০৮:০৫ এম
আগামী ফেব্রুয়ারিতে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপসংলগ্ন সমুদ্রতল থেকে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) উত্তোলনের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান।
দ্বারা দেশের এটি শুক্রবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর পূর্বে সমুদ্রের ছয় কিলোমিটার গভীর থেকে নমুনা সফলভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে বায়ু টারবাইনসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত মূল্যবান এসব খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
আরও পড়ুন: স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে
টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, চলতি বছরের শুরুতে গভীর সমুদ্রে খননকারী জাহাজ মিনামি তোরিশিমা দ্বীপের কাছে প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। এই নমুনা সংগ্রহের ফলে ইট্রিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এক্সে মেসেজে তাকাইচি বলেন, ‘ইট্রিয়াম বিশ্বে বিরল। এটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন যন্ত্রের প্রলেপ তৈরির উপাদান, নির্গমন গ্যাসের ক্ষতিকর নাইট্রোজেন অক্সাইড পরিশোধনের অনুঘটক এবং সেমিকন্ডাক্টর ও মোটরগাড়ি শিল্পে ব্যবহৃত হয়। তাই এটি আমাদের দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ।’
তাকাইচি আরও বলেন, ‘এই সাফল্যের ভিত্তিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ খনিজ উত্তোলন পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হতে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে কাজ করব।’
আরও পড়ুন: শাহজালালের রানওয়ে-অ্যাপ্রোন এলাকায় যানবাহনের অবাধ চলাচল
জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জ্যামস্টেক) জানায়, সমুদ্রতল থেকে উত্তোলন করা ৫০ টন উপাদানে আরও দুটি বিরল খনিজ মৌল-গ্যাডোলিনিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গত মার্চে, তাকাইচি বলেছিলেন, টোকিও থেকে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরে প্রবালঘেরা মিনামি তোরিশিমা, যা মিনামিটোরিশিমা নামেও পরিচিত, তার আশপাশে খনিজ উত্তোলনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।
আগের বেশ কিছু গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে যে, ওই এলাকার সমুদ্রতলে কয়েক মিলিয়ন টন বিরল খনিজ থাকতে পারে। যা কয়েক শত বছর ধরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
তবে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, গভীর সমুদ্রে খনিজ উত্তোলন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর তাগিদ বিজিএমইএর উপদেষ্টার
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিরল খনিজ উত্তোলনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং পরিশোধিত বিরল খনিজ উৎপাদনের ৯২ শতাংশই চীনের দখলে রয়েছে।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির মন্তব্যের কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর জাপান এ খনিজের সরবরাহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে চীন।
মার্চে কর্মকর্তারা জানান, বেসামরিক লোকজনের বসবাস ও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ মিনামি তোরিশিমা দ্বীপকে পারমাণবিক বর্জ্য সংরক্ষণের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে একটি প্রাথমিকভাবে জরিপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক জাহিদ হাসানের সদস্যপদ স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন