১১:২৪ পি.এম
মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে সহকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ইমাম হোসেন রাজন, যিনি একজন সহকারী শিক্ষক। এ হামলায় তার দুটি পা ভেঙে গেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসাধীন থাকলেও, এ পর্যন্ত তার পা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করার সক্ষমতা ফিরে আসেনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তার পা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।
এই ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া হামলার ঘটনায় করা ফৌজদারি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
ভুক্তভোগী ইমাম হোসেন রাজন কালকিনি উপজেলার ১৫৮ নম্বর চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে টিফিন এবং স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বিতরণ নিয়ে তার বিরোধ ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে আ.লীগ নেতাকর্মীদের স্লোগান, কালকিনি-ডাসারে আলোচনা
অভিযোগ করা হয়েছে যে, এ বিরোধের জেরে গত ৩ জুলাই বিদ্যালয়ের ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুর খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর বড় ধরণের হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ছিলেন লিপি আক্তারের ভাই মিলন মোল্লা এবং তার সহযোগীরা। তারা রাজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে, যার ফলে তার দুটি পা ভেঙে যায় এবং শরীরের অন্য অংশগুলোতে গুরুতর আঘাত করেন। পরে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই রাতেই তাকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর আহত শিক্ষকের বাবা মাজেদ আলী শিকদার বাদী হয়ে লিপি আক্তার, তার ভাই মিলন মোল্লা সহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে কালকিনি থানায় মামলা করেছেন। এই মামলার আসামিরা বর্তমানে উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালত থেকে জামিনে আছেন।
আহত শিক্ষক ইমাম হোসেন রাজন এ ঘটনার সম্পর্কে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিংয়ের খাবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার বাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই বিষয়টিতে আমি প্রতিবাদ করায় আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এরপর তার নির্দেশে তার ভাই মিলন মোল্লা লোকজন নিয়ে আমার ওপর এই হামলা করে দুজন পা ভেঙে দেয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে হামলার সঙ্গে নিজের এবং ভাইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি এবং আমার ভাই কখনোই এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলাম না। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না গিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে। আমি ন্যায়ের দিকে আছি এবং সত্যের জয় হবেই।’
আরও পড়ুন: পোরশায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসহায় নারীদের মাঝে ৩৬টি শাড়ি বিতরণ করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ পোরশা উপজেলা শাখা।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হাসপাতাল থেকে মেডিকেল রিপোর্টও এসেছে আমাদের কাছে। তদন্তের পর দ্রুত অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।’
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে এলাহী জানিয়েছেন, ‘একজন শিক্ষক হয়ে অন্য শিক্ষকের ওপর এমন হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কালকিনির সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ দত্ত ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনার পর আহত শিক্ষকের পরিবার তৎকালীন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে। একই সাথে শিক্ষকসমাজও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সোনারগাঁয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন