০৭:৪৯ পি.এম
দেশে ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়া প্রায় ১০ লাখ মানুষের অন্ধত্ব দূর করার লক্ষ্যে এক বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।
আজকের দিন, সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি জানিয়েছেন, ‘একই সময়ে সরকার আগামী নভেম্বর মাসে অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলন ‘গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ’-এ আয়োজক দেশ অ্যান্টিগার সঙ্গে বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘কো-হোস্ট’ হিসেবে অংশগ্রহণ করবে, যেটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এই সময়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ চোখের ছানি অপারেশনের অভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বা অন্ধত্ব ভোগ করছেন। এই বিশাল জনগণের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সরকার কর্তৃক গৃহীত প্রধান লক্ষ্য।’
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই ১০ লাখ মানুষের জন্য আমরা দেশব্যাপী সুলভ মূল্য এবং বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের উদ্যোগ নিচ্ছি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার ইতোমধ্যে বাজেটে চোখের ছানি অপারেশনের জন্য লেন্সের ওপর থেকে কর (ট্যাক্স) কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে চোখের ছানি অপারেশনের খরচ নির্ধারিতভাবে অনেক কমে যাবে, যা দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে।’
নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল সামিটের প্রসঙ্গে, প্রতিমন্ত্রী জানান যে, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীদের নিয়ে এই প্রথমবারের মতো একটি বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন হতে যাচ্ছে এবং এই সম্মেলনে বাংলাদেশ কো-হোস্ট হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে।’
এছাড়া, গ্রামীণ অঞ্চলের স্কুলপড়ুয়া শিশুদের চোখের সুরক্ষার বিষয়েও সরকারের নতুন পরিকল্পনার খবর জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে অনেক শিশু চশমা ও চোখ পরীক্ষার অভাবে সঠিকভাবে দেখতে পাচ্ছে না, যা তাদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে এবং তিনি আইএপিবি-কে শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও চশমা বিতরণে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটিও আমাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, ‘২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই গ্লোবাল সামিট, যা বিশ্বনেতাদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ। সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে উপস্থিত হবেন।’
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার অগ্রণী হিসেবে উল্লেখ করে, পিটার হল্যান্ড জানান, ‘বিশ্বজুড়ে চোখের দৃষ্টি সুরক্ষায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং জাতিসংঘে দৃষ্টিশক্তি বিষয়ক প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি বাংলাদেশ স্পন্সর করেছে। দশকের পর দশক ধরে এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়।’
আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহী এই বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন যে, ‘বাংলাদেশে চক্ষু স্বাস্থ্যসেবার আমূল পরিবর্তনে সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। বিশেষত, দেশের ছানি অপারেশন সেবার মান উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কাছে চশমা পৌঁছানোর মত প্রোগ্রামে গুরুত্বের সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চলমান রয়েছে।’
আগামী নভেম্বরের গ্লোবাল সামিটে বাংলাদেশের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব ও সহ-আয়োজকের ভূমিকা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পিটার হল্যান্ড।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন