০৬:০৭ পি.এম
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জায়গায় অন্য কোনো নেতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে সেখানকার জনগণের জন্য। কারণ আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে এই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।
নেতানিয়াহু ইসরাইলের দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। কিন্তু অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের কারণে এখন পর্যন্ত তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন, এবং এটি তার প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের এক তিক্ত পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারে।
এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার সঙ্গে যোগ দিতে রাজি করানোর পর তেহরান ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাদের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত গোষ্ঠীর ৯ সন্ত্রাসী নিহত
উত্তরে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইল আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে নেতানিয়াহু একদিকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার মার্কিন চাপ এবং অন্যদিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক মদতপুষ্টদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে আগ্রহী ইসরাইলি জনগণের মাঝে আটকা পড়েছেন।
এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার আগে ও পরে তার সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে একটি স্বাধীন প্রকাশ্য তদন্ত করতে না পারায় নেতানিয়াহু বিশাল জনরোষের সম্মুখীন হয়েছেন।
গাজায় পরবর্তী গণহত্যার পর, ইসরাইল তার কর্মকাণ্ডের জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক তদন্তের সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি দেশের কাছে একঘরে হয়ে পড়েছে এবং মার্কিন রাজনৈতিক মহলে আরও সোচ্চার সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এদিকে, নেতানিয়াহু এখনও ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি, এবং এগুলিতে দোষী সাব্যস্ত হলে সম্ভবত তিনি কারাবাসে যেতে পারেন।
আরও পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসক: ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি
সর্বোপরি, ইসরাইলি নির্বাচনটি নেতানিয়াহু এবং দেশটির জন্য অন্যতম সংকটময় একটি মুহূর্তে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিমরোড ফ্ল্যাশেনবার্গ আল জাজিরাকে বলেছেন, মনে হচ্ছে (নেতানিয়াহু) সত্যিকার অর্থে বিপদে পড়েছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিটি জনসমর্থন পায়নি এবং লেবাননে যে ঘটনা ঘটছে, তা জনগণের কাছে একেবারেই স্পষ্ট নয়। এখানকার গণমাধ্যম থেকেও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
ইসরাইলি জনগণ নিজেদের দেশের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সমর্থনের গুরুত্ব সম্পর্কে ভালভাবে অবগত। এখন, লেবানন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত দেখা যাচ্ছে; ট্রাম্প যুদ্ধ কমিয়ে আনতে আগ্রহী, যাতে ইরানের সাথে শান্তি বজায় থাকে এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।
ইরান জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো নতুন ইসরাইলি হামলা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলি আরব কারা, নির্বাচনে তারা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো?
যদিও ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) ইসরাইল-লেবানন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন