০৭:৩৫ পি.এম
এক সময় ছিল যখন গাজার শিশুরা বিকেল হলেই রাস্তায় নেমে ফুটবল খেলত। পাড়া ছিল হাসির শব্দে মুখরিত। কিন্তু আজ সেই একই রাস্তায় পড়ে আছে ধ্বংস্তুপ। বাতাসে মিশে আছে পোড়া কংক্রিটের দুর্গন্ধ। আর রাত নামলেই শুরু হচ্ছে নতুন এক ভয়। এখন শুধু বোমা নয়, ঘুমন্ত শিশুদের ওপর হামলা করছে ইঁদুর। যুদ্ধবিরতির আট মাস পেরিয়ে গেলেও গাজার মানুষের জীবনে এখনও শান্তি আসেনি।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ১৪ বছরের কারাম এখনো একটি পুরোনো ফুটবল আঁকড়ে ধরে হাঁটে। তার স্বপ্ন ছিল বড় ফুটবলার হওয়ার। প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলা তার আনন্দের অংশ ছিল। কিন্তু এখন চারপাশে মাঠের ব্যবস্থা নেই, নেই সেই বন্ধুদের কোলাহল। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ি, পুড়ে যাওয়া জমি এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ছাড়া আর কিছুই নেই। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।
যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তির কথা নানা বার বলা হয়েছে। এসেছে নতুন পরিকল্পনা, নতুন বৈঠক ও নতুন প্রতিশ্রুতির খবরও। কিন্তু গাজার মানুষের কাছে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। তাদের ভাষায়, কাগজে যুদ্ধ থামলেও বাস্তবে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি।
আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে
চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার, নতুন প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা থাকলেও সেগুলোর বেশির ভাগই বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ইসরায়েল গাজার বিস্তীর্ণ এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কাজ করেছে। অন্যদিকে হামাসও অস্ত্র সমর্পণ না করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল। ফলে সাধারণ মানুষ আটকে পড়েছে দুই পক্ষের সংঘাতের মাঝে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি এখন বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয়শিবিরগুলোতে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ লাখ মানুষ তাদের ঘর হারিয়েছে। হাজার হাজার পরিবার এখনও অস্থায়ী তাঁবুর মধ্যে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। সেখানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি নেই। স্বাস্থ্যকর পরিবেশও নেই। গরমে দম বন্ধ হয়ে আসে এবং চারপাশে ময়লা জমে থাকে। দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন আতঙ্ক। ইঁদুর, তেলাপোকা এবং অন্যান্য প্রাণী সহজেই তাঁবুর কাপড় কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক শিশুকে ঘুমন্ত অবস্থায় কামড়িয়েছে ইঁদুর। বহু পরিবার রাতভর জেগে থাকে তাদের সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্য। অনেকেই খাবার ইঁদুরের হাত থেকে বাঁচাতে তাঁবুর ছাদে ঝুলিয়ে রাখছেন।
এছাড়া, নির্মম বাস্তবতা হলো, বহু এলাকায় এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে মরদেহ। অনেক পরিবার জানে না তাদের স্বজন জীবিত নাকি মৃত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধ বাড়ছে। রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রতিদিন বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী, ত্রাণ পৌঁছাতে নানা বাধা থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট কাটেনি। ফলে যুদ্ধবিরতির বহু মাস পরেও গাজার মানুষের কাছে শান্তি এখনও শুধু একটি শব্দ। বাস্তবে, তাদের প্রতিটি সকাল নতুন অনিশ্চয়তা, নতুন ভয় এবং বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই নিয়ে শুরু হয়।
আরও পড়ুন: কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে প্রাণহানি, শোক জানালেন মোদি ও মমতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন