কোটি ডলারের সহায়তা চেয়েছে।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক সাহায্য, প্রয়োজনীয় তহবিল এবং উদ্ধারকাজের ভারি যন্ত্রপাতি পৌঁছানোর পথ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, তাও এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা নেই। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এই সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় প্রদান করেছে।
এর ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন আর কোনো আইনি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে না। সম্প্রতি শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সংকট দূর করার জন্য ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশের কারণে ওই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে একটি আবাসিক ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
এ ঘটনা ঘটে বুধবার (১ জুলাই) রাতে, রাত পৌনে ১২টার দিকে, কাঁঠালবাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে। পরে দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার বাংখালী গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল (২০), একই এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে মো. রানা (২২) এবং মানিক মিয়ার ছেলে মো. পারভেজ (২১)।
মো. রাজিব নামের একজন ব্যক্তি দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি জানান, রাতের দিকে কাঁঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ওই বাসার নিচতলায় হঠাৎ সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সেখানে থাকা ওই তিনজনই দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে সব তিনজনই পান্থপথে ফার্নিচার দোকানে কাজ করেন।
রাজিব আরও জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদেরকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানালেন, কলাবাগানের কাঁঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকা থেকে তিনজন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে জুয়েল ৩০ শতাংশ, রানা ৬৩ শতাংশ এবং পারভেজ ২১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, রানাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে এবং জুয়েল ও পারভেজকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, কলাবাগান কাঁঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকা থেকে তিনজন দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল বার্নে এসেছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের মধ্যে একজন আইসিইউতে এবং বাকি দুইজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়েছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কের পাশে অবস্থিত ফেয়ার পার্কে জমকালো আয়োজনে শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা। তবে মেলার মূল উদ্দেশ্যকে ছাপিয়ে এখন প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মরণনেশা 'লটারি জুয়া'। মহামান্য হাইকোর্টের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পুরো জেলা জুড়ে প্রকাশ্যে চলছে এই অবৈধ লটারির টিকিট বিক্রি। আর এই লটারির ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে লটারিতে দেওয়া হচ্ছে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভি ও নগদ অর্থসহ নানা লোভনীয় পুরস্কারের অফার। মেলা প্রাঙ্গণ ও পুরো জেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মাইকিং ও অটোরিকশা দিয়ে চলছে টিকিট বিক্রির মহোৎসব। পুরস্কারের আশায় ঘরে থাকা জমানো টাকা এবং দৈনন্দিন উপার্জনের অর্থ দিয়ে বান্ডিল কে বান্ডিল টিকিট কিনছেন খেটে খাওয়া মানুষ।
লটারির ড্র-এর সময় সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য একটি অবুঝ শিশুর চোখ বেঁধে টিকিট তোলানো হয়। এই চতুর কৌশল দেখে পুরস্কার পাওয়ার আশায় মানুষ আরও বেশি প্রলুব্ধ হচ্ছে এবং নিজের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের মতে, এই লটারি জুয়া যে অঞ্চলে একবার হানা দেয়, সেখানকার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। মেলার নামে এই জুয়া বন্ধ না হলে মেলা শেষ হওয়ার পর এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো মারাত্মক অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ: "উন্নয়নের নামে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার অনুমতি নিয়ে কীভাবে প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অবৈধ লটারি জুয়া চলে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অবিলম্বে এই মরণনেশা লটারি বন্ধ করা না হলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটবে।"
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলা এই অবৈধ জুয়া খেলা বন্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য নীলফামারীর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাধারণ মানুষকে এই সর্বনাশা প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতি দ্রুত প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সৈয়দপুরবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও থেমে নেই ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। আন্দোলনে ‘তেলাপোকা’-দের পক্ষ থেকে সংহতি জানাতে একের পর এক বিরোধী শিবিরের নেতারা এগিয়ে আসছেন। এমনকি, লাদাখের জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক অনশনে রয়েছেন, যিনি জেনজিদের মহারণে চালিকা শক্তি হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরম উপেক্ষা করে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে অবস্থান করছেন শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী এবং আন্দোলনকারী। বিপদে পড়া পুলিশি ব্যারিকেড এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও চলছে স্লোগান, বক্তব্য এবং প্রতিবাদ। এই তরুণদের একমাত্র দাবি হল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্রচারণা থেকে উদ্ভূত 'ককরোচ জনতা পার্টি' বর্তমানে ভারতের তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহির দাবির একজন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
মেডিকেলে ভর্তির নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। পূর্বে পুনঃপরীক্ষা হলেও তারা রাজপথ থেকে যাননি।
তাদের দাবি, মন্ত্রীর পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নফাঁস রোধে স্বাধীন তদারকি, স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। এই আন্দোলনের সূচনা ভারতের প্রধান বিচারপতির 'তেলাপোকা' মন্তব্যে হয়েছে। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ আরও অনেক দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপের মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি গঠিত হয়।
আন্দোলনে নতুন শক্তি এনেছে পরিবেশবাদী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও সমর্থকদের দাবি, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তবে তিনি আন্দোলন চাল রাখতে চেয়েছেন। আন্দোলনের স্থানে প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যার অভিযোগ থাকা শিক্ষার্থীদের স্মরণেও তৈরি করা হয়েছে একটি স্মৃতি দেয়াল।
এখন আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাগরিকা ঘোষ, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, সিপিআই এবং সিপিএমসহ বেশ কিছু বিরোধী দল এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে। তবে বিজেপি সিজেপিকে 'নতুন ভাইরাস' এবং 'তেলাপোকার মতো দল' বলে সমালোচনা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ