০৩:৫৯ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর আমাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে।
অনলাইন ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) এফডিসিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে এবারের বাজেট শীর্ষক এক ছায়া সংসদে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর উন্নয়ন সহায়তা, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। বড় বাজেট দোষের কিছু নয়। নির্বাচিত সরকার তার কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় বাজেট দিতেই পারে। তবে বাজেট বাস্তবায়নে দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ সরকারের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সময় দিতে হবে। অতীতে টানেলের শেষে কোন আলো খুঁজে পাওয়া যেত না, এখন আমরা আশাবাদী। হতাশা কাটিয়ে টানেলের শেষে আলো দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে মাদ্রাসার শিক্ষকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছে: শিশির মনির
দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভারত, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশে করপোরেট করের হার বাংলাদেশের তুলনায় কম। আমরা যদি করের হারকে অন্তত এ দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে না পারি তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, আওয়ামী শাসনামলে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নের ফানুস তৈরি করে লুণ্ঠনের অর্থনীতি গড়ে তোলা হয়েছিল। অত্যাধিকমূল্যায়িত এসব মেগা প্রকল্পের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয়ই ছিল ভূয়া। অত্যাধিক মূল্যায়িত প্রকল্পের যেগুলো থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে সেগুলোকে রেশনালাইজড করে অপচয় বন্ধ করা উচিত। বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সরকারকে মেগা প্রকল্প গ্রহণে রক্ষণশীল থেকে মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রীক প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান জরুরি। বিনিয়োগে এখনও গতি আসেনি।
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, গত ২ বছরে ৫ শতাধিক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে। দেড় লাখের বেশি শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। শিল্প-কারখানা বন্ধের অভিঘাত পড়ছে অর্থনীতিতে। বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ হয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও উৎপাদন সক্ষমতার অভাবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গ্যাস, বিদ্যুত ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ যদি না পাওয়া যায়, তাহলে ঋণ সহায়তা দিয়েও কারখানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। অন্যদিকে, লাল ফিতার দৌরাত্ন্য কমিয়ে ডি–রেগুলেশন বাস্তবায়ন করতে না পারলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে না।
কিরণ আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করা না গেলে দেশ ঋণের জালে আটকা পড়ার শঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে শুধু বিশাল বাজেট ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, এর জন্য অর্থের যোগান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের দেশের বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতি। তবে বর্তমান সরকার ঘোষিত এই বাজেট একটি সাহসী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সীমাহীন চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এবারের বাজেট জনবান্ধব। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে জোর দেওয়া হয়েছে। এতে করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতে কর আহরণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের উদ্বোধনে পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু
এবারের বাজেট বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য সক্ষম শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকদের পরাজিত করে ঢাকা কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক আবুল কাশেম এবং সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন