রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৫ পি.এম
চট্টগ্রামের ব্যাবসা-বাণিজ্যের নানা সমস্যা নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের নেতারা।
রবিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাড়বকুন্ডুর ওজন স্কেল, এলসি পেমেন্টে মূল নথি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ ও নতুন এক শতাংশ কর নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ব্যাবসা-বাণিজ্যের প্রসার, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন চেম্বার নেতারা।
সভায় সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডু এলাকায় থাকা ওজন স্কেল নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে এ স্কেলকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গতি ব্যাহত হচ্ছে।
এলসি পেমেন্টের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল ডকুমেন্ট বা নথি ছাড়াই ব্যাংক থেকে এলসির অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক লেনদেনে ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় মূল নথি যাচাই ছাড়া এলসি পেমেন্ট না দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইন করার বিষয়টি তুলে ধরেন তারা।
ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার কমানোর বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, ঋণের সুদের হার বেশি থাকায় শিল্প ও ব্যাবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে। এতে একদিকে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্যবসাগুলোও চাপের মুখে পড়ছে।
এছাড়া সীমিত কোম্পানির ক্ষেত্রে দুই কোটি টাকার বেশি লেনদেনে সরকারের নতুন এক শতাংশ কর বা চার্জ আরোপের বিষয়েও আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা এ হার সহনীয় পর্যায়ে কমানোর দাবি জানান।
ব্যবসায়ী নেতাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা শোনার পর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির মূলকেন্দ্র। এখানকার ব্যাবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
এ সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমান, ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাবুবুর রহমান, আব্দুস সালাম, জসীম উদ্দিন চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) চট্টগ্রামের রসায়ন ল্যাবরেটরি দেশের পণ্যমান, খাদ্যনিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। প্রথমবারের মত বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে কোনো ল্যাবরেটরি হিসেবে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পেয়েছে চট্টগ্রামের রসায়ন ল্যাব।
রবিবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) মহাপরিচালক মোহা. আমিনুল ইসলাম বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকের কাছে এ অ্যাক্রেডিটেশন সনদ হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআই ঢাকার পরিচালক (রসায়ন) খলিলুর রহমান, বিএসটিআই চট্টগ্রামের উপপরিচালক (মেট) ও অফিস প্রধান মো. মোমেন উস সাজ্জাদ, উপপরিচালক (রসায়ন) ও কোয়ালিটি ম্যানেজার ইব্রাহিম খলিল এবং সহকারী পরিচালক (রসায়ন) ও ডেপুটি কোয়ালিটি ম্যানেজার ড. খোরশেদ আলম।
বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, চট্টগ্রামের রসায়ন ল্যাবরেটরি আমদানিকৃত ও দেশীয় খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে ভোজ্যতেলের ভিটামিন-এ, রিফ্র্যাকটিভ ইনডেক্স এবং জুস ও সসজাতীয় পণ্যের ব্রিক্স প্যারামিটারে আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন সনদ পেয়েছে।
বিএসটিআই চট্টগ্রামের উপপরিচালক (অফিস প্রধান) মো. মোমেন উস সাজ্জাদ বলেন, নতুন পণ্য ও প্যারামিটারকে পরীক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় আনার মাধ্যমে দেশের খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণে বিএসটিআই চট্টগ্রাম আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এ অর্জনের ফলে পণ্য পরীক্ষণের ক্ষেত্রে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষণ সুবিধা স¤প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং নির্ধারিত মানদÐ অনুসরণ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএসটিআই জানায়, সনদ অর্জনের ফলে পণ্যের পরীক্ষণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পন্ন করার সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষণ প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্প্রতি বিএসটিআই চট্টগ্রাম অফিস নতুন দশতলা ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ায় পরীক্ষণ ও সেবা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে। নতুন পণ্য ও পরীক্ষণ প্যারামিটার যুক্ত হওয়ায় চট্টগ্রামের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং আমদানিকৃত অধিকাংশ পণ্যের পরীক্ষণ সুবিধা চালু হয়েছে। বর্তমানে বিএসটিআই চট্টগ্রামের রসায়ন ল্যাবরেটরিতে অত্যাধুনিক এএএস, এইচপিএলসি, জিসি-এমএসএমএস, আইসিপি-এমএস ও এলসি-এমএসসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রোলিয়াম পণ্য পরীক্ষণের জন্য ভিসকোমিটার, ফ্ল্যাশ পয়েন্ট টেস্টার, পোর পয়েন্ট টেস্টার ও ডেনসিটিমিটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার ভক্ত ও অনুসারীরা। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অভিনেতার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে ভক্তরা দাবি করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অভিনয় জগতের অনেকে জড়িত। তাদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে সিলেটের পাশাপাশি ঢাকা থেকে আসা অনেক ভক্তও অংশ নেন। এর আগে তারা দুপুরে নগরের দাঁড়িয়াপাড়স্থ সালমান শাহর বাসায় গিয়ে তার মামা আলমগীর কুমকুমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা বর্ষায় প্রকৃতি যখন রুদ্ররূপ ধারণ করে, তখনই ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের প্রস্থ। একই সঙ্গে বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় বনাঞ্চল ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে ধীরে ধীরে অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন অবকাঠামো।
সৈকতের ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ব্যবহারের উদ্যোগ নিলেও এতে স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, এসব উদ্যোগে সাময়িকভাবে ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বরং অপরিকল্পিতভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ব্যবহারের কারণে সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও নান্দনিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ভাঙন ঠেকাতে সাময়িক সংস্কার বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। সমুদ্রের ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে কুয়াকাটার সৈকত ও পর্যটন অবকাঠামো রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। সে সময় লেম্বুরবন থেকে গঙ্গামতির পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে পশ্চিমে তিন নদীর মোহনা থেকে পূর্বে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত সৈকতের বিস্তৃতি বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৯ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্র সৈকতের প্রস্থে। প্রতিবছর ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাগরের প্রবল ঢেউয়ে বালু ক্ষয়ে সৈকত ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় কুয়াকাটা সৈকতে ছিল বড় বড় বালুর টেক ও বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সমুদ্রের কাছে যেতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। এখন সেই সমুদ্র এসে পৌঁছেছে লোকালয়ের একেবারে কাছে। এতে কুয়াকাটার অস্তিত্ব ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, গত ৪০ থেকে ৫০ বছরে সমুদ্র প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরের দিকে এগিয়ে এসেছে। অব্যাহত ভাঙনে গত এক দশকে বিলীন হয়েছে নারিকেলবাগান, এলজিইডির ডাকবাংলো, ডিসি পার্কের একাংশ, পূর্বের জাউবাগান, ভূমি অফিসের গেস্টহাউস, হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে হারিয়ে গেছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলেই সমুদ্র যেন লোকালয়ের দিকে আরও এগিয়ে আসে।
দূরদূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও সৈকতের বর্তমান চিত্র নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। আরফাত নামের এক পর্যটক বলেন, ‘দূরদূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় এসে সৈকতের বর্তমান চিত্র দেখে আমরা হতাশ। সৈকত রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
পর্যটনকর্মী জনি আলমগীর বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউ একের পর এক সৈকতে আছড়ে পড়ছে। এতে একদিকে বালুক্ষয় হচ্ছে, অন্যদিকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। দ্রুত ভাঙন রোধ ও সৈকত নিরাপদ করার ব্যবস্থা না নিলে পর্যটন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ‘কুয়াকাটার সৌন্দর্য ও পর্যটন অবকাঠামো রক্ষায় সাময়িকভাবে মেরামত করলে হবে না। সাগরের ঢেউয়ের চাপ বিবেচনায় নিয়ে টেকসইভাবে সৈকত রক্ষা ও বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।’
পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, গত ২০ বছর ধরে কুয়াকাটা সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো ঝুলে আছে। আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে কুয়াকাটাকে গড়ে তুলতে হলে দ্রুত সৈকত রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ম্যানগ্রোভ ও নন-ম্যানগ্রোভ—দুই ধরনের বনাঞ্চলই এখন হুমকির মুখে। ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ বনাঞ্চল বিলীন হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপাতত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে জিও টিউব ব্যবহার করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা একটি মার্কিন চালকবিহীন জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের এই দাবি ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার এটি সর্বশেষ ঘটনা।
এর ঠিক এক দিন আগেই মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার জবাবে তিনটি ইরানি তেলের ট্যাংকারে আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। জুনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় থেমে থেমে সংঘাত চলছেই। এক মাস শান্ত থাকার পর গত সপ্তাহে দুই পক্ষ আবার সংঘাতে জড়ায়। সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন।
পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিমুখী পথ বেছে নিয়েছে। সামরিক জবাবের পাশাপাশি তারা ইরানের অর্থ লেনদেনকারী বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আসা ইরানের নতুন নেতারাও সহজে ছাড় দিতে নারাজ। তারা গোপন নৌবহরের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রি করে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখছেন।
মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরেই এই সংঘাতের শুরু। চুক্তি না মানায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এখন ইরানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিতে চাইছে। বিপরীতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে ইরান।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ