১০:৫৮ পি.এম
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর (অব.) খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
রোববার (২৬ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাহিদুর রহমান।
জবানবন্দিতে সাজ্জাদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে সরকারি আদেশে তাকে র্যাবে বদলি করা হয় এবং ৫ জুলাই র্যাব সদর দপ্তরে যোগদান করেন। সেখানে ছয়দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে ১১ জুলাই তাকে র্যাব-৩-এ পদায়ন করা হয়। সেসময় র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
র্যাব-৩-এ যোগদানের দিনই তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম তাকে জানান, সেদিন রাতে একটি অভিযানে অংশ নিতে হবে, যা নির্দেশ দিয়েছিলেন জিয়াউল আহসান। রাত ১১টার দিকে সাদা পোশাকে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি র্যাব সদর দপ্তরের সামনে পৌঁছান। পরে চারটি গাড়ির বহর টঙ্গী হয়ে একটি নির্জন এলাকায় চলে যায়।
সাজ্জাদুল ইসলামের দাবি, একটি সেতুর (আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি ব্রিজ) ওপর গাড়ি থামানোর পর চোখ ও হাত বাঁধা একজন বন্দিকে নামানো হয়। তার ভাষ্য অনুসারে, জিয়াউল আহসান ওই ব্যক্তিকে সেতুর রেলিংয়ের কাছে নিয়ে গিয়ে মাথার পেছনে গুলি করেন এবং পরে নিচে ফেলে দেন। ঘটনার ফলে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান।
তিনি বলেন, কিছু দূর এগিয়ে আরেকটি সেতুর ওপর গাড়ি থামানো হলে জিয়াউল আহসান তাকে একটি 'সন্ত্রাসবিরোধী অপারেশন' পরিচালনার নির্দেশ দেন। একারণে তিনি জিজ্ঞাসা করলে জিয়াউল আহসান ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ইংরেজিতে তিরস্কার করেন এবং গাড়ির ভেতরে গিয়ে বসতে বলেন।
তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, নির্দেশ অমান্য করার পর তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, তাকে হয়তো ভুয়া বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হত্যা করা হবে, চাকরি হারাতে হবে কিংবা দুর্গম এলাকায় বদলি করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তার ভাষ্য, গাড়ির ভেতরে বসে থাকা অবস্থায় তিনি গুলির মতো একটি শব্দ শুনতে পান। পরে আরেকটি স্থানে চোখ বাঁধা একজন ব্যক্তিকে কয়েকজনকে টেনে নিয়ে যেতে দেখেন, কিন্তু পরে তাকে আর ফিরে আসতে দেখা যায়নি। এরপর আরও কয়েকটি স্থানে গাড়ি থামলেও তিনি আর গাড়ি থেকে নামেননি। অভিযানের শেষে তাকে ক্যান্টনমেন্টের স্টাফ রোডে নামিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, পরদিন, ১২ জুলাই, র্যাব-৩-এ যাওয়ার পথে তিনি জানতে পারেন যে তাকে র্যাব থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। র্যাব-৩-এ পৌঁছানোর পর তাকে সরাসরি কুমিল্লা সেনানিবাসের অর্ডন্যান্স ডিপোতে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী র্যাব থেকে ফেরত আসা কর্মকর্তাদের আগে সেনা সদরে রিপোর্ট করার কথা থাকলেও তার ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
এই সাক্ষী দাবি করেন, ঘটনার তিন থেকে চারদিনের মধ্যে একটি জাতীয় দৈনিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনটি লাশ উদ্ধারের সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সাজ্জাদুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জানান, ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে তাকে একজন অবিশ্বস্ত ও অবাধ্য কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার দাবি, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও এরপর আর পদোন্নতি পাননি এবং অবসরের নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ বছর আগেই ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন