ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:১০ পি.এম
মাদক, ডেঙ্গু ও অপরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পিরোজপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেছেন, পরিচ্ছন্ন পিরোজপুর গড়তে প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা অডিটরিয়ামে কর্মকর্তা ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা ও পৌরসভার প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইব্রাহীম মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপি’র সাংগনিক সম্পাদক আবুল কালাম মলাদ জোমাদ্দার, সমাজ সেবক মো. জুলফিকার হায়দার হাওলাদার, উপজেলা যুবদলে সদস্য সচিব মো. শামীম হাওলাদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন।
মতবিনিময় সভা শেষে জেলা প্রশাসক মো. গোলাম রব্বানী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা, উপজেলা ভূমি অফিস, গৌরীপুর ভূমি অফিস ও গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন।
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে হত্যার দায়ে হারেছ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছে। একইসাথে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৮ জুলাই রাতে ফতুল্লা ভোলাইল গেউদ্দারবাজারের নিজ ভাড়া বাসায় পারিবারিক বিবাদের জেরে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও শিশু সন্তান সোহাগকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে হারেছ। হত্যাকাণ্ডের পর হারেছ পালিয়ে যান। পরে, নিহত মনোয়ারার ভাই মজিবুর রহমান মজিদ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ হারেছকে গ্রেপ্তার করে।
হারেছ আদালতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে হত্যা করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালত এই মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হারেছকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে হারেছকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ সম্প্রতি পাকিস্তান ও কাশ্মীর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর জম্মুতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকেই তাঁর গ্রেপ্তার এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।
গত শনিবার বারামুল্লায় এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফারুক আবদুল্লাহ ইঙ্গিত দেন যে, কাশ্মীর বিরোধে পাকিস্তানের অবস্থান কাশ্মীরিদের সুরক্ষায় সহায়ক। তাঁর এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), রাষ্ট্রীয় বজরং দল, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা, ডোগরা ফ্রন্ট এবং ন্যাশনাল অ্যান্টি-টেররিজম ফ্রন্টসহ (এনএটিএফ) বেশ কয়েকটি সংগঠন জম্মুতে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা এনসি প্রধানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।
বিজেপির রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সৎ শর্মা আবদুল্লাহর বক্তব্যকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' আখ্যা দিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, আবদুল্লাহ যদি ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁর পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত।
বিজেপির বিধায়ক বিক্রম রান্ধাওয়া এই মন্তব্যকে ‘দেশবিরোধী’ বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, আবদুল্লাহ এমন একটি দেশের পক্ষে কথা বলছেন যা ভারতের মাটিতে ক্রমাগত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে আসছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক বিজেপি সভাপতি রবীন্দ্র রায়নাও মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশ্ন তোলেন, পাকিস্তান কীভাবে কাশ্মীরিদের শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে? তিনি ফারুক আবদুল্লাহর অবিলম্ব ক্ষমা দাবি করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা শক্তি রাজ পারিহার দেশদ্রোহিতার অপরাধে আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) দায়ের এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এনএটিএফ-এর জাতীয় চেয়ারম্যান বিশাল চোপড়ার নেতৃত্বে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশেও তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তিনি বলেন, একজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর পদ ও দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করে সচেতনভাবে কথা বলা উচিত।
সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির জম্মু ও কাশ্মীর প্রধান বিবেক বালি ঘটনার তদন্ত দাবি করে বলেন, এই বক্তব্য যদি দেশের আইন লঙ্ঘন করে তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলার সময় জন প্রতিনিধিদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
‘পানুন কাশ্মীর’ এবং ‘জম্মু স্টেট পিপলস মুভমেন্ট’ নামের দুটি সংগঠন জম্মুর চন্নি থানায় ফারুক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করেছে। পানুন কাশ্মীরের চেয়ারম্যান টিটো গঞ্জু এবং জম্মু স্টেট পিপলস মুভমেন্টের চেয়ারম্যান কর্নেল অজয় রায়নার মাধ্যমে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। টিটো গঞ্জু প্রশ্ন তুলে বলেন, "পাকিস্তান কাকে রক্ষা করছে, আর কিসের থেকেই বা রক্ষা করছে?"
জম্মু স্টেট মুভমেন্ট আপার রূপ নগরে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করে। সংগঠনের নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে বিষয়টি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও সময়ভিত্তিক তদন্তের আবেদন জানান।
প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় নিরাপত্তা আইনের (এনএসএ) আওতায় আবদুল্লাহকে আটক করা যায় কি না—তা খতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে প্রযোজ্য নির্বাচন আইনের অধীনে বিষয়টি পরীক্ষা করার আহ্বান জানায়।
কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্র শর্মা বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। শিমলা চুক্তির উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে এবং কাশ্মীর ইস্যু তোলার কোনো অধিকার পাকিস্তানের নেই।
তবে এই অঞ্চলে সংখ্যালঘু অধিকার এবং সার্বিক বিচার ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে ফারুক আবদুল্লাহর উদ্বেগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন রবীন্দ্র শর্মা। তিনি বলেন, রাজ্যসভার আলোচনা ও সরকারের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী কংগ্রেস এখনো জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ 'রাজ্য মর্যাদা' ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বারামুল্লায় আসলে কী বলেছিলেন ফারুক আবদুল্লাহ?
বারামুল্লায় আয়োজিত ওই সমাবেশে আবদুল্লাহ সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, কাশ্মীরিরা যদি নিজেদের পরিচয় রক্ষা করতে না পারে, তবে তারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। অমীমাংসিত কাশ্মীর বিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে পাকিস্তানের ধারাবাহিক উপস্থিতি কাশ্মীরিদের স্বার্থবিরোধী যেকোনো পরিকল্পনা বা ইচ্ছাকে বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, "আপনারা যদি নিজেদের অস্তিত্ব আঁকড়ে ধরে না রাখেন, তবে আপনারা মুছে যাবেন। আমাদের কোনো চিহ্ন বা পরিচয় আর অবশিষ্ট থাকবে না।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ কখনোই নিজেদের ভারতীয় হিসেবে অস্বীকার করেনি। তারা মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সময়ের ভারতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আবদুল্লাহ বলেন, "আমরা কখনো বলিনি যে আমরা ভারতীয় নই। আমরা বারবার নিশ্চিত করেছি যে আমরা ভারতের সাথেই যুক্ত হয়েছি (অ্যাক্সেস করা হয়েছে)।" তিনি অভিযোগ করেন, কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বার্থে হিন্দু ও মুসলমানদের একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, সময়ের সাথে সাথে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন নিশ্চিতভাবেই ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের জন্মদিন আজ, ২৭ অক্টোবর। এই বিশেষ দিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার সহকর্মী, বন্ধু এবং ভক্তরা। তবে অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়ার শুভেচ্ছাবার্তায় উঠে এসেছে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের স্মৃতি, পুরোনো দিনের গল্প এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার কথা।
তৌসিফের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পর্শিয়া কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন। ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তাদের কৈশোরের সময়ের কিছু মুহূর্ত, পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের ছবিও রয়েছে। পুরোনো ছবিতে দুজনের চেহারা ও সাজপোশাকের পরিবর্তন দেখে বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে তারা কতটা বদলে গেছেন।
শুভেচ্ছাবার্তায় স্পর্শিয়া জানান, ২০০৯ সাল থেকে তাদের বন্ধুত্বের শুরু। কৈশোর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দীর্ঘ পথচলায় তৌসিফ তাকে বিভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। বন্ধুর পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তাকে গর্বিত করে বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক অটুট রয়েছে বলে জানান স্পর্শিয়া। তিনি কামনা করেছেন, তৌসিফের জীবনের আগামী দিনগুলো আরও সুন্দর হোক এবং তিনি যেন তার প্রাপ্য সবকিছু অর্জন করতে পারেন।
উল্লেখ্য, তৌসিফ মাহবুবের জন্ম ভোলায় হলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে তার যাত্রা শুরু হয়। ২০১৩ সালে নির্মাতা আদনান আল রাজীবের ‘অলটাইম দৌড়ের উপর’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন তৌসিফ। পরবর্তী সময়ে একের পর এক নাটকে অভিনয় করে ছোট পর্দায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় জড় হয়ে মিছিলের পরিকল্পনা, রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, নাশকতার পরিকল্পনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ১৪ জন নেতাকর্মীকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. মিরাজুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা ৩ দিনের রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. মোস্তফা সরদার (৪১), মো. রাশেদ (২৮), ঢাকা ৪৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজীব (৪০), মো. সেলিম মিঞা (৫২), আব্দুস সামাদ রনি (৪৪), মো. মমিন হাওলাদার (৩৯), মো. জিহাদ (২০), রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ সদস্য মহিউদ্দিন (৩৫), যুবলীগ কর্মী মো. রাহাদ (১৯), রাতুল (২২), মো. মারুফ (১৯), মো. রায়হান (১৯), সানি (২২) এবং নাজমুল হাসান হৃদয় (২০)।
এদিন আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকুসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পুরানা পল্টন এলাকার আজাদ প্রোডাক্টস গলির মুখে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ১০০ থেকে ১২০ জন নেতাকর্মী অবৈধভাবে সমবেত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং নাশকতার পরিকল্পনা করেন। খবর পেয়ে পল্টন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা, নাশকতায় অর্থায়নকারী বা ‘গডফাদারদের’ চিহ্নিত করা এবং ব্যবহৃত মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারের স্বার্থে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে সাত দিনের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, একই ঘটনায় জড়িত ৪ জন শিশু হওয়ায় তাদের শিশু সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ