০১:৩৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৫০টি গবাদি পশুকে ভ্যাকসিনেশন এবং ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের উমানন্দ এলাকায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়, বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ, ওষুধ বিতরণ এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। এতে এলাকার খামারি ও পশুপালকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের পশুর স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন।
মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোছাঃ রেবা বেগম ও ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ সামছুন নাহার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গবাদি পশুর বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খামারিদের আর্থিক ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
ক্যাম্পে সেবা গ্রহণকারী খামারিরা এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদানের ফলে তারা উপকৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রামীণ পর্যায়ে নিয়মিত ভেটেরিনারি সেবা ও ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন এবং খামারিদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মসজিদের এক খতিবের মৃত্যু হয়েছে|
বুধবার (১ জুলাই) ভোরে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের তোতা মিয়ার বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে|
নিহত হাফেজ মুফতি মাকছুদ আলম (৩৬) উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ১ন¤^র ওয়ার্ডের জনতা বাজার এলাকার নুরুল আলম মন্ত্রী সওদাগরের ছেলে এবং উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন|
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গবার দিবাগত রাতে এলাকায় বৃষ্টি হয়| মাকছুদ ফজরের নামাজ পড়ানোর জন্য প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন| যাত্রা পথে তিনি চরবাটা ইউনিয়নের তোতা মিয়ার বাজার এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুত্বর আহত হন| এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়| তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে|
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে| মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান|
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় রাস্তার সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর আর বিটুমিন ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে, কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। যা সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মিলল উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়ক সংস্কার কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী ও পরিমাণে কম বিটুমিন ব্যবহারের ফলেই রাস্তার এমন বেহাল দশা হয়েছে।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় জানান, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় এবং ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহিত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ পান চাষী নামে এক ঠিকাদার ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল না মেনে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেনকে ম্যানেজ করে কয়েক দিন ধরে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ করেন ঠিকাদারের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তারা সড়কের ৯৮ ভাগ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন হাত দিয়ে টানলে উঠে আসে রাস্তার কার্পেটিং। স্থানীয় ননা মিয়ার দোকানের সামনের রাস্তার এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেলে ঠিকাদারের লোক সড়কে গিয়ে গালমন্দ করে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, নোয়াখালী কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যেগসাজশে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এমন অবস্থা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন খোদ নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন। নিন্মমানের কাজ শেষে বিল পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী। বরং তিনি ঠিকাদারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কাজের সিডিউল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। এর বাইরে তিনি কোনো তথ্য প্রদান করবেন না বলে জানান।
মো. সাজু নামে এক যুবক বলেন, এই সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নির্ধারিত পুরুত্বও বজায় রাখা হয়নি। ফলে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরকার এত টাকা খরচ করে রাস্তা করেছে, কিন্তু এলজিইডি ও ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে সব টাকা জলে গেল। যেখানে হাত দিয়ে রাস্তার কার্পেট তোলা যাচ্ছে, সেখানে ভারী যানবাহন কীভাবে চলবে। এলজিইডি-ঠিকাদারের জন্য সরকারের বদনাম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো.চাষীর মুফোঠোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে যান। যে অভিযোগ উঠেছে এটা কোন অভিযোগের আওতায় পড়েনা। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। কোন কিছু জানার থাকলে তথ্য আইনে আবেদন করুন। তখন আমি তথ্য দেব।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ