ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বে চীনের গ্রহণযোগ্যতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি: পিউ গবেষণা


বিশ্বে চীনের গ্রহণযোগ্যতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি: পিউ গবেষণা

বিশ্বের বহু দেশে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি বেশি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক বৈশ্বিক জরিপে এটি সামনে এসেছে।

এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে জরিপ করছে এবং এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীনের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশী দেখা গেছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা আজ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারণা আগের তুলনায় আরও কমেছে। জরিপে আরও দেখানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং—দুজনের প্রতি মানুষের আস্থা তুলনামূলকভাবে দারুণভাবে কমেছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

তবে বেশিরভাগ দেশে ট্রাম্পের চেয়ে শি চিনপিংয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন, কিছুটা বেশি। এই গবেষণার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে বিশ্বের ৩৬টি দেশের ৪২,০০০ এর বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। তাদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে খুব ইতিবাচক, কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা নেতিবাচক নাকি খুব নেতিবাচকভাবে দেখেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শনকারী মানুষের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি।

মাত্র ছয়টি দেশে এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। দেশগুলো হল পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল। এগুলোর বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক জনাথন শুলম্যান বলেছেন, ২০০২ সাল থেকে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় শক্তিধর দেশগুলো সম্পর্কে মানুষের মতামত সংগ্রহ করছেন। কিন্তু এবারে প্রথমবারের মতো এত বেশি দেশে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে।

তিনি জানান, অতীতের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমেছে এবং বিশেষ করে ২০০৮ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শেষ দিকে এবং ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে এই প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। তবে সে সময়ে চীনের ভাবমূর্তি সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সমান বা কিছুটা কম ছিল। এবারের জরিপে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সবচেয়ে বেশি বেড়েছে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস এবং কানাডায়। এছাড়া ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জরিপে দেখা গেছে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষ সাধারণভাবে চীনকে তুলনামূলকভাবে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখে। অন্যদিকে ধনী দেশগুলোর চীন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তুলনামূলকভাবে বেশি।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

এই প্রবণতার একটি ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর। মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে জরিপে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর শীর্ষে থাকলেও দেশটিতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব শক্তিশালী। জরিপে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক মত পাওয়া গেছে পাকিস্তান থেকে। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ইতিবাচক মত পাওয়া গেছে জাপান থেকে। সেখানে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি চিনপিংয়ের ওপর কতটা আস্থা রাখেন। ফলাফল থেকে দেখা যায়, দুই নেতার প্রতি আস্থার হার বেশিরভাগ দেশে ৫০ শতাংশের নিচে। তবে অনেক দেশে ট্রাম্পের তুলনায় শি চিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি। শি চিনপিংয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা দেখা গেছে পাকিস্তানে, যেখানে ৮৩ শতাংশ মানুষ তার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে জাপানে। সেখানে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ শির ওপর আস্থা রাখেন। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন ফিলিপাইনের মানুষ। সেখানে তার প্রতি আস্থার হার ৬৮ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে। সেখানে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।

গবেষক জনাথন শুলম্যান বলেছেন, শি চিনপিংকে নিয়ে মানুষের মতামত সাধারণত খুব শক্ত অবস্থানের হয় না। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ অনেক বেশি স্পষ্ট এবং চরম অবস্থান থেকে মতামত দিয়েছেন।

জরিপে দেখা গেছে, এখনো বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজেদের নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে অনেক বেশি সম্মান করে। তবে আগের তুলনায় এই ব্যবধান কমে এসেছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মধ্যম আয়ের কয়েকটি দেশের করা অতিরিক্ত জরিপে ৭৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেক বেশি হস্তক্ষেপ করে। একই প্রশ্নে চীনের ক্ষেত্রে এই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ মানুষ। সাম্প্রতিক কিছু বছরে অন্যান্য আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ জানিয়েছে, গত বছর বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে চীন প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই দশকে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ব্যবধান।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তবে এশিয়া সোসাইটির আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনা মহামারির সময় চীনের যে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা এখনও সীমিত পরিসরে উন্নতি করতে পেরেছে। কার্নেগি চায়নার গবেষক ড. চং জা ইয়ান বলেন, পিউর সর্বশেষ ফল তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ঘন ঘন পরিবর্তন, শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব অনেক দেশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যার ফলে অনেক দেশের মানুষ চীনকে তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নত করতে চীন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে ড. চং মনে করে যে, এর প্রভাবও এখন দৃশ্যমান। যদিও ড. চং মনে করেন, চীনের প্রতি ইতিবাচক ধারণা বাড়ছে, তবে শি চিনপিংয়ের প্রতিও মানুষের আস্থা তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। তার মতে, অনেক মানুষ চীনকে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখেন। তবে একই সঙ্গে তারা শি চিনপিংকে একজন শক্তিশালী কর্তৃত্ববাদী নেতা হিসেবেও মনে করেন। তিনি আরও বলেন, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান অন্য দেশগুলোর ওপরও জোর দিয়ে তুলে ধরছে। এ ছাড়া দেশটিতে সংখ্যালঘু অধিকার ও তাদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, অনেক মানুষ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মতো ইতিবাচক বিষয়গুলো চীনের সাফল্য হিসেবে দেখেন। তবে কঠোর নীতি ও চাপ সৃষ্টি করা সিদ্ধান্তগুলোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে শি চিনপিংকে দায়ী করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা পৌঁছে দিয়ে দেশে ফিরেছেন স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ এম


কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা পৌঁছে দিয়ে দেশে ফিরেছেন স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম কাতারের আমিরের কাছে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পাঠানো শোকবার্তা হস্তান্তর শেষে দেশে ফিরেছেন। স্পিকার আজ বৃহস্পতিবার রাত ৩ টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে, স্পিকার ১৪ জুলাই, দুপুরে কাতারের সাবেক আমির ও বর্তমান আমিরের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে একটি সংক্ষিপ্ত সরকারি সফরে দোহায় পৌঁছান। তিনি কাতারের সাবেক আমির ও বর্তমান আমিরের পিতা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল সানির মৃত্যুতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। এই সময় স্পিকার মহামহিম আমির এবং শোকসন্তপ্ত রাজপরিবারের সদসদের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং প্রয়াত আমিরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শোকবার্তা হস্তান্তরের পর স্পিকার কাতারের শুরা কাউন্সিলের স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার ঘটনায় আটক ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪১ এম


মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার ঘটনায় আটক ৩

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলমের হত্যার ঘটনায় মিঠামইন থানা পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতিও।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে মিঠামইন সদর বেড়িবাঁধ এলাকার সামনে অবস্থিত নিজ বাসভবনে এস এম জাহাঙ্গীর আলম এবং তাঁর সঙ্গী হাদিসের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়েছিল হামলা। এর ফলে তারা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এস এম জাহাঙ্গীর আলম মারা যান।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ মো. হেলাল (২৫), মো. মহিন উদ্দিন (৩২) এবং মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)-কে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, আটক তিনজনকে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অন্য কেউ এতে জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এস এম জাহাঙ্গীর আলম মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৫ এম


যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং দেশটির সেনাবাহিনী। একই সাথে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আকাশসীমায় একটি মার্কিন অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নতুন করে বিমান হামলার জবাবে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।

আইআরজিসি'র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর সি-র‍্যাম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আর্লি ওয়ার্নিং রাডার এবং মার্কিন সেনাবহরের একটি সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের আন্দিমেস্ক শহরের আকাশে মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করার ঘটনাটিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে চালানো মার্কিন নৈশকালীন হামলার সরাসরি জবাব হিসেবে দেখছে তেহরান।

তবে পাকদাশত এলাকায় ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষয়ক্ষতির খবরকে শত্রুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচার দাবি করে আইআরজিসি জানিয়েছে, সেখানে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে তা ছিল মূলত ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তার আওয়াজ।

একই সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থেও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে তেহরান। ইরান সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের আল আজরাক বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর একটি স্থায়ী রাডার স্টেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে একঝাঁক সুইসাইড বা আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের ইরানশাহর এলাকায় একটি সেনা ব্যারাকে মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই ড্রোন অপারেশন চালানো হয়।

এছাড়া, ইরানের সেমনান বিমানবন্দর এবং তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে খোন্দাব শহরের কাছেও মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবে সেমনানের আবাসিক এলাকাগুলো নিরাপদ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহেবি এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তায় বলেন, ইরানি সামরিক বাহিনীর বর্তমান মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সমস্ত আক্রমণাত্মক সামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, শত্রুপক্ষ যেন কোনোভাবেই মনে না করে তারা এই যুদ্ধকে তাদের সুবিধাজনক দীর্ঘমেয়াদি রূপ দিতে পারবে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফায় সফল বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। বুধবার রাতভর বন্দর আব্বাস, রাসক, কোনারাক, আহভাজ এবং কেশম দ্বীপের আশেপাশের এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেপ্টেম্বরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে আরও ৫ মেগাওয়াট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


সেপ্টেম্বরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে আরও ৫ মেগাওয়াট

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এবং জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের সরকারি উদ্যোগের অঙ্গ হিসাবে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত ৫ মেগাওয়াট (মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে চলেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান, প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকার যে কৌশল গ্রহণ করেছে, তার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে আমরা সারা দেশে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি, যাতে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।’

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির নিজস্ব পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে অর্থায়নে দেশের ১৯টি স্থানে মোট ৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে: ঘোড়াশালে ১ দশমিক ৩ মেগাওয়াট, খুলনায় শূন্য দশমিক ২৬ মেগাওয়াট, রাজশাহী প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শূন্য দশমিক ১২ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শূন্য দশমিক ১৩ মেগাওয়াট, বিবিয়ানায় শূন্য দশমিক ৪০ মেগাওয়াট, বড়পুকুরিয়ায় শূন্য দশমিক ২৫ মেগাওয়াট, এবং দেশের আরও কয়েকটি স্থানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা।

রুফটপ প্রকল্পের পাশাপাশি, বিপিডিবি মোট ৭৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। ৫০, ২০ এবং ৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এসব প্রকল্পের দরপত্র ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন খোলা হয়েছে এবং সকলের জন্য কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে।

আগামী মাসে মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দেওয়া হবে। এরপর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।

বিপিডিবির তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮০৭ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট, যা দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫ দশমিক ০১ শতাংশ।

এছাড়া ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আইপিপি) সঙ্গে মোট ৯১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি করেছে বিপিডিবি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮০ মার্কিন সেন্ট, যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম। সাধারণত চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ মাসের মধ্যে গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উৎপাদনে আসে।

এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%