০৯:৪২ পি.এম
নেত্রকোনার মদনে লাশ দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে মদন থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে তবে পুলিশ জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছে এমদাদুল (৩৭), সাইফুল ইসলাম (৩০), সজীব মিয়া (২৫), প্রান্ত (৩০), আবুল কাশেম (৩৮), মুনায়েম (৩০), রামিন (১৩), সিফাত (১৫), রোশনারা আক্তার (৩৫), রাকিবা আক্তার (৪০) এবং নুরজাহান আক্তার (৮০)। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আহতদের স্থানীয় মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র মতে, কয়েকদিন আগে ফারুক মেম্বারের খালাতো ভাই জামাল অটোরিকশা নিয়ে আলমশ্রী বাজারের দিকে যাওয়ার সময় কামরুল ও বেবুল মেম্বারের লোকজন তার গতি রোধ করে। ওই সময় ফারুক মেম্বারের মামাতো ভাই হৃদয় বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। এরপর থেকে ফারুক মেম্বারের লোকজন বাজারে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। এরই মাঝে গত শুক্রবার ফারুক মেম্বারের এক ভাতিজা ঢাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। রবিবার সকালে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষে ফেরার পথে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সাবেক ইউপি সদস্য বেবুল মিয়া বলেন, ‘ফারুক বর্তমান মেম্বার হওয়ার পর থেকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চান। কেউ যেন ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী না হয়, সেজন্য তিনি লোকজনকে মারধর করেন। আজ তারা লাশ দাফন শেষে রাস্তায় অবস্থান করছিল। আমাদের পক্ষের সাত্তার হাওরে যাওয়ার সময় তাকে রাস্তায় আটকে দেওয়া হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’ বর্তমান মেম্বার ফারুক মিয়া বলেন, ‘এটি মূলত পূর্বপরিকল্পিত একটি অজুহাত। আমাদের বাড়ির সামনে ‘আশারবান’ নামে একটি হাওর রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। আমাদের মারধর করে গ্রাম ছাড়া করতে পারলে তারা হাওরটি দখল করে মোটা অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবে—এটাই মূল উদ্দেশ্য।’ মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই আলমশ্রী গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা সম্পর্কে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন