০৫:৫৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু চুক্তি কার্যকর হবে তখনই, যখন সৌদি আরব ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবে। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র একদিন পরেই তার এই ঘোষণায় পুরো বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে এসেছে।
এএফপি সূত্রে ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়, রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলের সঙ্গে তথাকথিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিতে অনাগ্রহী হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে গাজা সংঘাতের পর থেকে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখার ওপর জোর দিয়ে আসছে।
বুধবার ঘোষিত বেসামরিক পরমাণু চুক্তি সৌদি আরবের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন মূলত তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির উদ্বেগের কারণে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
তবে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি অনুমোদন পাবে। তবে তা পুরোপুরি নির্ভর করবে সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবেন কি না তার ওপর।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, সৌদি আরব আগে থেকেই জানত যে, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া এই চুক্তির পূর্বশর্ত। যদিও চুক্তির ঘোষণার সময় এই বিষয়টির কোনও উল্লেখ ছিল না।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত সবসময় প্রেসিডেন্টের।’ তিনি আরও বলেন, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এমন একটি বিষয়, যেটিকে ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তিনি অতীতেও এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ অবস্থান বজায় রাখবেন।
লেভিট জানান, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটন সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
আরও পড়ুন: ভারত মহাসাগরে ১৩ দিনের যৌথ মিশনে ভারত, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তি এবং ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর আবাসভূমি সৌদি আরব যদি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হিসেবে দেখা হবে।
লেভিট জানান, সৌদি চুক্তি ঘোষণার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তোলার মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণার পর চুক্তিটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালাতে চায় জাপান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন