ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিওএর নির্বাচন ও পদত্যাগ নিয়ে ইমরোজ-সাইফুলের বিতর্কিত মন্তব্য


বিওএর নির্বাচন ও পদত্যাগ নিয়ে ইমরোজ-সাইফুলের বিতর্কিত মন্তব্য

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাচন, কাউন্সিলর মনোনয়ন, পদ বণ্টন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কর্মকর্তা নির্বাচন এবং আর্থিক জবাবদিহি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ, মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা ও কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম এসব বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন। পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ক্রীড়া সংস্কারের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি সার্চ কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জোবায়দুর রহমান রানাও সদস্য ছিলেন ইমরোজ আহমেদ। তাদের দায়িত্ব ছিল ক্রীড়া ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র, নির্বাচনপদ্ধতি, প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দল পাঠানোর প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করা। পরবর্তীতে এই দুই ব্যক্তি বিওএর নির্বাচনে অংশ নেন। এতে সংস্কারপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন ও দায়িত্ব গ্রহণে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেন।

সংস্কার-সুপারিশের পর বিভিন্ন ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়। এসব কমিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে অনেকেই বিওএর কাউন্সিলর ও ভোটার হন। অভিযোগ উঠেছে, কাউন্সিলর তালিকায় এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের বর্তমান কমিটিতে নেই। ফলে ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে বিওএর সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদ করার দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন: ৯ম ড্যাফোডিল ক্যাপ্টেনস্ কাপ গলফ টুর্নামেন্টের সমাপনী কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে

অলিম্পিক ও নন-অলিম্পিক ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্ধারিত উপমহাসচিব পদে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর আর্চারি ফেডারেশনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আলোকে বিওএর প্রশিক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব করা হয়। সরকারি আদেশে (জিও) নাম না থাকা সত্ত্বেও তাকে এশিয়ান গেমসে পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইমরোজ আহমেদ এশিয়ান বিচ গেমসে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে শেফ দ্য মিশন সাইফুল ইসলাম প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফেরায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন ইমরোজ।

সাইফুল ইসলামের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা, আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা এবং বিওএর তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়েও জবাবদিহির দাবি করেছেন ক্রীড়া ফেডারেশন ফোরামের নীতিনির্ধারকরা। তারা মনে করেন, বিওএর শতকোটি টাকা সাইফুলের হাতে নিরাপদ নয়। কারণ সাইফুল ইসলাম বর্তমানে কোন ফেডারেশনে নেই। সেক্ষেত্রে তার জবাবদিহিতাও নেই।

এদিকে পদত্যাগের ঘটনাগুলোর কারণ ও প্রেক্ষাপট নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। তিনি বলেছেন, ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিওএ সভাপতির উচিত নির্বাচন, কাউন্সিলর মনোনয়ন, পদ বণ্টন, আন্তর্জাতিক সফরে কর্মকর্তা নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা। সেই সঙ্গে দায়ী ব‍্যাক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’

আরও পড়ুন: শেষ উইকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়ে পাকিস্তানকে জয় উপহার দিলো শাদাব খান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদী টোকিও। বিশেষভাবে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছে জাপান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন। গত ২০ অক্টোবর দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের ঘোষণা দেয়।

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাপান সফরকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ বাসসের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

জাপান মনে করে, এই সফর আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো পুনর্ব্যক্ত করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কিভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানায়, নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও জাপান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। এছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন, ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সফরের সময় নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, সফরটি বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জাপান একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকারের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। দেশটির মতে, আলোচনায় অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে জাপান বলেছে, বিদ্যমান উদ্যোগগুলোতে বাস্তব উন্নতি ব্যবসায়িক আস্থা বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অংশীদার জাপান। দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়ন দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের আখ মাড়াই শুরু ৩০ অক্টোবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


নাটোরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের আখ মাড়াই শুরু ৩০ অক্টোবর

নাটোর, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : নাটোরের গোপালপুরে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের আখ মাড়াই কার্যক্রম আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে চিনিকলের ওয়াটার ট্রায়াল আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন চিনিকলের আখ মাড়াই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই মৌসুমে ১২৫ দিনব্যাপী মাড়াই কার্যক্রম চলবে। এক লাখ ৮০ হাজার টন আখ মাড়াই করে ১১ হাজার ৭’শ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চিনি আহরণের হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আখ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য বর্তমান সরকার গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে আখের মূল্য প্রতি কুইন্টাল ২৬ টাকা বৃদ্ধি করেছে। চিনিকলের গেটে প্রতি কুইন্টাল আখের ক্রয় মূল্য ৬৫১ টাকা এবং সেন্টারগুলোতে ৬৩৭ টাকা ৪৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিনিকল এলাকায় প্রায় ১৮ হাজার একর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে। পাঁচ হাজার ৪৫৪ জন আখচাষীকে সরকার উন্নত পদ্ধতিতে আগাম আখ চাষের জন্য দুই কোটি ৭১ লক্ষ টাকার প্রণোদনা প্রদান করেছে।

চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, আখ মাড়াই কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে আজ শনিবার কারখানার সার্বিক পরিচ্ছন্নতার জন্য ওয়াটার ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত ৯ অক্টোবর কারখানার বয়লার ফায়ারিং সম্পন্ন হয়েছে। এই আগুনের বাষ্পের মাধ্যমেই পুরো মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ৪০ টাকায় লাউ, অথচ এক টাকায় চারটি: সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ ডাকসু ভিপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


ঢাকায় ৪০ টাকায় লাউ, অথচ এক টাকায় চারটি: সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ ডাকসু ভিপির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয় এবং রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, একদিকে কৃষকদের পথে বসিয়ে সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ‘কৃষক কার্ড’-এর গল্প শোনানো হচ্ছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে কৃষকদের সংকট ও কৃষি খাতের নানা অনিয়ম তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

পঞ্চগড়ের সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘পঞ্চগড়ে এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। অথচ সেই একই লাউ ঢাকার খুচরা বাজারে প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকারও বেশি দামে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বিপুল লাভের টাকা কার পকেটে যাচ্ছে? তার দাবি, পুরো লাভের অংশ লুটে নিচ্ছে বাজার সিন্ডিকেট, যাদের পরিচয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস সবারই জানা। এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিকে তিনি ক্ষমতাসীনদের ‘কার্ডের রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন।

কৃষি উৎপাদনে বড় সংকটের কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, সারের ডিলারশিপ নিয়ে দেশজুড়ে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। নিয়ম-নীতি ও যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও প্রভাবশালীরা ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনদের কাছে ডিলারশিপ বিক্রি করেছেন।

তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না, ফলে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। আর এর চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর, যাদের চড়া দামে নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে।

কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষার আহ্বান জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘সিন্ডিকেট ও ডিলারশিপ বাণিজ্যের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই মাফিয়া চক্রের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে, কৃষকদের বাঁচাতে হবে এবং সাধারণ জনগণকে রক্ষা করতে হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে মুসলিমদের নতুন বসতি: আত্মপরিচয় খুঁজে পাচ্ছেন হেনরিয়েটা সোভাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


স্পেনে মুসলিমদের নতুন বসতি: আত্মপরিচয় খুঁজে পাচ্ছেন হেনরিয়েটা সোভাতি

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল আন্দালুসিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে নতুনভাবে মুসলিমদের বসতি গড়ে উঠছে, যেখানে ধর্মীয় চর্চা ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ইউরোপের অনেক মুসলিম এখানে এসে নিজেদের ইতিহাস, পরিচয় ও আত্মিক প্রশান্তির নতুন ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছেন, যেখানে একসময় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল।

ব্রিটিশ-হাঙ্গেরীয় মুসলিম হেনরিয়েটা সোভাতি ও তার স্বামী, থেরাপিস্ট ও ইমাম আজমল মাসরুর, ২০২৪ সালে মালাগার আলোরার পাহাড়ে একটি পুরোনো খামারবাড়ি কিনেছেন। তাদের উদ্যোগের নাম ‘হাউস অব আন্দালুস’। প্রায় ১৪ হেক্টর জমিতে জলপাইগাছের পাশাপাশি ডালিম, ডুমুর ও আমগাছ লাগানো হচ্ছে। এখানে কোরআনে উল্লিখিত উদ্ভিদসমৃদ্ধ বাগান, গ্রন্থাগার এবং ইসলামি ইতিহাসবিষয়ক শিক্ষামূলক কার্যক্রম গড়ে তোলা হচ্ছে। এই কেন্দ্র মুসলিমদের পাশাপাশি অমুসলিমদের জন্যও উন্মুক্ত থাকবে।

ব্রিটেনে দুই দশকের বেশি সময় বসবাস করার পরও হেনরিয়েটা নিজেকে বহিরাগত মনে করতেন। তার মতে, স্পেনে প্রতিবেশীদের কাছে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্ব বেশি। স্থানীয় ক্যাথলিক প্রতিবেশী মারিয়া গার্সিয়ার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব আন্তধর্মীয় সহাবস্থানের একটি উদাহরণ। তবে ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতির উত্থান স্পেনে মুসলিমদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ইতিহাসবিদ ও ভ্রমণলেখক তারিক হুসেইনের মতে, আল-আন্দালুসের ঐতিহ্য ইউরোপীয় মুসলিমদের মনে করিয়ে দেয় যে, ইসলাম এই মহাদেশের ইতিহাসের বাইরের কোনো বিষয় নয়। মধ্যযুগে প্রায় আট শতাব্দী ধরে আইবেরীয় উপদ্বীপের বিভিন্ন অংশে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। কর্ডোবা, সেভিয়া ও গ্রানাডার স্থাপত্য, দুর্গ, আরবি লিপি, সেচব্যবস্থা এবং ভাষায় সেই শাসনের প্রভাব এখনো দৃশ্যমান।

গ্রানাডার বৃহৎ মসজিদ প্রতিষ্ঠার পেছনেও রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। কয়েক দশকের উদ্যোগ ও অর্থসংগ্রহের পর ২০০৩ সালে মসজিদটির দরজা খুলে দেওয়া হয়। এটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয় পরিচয় ও সামাজিক অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

গ্রানাডার দক্ষিণে আলপুহারাস ও অর্গিভা অঞ্চলেও বহুজাতিক মুসলিম সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। লেখক ও শিক্ষক মেদিনা তেনুর হোয়াইটম্যানের মতে, আল-আন্দালুসের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো মুসলিমদের শিকড়ের অনুভূতি জোগালেও, শুধুমাত্র অতীতের গৌরব দিয়ে বর্তমানের জীবনকে বোঝা সম্ভব নয়। ভাষা শেখা, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া এবং স্থানীয় সমাজের অংশ হয়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্থাপত্যে সীমাবদ্ধ নয়। আলোরার ঐতিহ্যবাহী ‘সোপা পেরোতা’ নামের রুটির স্যুপের সঙ্গেও মধ্যযুগীয় আন্দালুসীয় রান্নার সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন খাদ্য-ইতিহাসবিদেরা। অর্থাৎ বহু শতাব্দী আগের মুসলিম ঐতিহ্য এখনো স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবনযাপনের নানা স্তরে টিকে থাকতে পারে।

তবে আন্দালুসিয়াকে হারানো মুসলিম সাম্রাজ্যের পুনরাবিষ্কার হিসেবে দেখার পরিবর্তে বর্তমান স্পেনের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক বিভাজন এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নতুন করে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন মুসলিমরা।

হেনরিয়েটার স্বপ্ন, ‘হাউস অব আন্দালুস’ এমন একটি কেন্দ্র হয়ে উঠবে, যেখানে মানুষ ইতিহাসের পাশাপাশি প্রকৃতি, বিশ্বাস ও জীবনের অর্থ নিয়ে ভাবার সুযোগ পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থ ও শ্রমের বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও, তার বিশ্বাস, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে স্থায়ী সম্প্রদায় গড়ে ওঠে।

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%