রায়হান আলী , নীলফামারী স্টাফ রিপোর্টার
১০:১২ এম
আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশ ও বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় দিন—জুলাই বিপ্লবের সূচনার বর্ষপূর্তি। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল, তা শেষ পর্যন্ত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চেপে থাকা স্বৈরাচারী শাসনের শিকল ভেঙেছিল। সেই বিপ্লবের চেতনা যেমন আমাদের গর্বের, তেমনি সেই বিপ্লব রেখে গেছে অসংখ্য মানুষের জীবনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত।
সেই ক্ষতগুলোর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ সাংবাদিক রায়হান আলী। যিনি জুলাই বিপ্লবের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ হারিয়েছেন শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা, লড়ছেন এক কঠিন ভবিষ্যতের সঙ্গে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনই যেন কাল হলো
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। নীলফামারীর চৌরঙ্গীর মোড়ে উত্তাল আন্দোলনের দৃশ্য কভার করছিলেন সাংবাদিক রায়হান আলী। জনতার কণ্ঠস্বর ও সত্য তুলে ধরার যে ব্রত নিয়ে তিনি ক্যামেরা হাতে মাঠে নেমেছিলেন, সেই দায়িত্ব পালনই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পুলিশের বেপরোয়া ও নির্বিচার হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তার শরীরের ডান পা পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায় এবং মেরুদণ্ডে (স্পাইনাল কর্ড) গুরুতর আঘাত পান তিনি।
থাইল্যান্ডের হাসপাতালে লড়াই
আঘাতের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, দেশের চিকিৎসায় অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে থাইল্যান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ব্যাংককের ভেজথানি (Vejthani) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে এই শারীরিক লড়াই। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি ভুলতে পারেন না সেই উত্তাল জুলাইয়ের কথা, ভুলতে পারেন না তার চার বছরের অবুঝ সন্তানের মুখটি। যে শিশুটি তার বাবার সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, আজ সেই বাবার এমন করুণ দশা কারো কাম্য নয়।
জুলাই আমাদের স্মৃতির আয়না
রায়হান আলীর মতো অনেকের আত্মত্যাগেই আজকের নতুন বাংলাদেশ। সাংবাদিকরা যখন গুলির সামনে দাঁড়িয়ে সংবাদ সংগ্রহ করেন, তখন তারা কেবল ঘটনার বিবরণ দেন না, তারা ইতিহাসের দলিল তৈরি করেন। রায়হান আলীর এই পরিণতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটি স্বাধীন দেশের মূল্য কতটা চড়া হতে পারে।
আজকের এই দিনে, জুলাই বিপ্লবের তৃতীয় বার্ষিকীতে, আমরা রায়হান আলীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। রাষ্ট্রের উচিত এই বীর সেনানীর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। কারণ, একটি জাতি তার বীরদের ভুলে গেলে, সেই জাতি ইতিহাসের কাছে ঋণী থেকে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ পাঁচ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা মুন্সীগঞ্জ সদর থানার নতুনগাঁও এলাকায় অবস্থিত উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে শামীম মিয়ার চা-পুরির দোকানের সামনে সড়কে অভিযানের সময় গ্রেফতার হয়। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আছেন গেন্ডারিয়ার আবুল কাওসারের ছেলে মো. কামরুল হাসান রবিন (৩৩) এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল গ্রামের মো. জুলহাসের ছেলে মো. শান্ত ইসলাম (২৮)। বর্তমানে শান্ত ইসলাম ঢাকার গেন্ডারিয়া (৪৭ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় বসবাস করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় কামরুল হাসান রবিনের হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে আকাশি রঙের পলিথিনে মোড়ানো ১ কেজি ওজনের ৩টি গাঁজার পোটলা এবং শান্ত ইসলামের হাতে থাকা আরেকটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে একইভাবে মোড়ানো ১ কেজি ওজনের ২টি গাঁজার পোটলা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধৃত গাঁজার মোট পরিমাণ পাঁচ কেজি।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামে আক্কাস আলী (৪৫) নামের এক শিক্ষকের বাড়িতে বোমাসদৃশ একটি বস্তু ও প্রাণনাশের হুমকি সম্বলিত একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে, বাড়ির মালিক আক্কাস আলী ওই বোমাসদৃশ বস্তু এবং চিরকুটটি দেখে পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে আক্কাস আলীর বাড়ির সিঁড়ির নিচে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি বোমাসদৃশ বস্তু বাড়ির লোকজন দেখে। সেই বোমাসদৃশ বস্তুর পাশেই সাদা কাগজে হাতে লেখা একটি চিরকুট পড়ে ছিল।
আক্কাস আলীর পরিবারের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিবেশী কয়েকজনের সঙ্গে কসবা গ্রামের মোল্লাপাড়ার রজব আলীর ছেলে আক্কাস আলীর বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি পরিমাপ করেন। আজ বুধবার আক্কাস আলীর উপজেলা ভূমি অফিসে যাওয়ার কথা ছিল কাগজপত্র নিয়ে। এর আগেই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ওই বোমাসদৃশ বস্তু এবং একটি হুমকিমূলক চিরকুট রেখে গেছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আল মামুন বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাসদৃশ বস্তু এবং চিরকুট উদ্ধার করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং খামেনির বিদায় আয়োজন কমিটির প্রধান আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও পণ্ডিতেরা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩০টি দেশ ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে। দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশাল এই আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি কিছুটা পিছিয়ে কয়েক দিনব্যাপী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দিকনির্দেশনা ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সদর দফতর এই পুরো আয়োজনকে তদারকি করছে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জুলাই মরহুম নেতার মরদেহ ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাগদাদ বা নাজাফ বিমানবন্দরে ইরাকি শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে এবং পরে নাজাফ ও কারবালা পবিত্র নগরীতে শোকমিছিল ও বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরের দিন অর্থাৎ ৯ জুলাই ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হবে। এই মহোৎসব ও রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে ইরানে বেশ কয়েক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরান প্রদেশে, ৬ জুলাই তেহরানের মূল জানাজার দিন দেশজুড়ে, ৭ জুলাই কোমে এবং ৯ জুলাই খোরাসান রাজাভি প্রদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।
আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করেছে, এই বিশাল জমায়েতে অংশ নেওয়া মানুষের যাতায়াত সহজ করতে তেহরানের মেট্রো ও পৌর বাস সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। এছাড়া অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো ধরনের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না এবং অনুষ্ঠানটি কাভার করতে ইতিমধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি বিদেশি সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন। ইরাকের সাথে যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে সেখানেও একটি জাতীয় আয়োজক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই বিদায় অনুষ্ঠান মুসলিম বিশ্বে ঐক্য, আঞ্চলিক সংহতি এবং নতুন নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আনুগত্য প্রকাশের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। অন্যদিকে, লেবাননের নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ফিলিস্তিনি-মার্কিন আইনপ্রণেতা রাশিদা তালিব জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলকে ৩৩০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের একটি বিলে সমর্থন দেবেন। চলতি সপ্তাহেই এর ওপর ভোট হবে।
রাশিদা তালিব বলেন, "ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালানো একটি বাহিনীকে আমরা আর এক পয়সাও দেবো না।" তার মতে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে। ইলহান ওমরসহ আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট নেতা এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন। বিলটি প্রস্তাব করেছেন রিপাবলিকান নেতা থমাস ম্যাসি, যিনি বিদেশে মার্কিন হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী।
এদিকে, গত মঙ্গলবার লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, "হিজবুল্লাহর হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা লেবাননেই থাকবে।"
নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেনাদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, "হিজবুল্লাহ যতদিন সশস্ত্র থাকবে, আমরা এখানেই থাকব। আমরা ইরানের ওপরও হামলা করে বড় হুমকি দূর করেছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ