০৪:৩৩ এম
বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুসারে, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটানের ঋণের অনুপাত অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, ২০২৬ সালে ভারতের সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৮৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ৭০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ৯৫ শতাংশ, মালদ্বীপের ১৩১ শতাংশ এবং ভুটানের ১১৬ শতাংশ হতে পারে। নেপালের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৪৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ হতে পারে।
আরও পড়ুন: ঢাকাই মসলিন বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসছে, নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
এই হিসাব অনুযায়ী, জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার ভারতের অর্ধেকেরও কম। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশের ঋণের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অন্যদিকে, মালদ্বীপ ও ভুটানের ক্ষেত্রে সরকারি ঋণ তাদের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের আকারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের এই ব্যবধান বাংলাদেশের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সরকারি ঋণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের চাপের মধ্যেও জিডিপির অনুপাতে ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম থাকা দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জিডিপির তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত কম থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়ন খাতে ব্যয় বাড়ানোর জন্য সরকারের নীতিগত নমনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে টেকসই নীতি অনুসরণ, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা উচিত।
বাংলাদেশের এই তুলনামূলক অবস্থান ধরে রাখার জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন ঋণ থেকে যথেষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া এবং ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৪.৯১ শতাংশ কমেছে
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উন্নয়ন চাহিদা পূরণের চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা বজায় রাখা এবং সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন