ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা


যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা

হরমুজ প্রণালি, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এর মাধ্যমে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ ফি ধার্য করার মার্কিন পরিকল্পনাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াই করা একটি পরাশক্তি নিজেই এখন জলদস্যুর ভূমিকা নিতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছেন। একই সাথে এই সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি উন্মুক্ত রাখতে, এর মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ মাশুল আদায় করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সাও পাওলোতে আয়োজিত এক জনসভায় অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাজিলের প্রবীণ এই বামপন্থী নেতা। লুলা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালী অবমুক্ত করবেন, কিন্তু এর বিনিময়ে সেখান দিয়ে পার হওয়া প্রতিটি জাহাজের তেলের মালিককে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে। অতীতে এ ধরনের কাজকে জলদস্যুতা হিসেবে গণ্য করা হতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বড় দেশের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়াও, চলমান এই সংঘাতের কারণে, ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি চাল, ডাল, টমেটো ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে বলে সতর্কবার্তা দেন লুলা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি অবরোধ করে। পরবর্তীতে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, তবে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ার ফলে ট্রাম্প আবারও অবরোধ এবং কঠোর মাশুল আরোপের হুমকি দিচ্ছেন।

আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়তে যাওয়া ৮০ বছর বয়সি লুলা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে তাঁর সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানির ওপর বিশেষ কর মওকুফসহ বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

সূত্র: আরব নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ এম


নতুন পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির বৈঠক আজ

আজ বুধবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি আবার বৈঠকে বসছে।

বহুল আলোচিত এ বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা, আর্থিক প্রভাব ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৫ সালের পে স্কেল কার্যকর থাকায় দীর্ঘ এক দশক ধরে নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বেতনবৈষম্য এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা।

গত কয়েক বছরে খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

ফলে বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি জোরালো হয়েছে। জন প্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং পুরো বেতনকাঠামোকে আরো যুগোপযোগী ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাস্তবসম্মত করা, পদোন্নতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির সম্পর্ক শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলও নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আইএমএফকে জানিয়েছেন যে নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে একবারে বড় আর্থিক চাপ তৈরি না হয়।

আইএমএফ মূলত জানতে চেয়েছে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয় কত বাড়বে এবং তা কিভাবে সামাল দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় আইএমএফ বাংলাদেশকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি মনে করে, স্থায়ী রাজস্বভিত্তি শক্তিশালী না করে বড় বিশেষ ব্যয় বৃদ্ধি দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে তারা ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ এম


সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরের কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা বন বিভাগ উচ্ছেদ করেছে।মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে অভিযানের মাধ্যমে ৪টি অবৈধ খাবারের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। এই সময় দোকানগুলোর মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য বন বিভাগ নির্দেশনা প্রদান করে।বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে হোটেল ব্যবসা করে আসছিল। যার ফলে বনের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়েছে এবং হোটেলের ময়লা আবর্জনায় বনের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন ছিল। এসব হোটেলে বনের কাঠ জ্বালানোর অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে।

শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী মহল বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে স্থাপনা সরানোর অনুরোধ পেয়েও তা উপেক্ষা করেছে। পরে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সহায়তায় বন বিভাগ অভিযান শুরু করে।

সাতছড়ি বনের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুর রহমান আবুল জানিয়েছেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযান চলানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা সংরক্ষিত বন থেকে উচ্ছেদ করা হবে।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেছেন, উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় এমপি এস এম ফয়সলের নির্দেশ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত বনে অপর কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৬ দিনে, সমর্থন দিতে যাচ্ছে বিরোধী জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ এম


সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৬ দিনে, সমর্থন দিতে যাচ্ছে বিরোধী জোট

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনম ওয়াংচুকের অনশন এখন ষোড়শ দিনে পৌঁছেছে। দীর্ঘকাল ধরে চলা এই অনশনের ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে, এবং তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চল্যমান রয়েছে। এদিকে, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন বিরোধী জোটের প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে, যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে যৌথ মিছিল করার পরিকল্পনাও আছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক এই অনশনে যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, দায়িত্ব নির্ধারণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনশনের ফলস্বরূপ সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার উপর চিকিৎসকেরা গভীর নজর রাখছেন। নিয়মিত মেডিকেল পরীক্ষা, যেমন রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে তারা অবহিত রয়েছেন।

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন, বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা যন্তর মন্তরে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তারা অনশন ভেঙে আন্দোলনকে অন্যভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন। একই সঙ্গে, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনায় জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার বিভিন্ন প্রশ্ন সংসদের মধ্যে জোরালোভাবে উত্থাপিত হবে বলে দেখা যাচ্ছে।

সোনম ওয়াংচুক একজন শিক্ষাবিদ ছাড়াও পরিবেশ সংরক্ষণে এবং হিমালয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে আসছেন। লাদাখের পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিয়ে তার আন্দোলন আন্তর্জাতিক পরিচিতিও পেয়েছে। বাস্তবমুখী শিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পক্ষে তার অবস্থান তাকে দেশের অন্যতম আলোচিত জনবুদ্ধিজীবী করে তুলেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সোনম ওয়াংচুকের মতো একটি পরিচিত সামাজিক কর্মীর আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয়ভাবে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের অধিবেশন শুরুর সঙ্গে আন্দোলনের সময়গত মিল বিরোধী রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে সক্ষম হতে পারে। বিরোধী দলগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বিষয়গুলো সামনে এনে সরকারকে চাপে রাখতে চায়।

অন্যদিকে, সরকার ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাঝেই সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকেরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে গেলেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন যে তিনি এখনও নিজের অবস্থানে অটল রয়েছেন। তবে বিরোধী জোটের নেতাদের অনুরোধের পর তার সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অনশন নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এবং সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান

ইসরাইলের সহায়তায় ইরানে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ এম


ইসরাইলের সহায়তায় ইরানে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ

ইরানের কট্টরপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গোপনে নিজেদের গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে তৈরি করেছিল ইসরাইল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে আহমাদিনেজাদকে ইরানের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় বসানো।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনগুলোতে আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরে একটি মোসাদের সেফ হাউজে নিয়ে যাওয়ার নাটকীয় চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

একসময় ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করা আহমাদিনেজাদকে নিজেদের পক্ষে টানতে দীর্ঘদিন ধরে গোপন অভিযান চালিয়ে আসছিল ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।

মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালে বুদাপেস্টের লুদোভিকা ইউনিভার্সিটিতে একটি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অধ্যাপক গেরগেলি ডেলি জানিয়েছেন, হাঙ্গেরি সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার অনুরোধে তিনি আহমাদিনেজাদকে আমন্ত্রণ জানান, যা মূলত ছিল মোসাদের সাথে আহমাদিনেজাদের গোপন বৈঠকের একটি ছদ্মবেশ বা ‘ফ্রন্ট’। সেখানে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়া স্বয়ং আহমাদিনেজাদের সাথে দেখা করেন এবং পরবর্তীতে সিআইএকে এই যোগাযোগের বিষয়টি অবহিত করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল গোপনে আহমাদিনেজাদের আবাসন ও বিদেশ ভ্রমণের খরচ জোগাত এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার সাথে গুয়াতেমালা ও হাঙ্গেরিতে একাধিকবার বৈঠক করেন। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চূড়ান্ত রূপ নেয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে কড়া নজরদারিতে থাকা আহমাদিনেজাদের বাসভবনে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। তবে হামলাটি ছিল মূলত একটি নাটকীয় উদ্ধারের অংশ। হামলা স্থলের বিশৃঙ্খলার মধ্যে একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যায়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের এজেন্টরা, যারা তাকে ইরানের ভেতরেই একটি গোপন সেফ হাউজে নিয়ে যান।

তবে এই হঠকারী উদ্ধার অভিযানে আহমাদিনেজাদ ক্ষুব্ধ হন এবং ইসরাইলের সহায়তায় ক্ষমতায় ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে তার মোহভঙ্গ হয়। পরবর্তীতে তিনি কীভাবে সেই সেফ হাউজ ছাড়েন তা স্পষ্ট নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আহমাদিনেজাদের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মতে, তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ওপর চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে পর পর তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ব্যবস্থার অধীনে তিনি আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন না।

তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে বলতেন, যুদ্ধ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি বাইরের কোনো নির্বাসিত নেতাকে এনে বসায় তবে ইরান অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। নিজেকে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলতসিনের মতো একজন ‘সংস্কারক’ হিসেবে ভাবতেন তিনি।

আহমাদিনেজাদ বিশ্বাস করতেন, তিনি ক্ষমতায় এলে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের আওতায় ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবেন। এই সুযোগটিই লুফে নেয় ইসরাইল। এমনকি ক্ষমতা দখলের এই মহাপরিকল্পার অংশ হিসেবে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তেহরানের দিকে অগ্রসর করার একটি ছকও কাটা হয়েছিল।

ইসরাইলের সাথে এই গোপন আঁতাতের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছেন সাবেক এই ইরানি প্রেসিডেন্ট। গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘদিন তিনি জনসমক্ষে আসেননি। ৯০ ডিগ্রি প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ভারী জ্যাকেট এবং মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় অত্যন্ত বিষণ্ণ মুখে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

চারজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ইসরাইলের সাথে যোগাযোগের সমস্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে বর্তমানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের গোয়েন্দা শাখা গ্রেফতার করে গৃহবন্দি করে রেখেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%