মো : সুমন হাসান বাপ্পি, স্টাফ রিপোর্টার
০১:৪৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় রাস্তার সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর আর বিটুমিন ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে, কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। যা সংস্কারকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্যের দেখা মিলল উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়ক সংস্কার কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী ও পরিমাণে কম বিটুমিন ব্যবহারের ফলেই রাস্তার এমন বেহাল দশা হয়েছে।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আব্দুল হান্নান হৃদয় জানান, সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় এবং ঠিকাদারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অবহিত করলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ পান চাষী নামে এক ঠিকাদার ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিডিউল না মেনে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেনকে ম্যানেজ করে কয়েক দিন ধরে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ করেন ঠিকাদারের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তারা সড়কের ৯৮ ভাগ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন হাত দিয়ে টানলে উঠে আসে রাস্তার কার্পেটিং। স্থানীয় ননা মিয়ার দোকানের সামনের রাস্তার এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেলে ঠিকাদারের লোক সড়কে গিয়ে গালমন্দ করে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, নোয়াখালী কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যেগসাজশে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এমন অবস্থা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন খোদ নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন। নিন্মমানের কাজ শেষে বিল পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী। বরং তিনি ঠিকাদারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কাজের সিডিউল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। এর বাইরে তিনি কোনো তথ্য প্রদান করবেন না বলে জানান।
মো. সাজু নামে এক যুবক বলেন, এই সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ে নির্ধারিত পুরুত্বও বজায় রাখা হয়নি। ফলে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরকার এত টাকা খরচ করে রাস্তা করেছে, কিন্তু এলজিইডি ও ঠিকাদারের দুর্নীতির কারণে সব টাকা জলে গেল। যেখানে হাত দিয়ে রাস্তার কার্পেট তোলা যাচ্ছে, সেখানে ভারী যানবাহন কীভাবে চলবে। এলজিইডি-ঠিকাদারের জন্য সরকারের বদনাম।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো.চাষীর মুফোঠোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে যান। যে অভিযোগ উঠেছে এটা কোন অভিযোগের আওতায় পড়েনা। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। কোন কিছু জানার থাকলে তথ্য আইনে আবেদন করুন। তখন আমি তথ্য দেব।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত রাতে (৩০ জুন) আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ১৬–তে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। এর আগের দিন ব্রাজিল জাপানকে একই ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের মতো মাঝারি শক্তির প্রতিপক্ষ পেয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তেমন খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা কি তেমন? ইতিহাস বলছে, সুযোগ থাকলে ব্রাজিল বরং নকআউট রাউন্ডে নরওয়েকে এড়িয়েই চলতে চাইবে।
আর্লিং হলান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার শরলথ, আন্তনিও নুসা এসব নামগুলো সমীহ করার মতোই। এ কারণে এবারের আসরে নরওয়েই পেয়েছে ডার্ক হর্সের তকমা। কিন্তু পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বলা হয় বিশ্বকাপের চিরকালীন ফেবারিট। তাদের কি আর কাউকে ভয় পেলে চলে? কিন্তু অন্তত নরওয়ের বিরুদ্ধে ভয় না পেয়ে উপায় নেই! ব্রাজিল যদি সুপারম্যান হয় তবে নরওয়ে যে ক্রিপ্টোনাইট! যার সামনে এই মহাপরাক্রমশালী ফুটবল পরাশক্তিরও সাদামাটা দল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ফুটবল ইতিহাসে নরওয়ে হচ্ছে একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলেও ব্রাজিল জয় পায়নি। অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে কার্লো আনচেলত্তির দলে রীতিমতো ইতিহাস বদলে দিতে হবে এবং প্রথমবারের মতো হারাতে হবে নরওয়েকে।
এর আগে এই তালিকায় সেনেগালের নামও ছিল। কিন্তু গত বছর নভেম্বরে এক প্রীতি ম্যাচে তাদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেই খরা কাটিয়েছে ক্যানারিনহারা। বর্তমানে ৩ ম্যাচে দুই দলের জয় একটি করে, বাকি ম্যাচটি অমিমাংসীতভাবে শেষ হয়েছিল।
ব্রাজিল-নরওয়ে হেড টু হেড:
০৭/২৭/১৯৮৮ (প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ১-১ ব্রাজিল
০৫/২৯/১৯৯৭ (প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ৪-২ ব্রাজিল
০৬/২৩/১৯৯৮ (বিশ্বকাপ): ব্রাজিল ১-২ নরওয়ে
০৮/১৬/২০০৬ (প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ১-১ ব্রাজিল
১৯৮৮ সালে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল-নরওয়ে। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে চারবার মুখোমুখি লড়াইয়ে নরওয়ে দুবার জয় পেয়েছে এবং বাকি দুটি ড্র হয়েছে। তবে, এই দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয়েছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। সেই ম্যাচে বেবেতোর গোলে ব্রাজিল এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হারায়। নরওয়ের হয়ে গোল করেন তোরে আন্দ্রে ফ্লো এবং শেতিল রেকথাল। তবে ওই পরাজয়ের পরও ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে ওঠে।
দুই দেশের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেটিই ছিল তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ব্রাজিলের নতুন যাত্রার সূচনালগ্নের ম্যাচ। সেই матчটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
এবার ইতিহাস বদলে দিতে পারবে ব্রাজিল, নাকি নরওয়ে 'অভিশাপ' দীর্ঘ হবে আরও? উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী রোববার (৫ জুলাই) পর্যন্ত। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউজার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ১৬–এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-নরওয়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জানা গেছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মাঝে চলমান আলোচনায় দোহা যে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করেছে, তার প্রতি আবারও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানান, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে শেখ মোহাম্মদ এই মন্তব্য করেছেন।
ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতির বিষয়টিও ছিল আলোচনার প্রধান অংশ। এ প্রক্রিয়ায় কাতারের মধ্যস্থতা এবং সমর্থন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন আলোচনা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দোহা তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
এছাড়াও বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত তথ্য বা সম্ভাব্য অগ্রগতির বিষয়ে কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ