ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভাঙনে সংকুচিত হচ্ছে কুয়াকাটা সৈকত, হুমকিতে পর্যটন অবকাঠামো


ভাঙনে সংকুচিত হচ্ছে কুয়াকাটা সৈকত, হুমকিতে পর্যটন অবকাঠামো

ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা বর্ষায় প্রকৃতি যখন রুদ্ররূপ ধারণ করে, তখনই ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র সাগরকন্যা কুয়াকাটা। বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের প্রস্থ। একই সঙ্গে বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় বনাঞ্চল ও বিভিন্ন স্থাপনা। এতে ধীরে ধীরে অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন অবকাঠামো।

সৈকতের ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ব্যবহারের উদ্যোগ নিলেও এতে স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, এসব উদ্যোগে সাময়িকভাবে ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বরং অপরিকল্পিতভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ব্যবহারের কারণে সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও নান্দনিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ভাঙন ঠেকাতে সাময়িক সংস্কার বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। সমুদ্রের ঢেউ, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে কুয়াকাটার সৈকত ও পর্যটন অবকাঠামো রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। সে সময় লেম্বুরবন থেকে গঙ্গামতির পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে পশ্চিমে তিন নদীর মোহনা থেকে পূর্বে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত সৈকতের বিস্তৃতি বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৯ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্র সৈকতের প্রস্থে। প্রতিবছর ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাগরের প্রবল ঢেউয়ে বালু ক্ষয়ে সৈকত ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় কুয়াকাটা সৈকতে ছিল বড় বড় বালুর টেক ও বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সমুদ্রের কাছে যেতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। এখন সেই সমুদ্র এসে পৌঁছেছে লোকালয়ের একেবারে কাছে। এতে কুয়াকাটার অস্তিত্ব ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তাদের দাবি, গত ৪০ থেকে ৫০ বছরে সমুদ্র প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরের দিকে এগিয়ে এসেছে। অব্যাহত ভাঙনে গত এক দশকে বিলীন হয়েছে নারিকেলবাগান, এলজিইডির ডাকবাংলো, ডিসি পার্কের একাংশ, পূর্বের জাউবাগান, ভূমি অফিসের গেস্টহাউস, হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে হারিয়ে গেছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলেই সমুদ্র যেন লোকালয়ের দিকে আরও এগিয়ে আসে।

দূরদূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও সৈকতের বর্তমান চিত্র নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। আরফাত নামের এক পর্যটক বলেন, ‘দূরদূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় এসে সৈকতের বর্তমান চিত্র দেখে আমরা হতাশ। সৈকত রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন: নলছিটি ফেরিঘাটের রাস্তা মেরামত, যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে

পর্যটনকর্মী জনি আলমগীর বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউ একের পর এক সৈকতে আছড়ে পড়ছে। এতে একদিকে বালুক্ষয় হচ্ছে, অন্যদিকে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। দ্রুত ভাঙন রোধ ও সৈকত নিরাপদ করার ব্যবস্থা না নিলে পর্যটন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘কুয়াকাটার সৌন্দর্য ও পর্যটন অবকাঠামো রক্ষায় সাময়িকভাবে মেরামত করলে হবে না। সাগরের ঢেউয়ের চাপ বিবেচনায় নিয়ে টেকসইভাবে সৈকত রক্ষা ও বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।’

পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, গত ২০ বছর ধরে কুয়াকাটা সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো ঝুলে আছে। আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে কুয়াকাটাকে গড়ে তুলতে হলে দ্রুত সৈকত রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, ম্যানগ্রোভ ও নন-ম্যানগ্রোভ—দুই ধরনের বনাঞ্চলই এখন হুমকির মুখে। ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ বনাঞ্চল বিলীন হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপাতত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে জিও টিউব ব্যবহার করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্র বলল ‘ডাহা মিথ্যা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৫ পি.এম


হরমুজে মার্কিন জাহাজে হামলার দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্র বলল ‘ডাহা মিথ্যা’

হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা একটি মার্কিন চালকবিহীন জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের এই দাবি ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার এটি সর্বশেষ ঘটনা।

এর ঠিক এক দিন আগেই মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার জবাবে তিনটি ইরানি তেলের ট্যাংকারে আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। জুনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় থেমে থেমে সংঘাত চলছেই। এক মাস শান্ত থাকার পর গত সপ্তাহে দুই পক্ষ আবার সংঘাতে জড়ায়। সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

পরিস্থিতি সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিমুখী পথ বেছে নিয়েছে। সামরিক জবাবের পাশাপাশি তারা ইরানের অর্থ লেনদেনকারী বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আসা ইরানের নতুন নেতারাও সহজে ছাড় দিতে নারাজ। তারা গোপন নৌবহরের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রি করে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখছেন।

মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরেই এই সংঘাতের শুরু। চুক্তি না মানায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এখন ইরানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নিতে চাইছে। বিপরীতে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে ইরান।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে বাইসাইকেল পেল ১৩ শিশু-কিশোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে বাইসাইকেল পেল ১৩ শিশু-কিশোর

মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোরগ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখতে নোয়াখালীতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করায় ১৩ শিশু-কিশোরকে পুরস্কার হিসেবে বাইসাইকেল দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আসরের নামাজের পর নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আল ফালাহ জামে মসজিদে এ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মসজিদের ইমামের সংরক্ষিত হাজিরা খাতা অনুযায়ী, ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী ১৩ শিশু-কিশোর টানা ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করেছে। অনুষ্ঠানে তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রত্যেকের হাতে একটি করে বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়।

এসময় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, সমাজে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধে শিশু-কিশোরদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। ভালো উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভালো অভ্যাস গড়ে উঠবে। পাশাপাশি তারা মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোরগ্যাংয়ের মতো কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জনের প্রাণহানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৯ পি.এম


কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জনের প্রাণহানি

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কিনশাসার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা লিংওয়ালার একটি পার্টি হলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মেয়র কার্যালয়ের বিবৃতির বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সি(এসিপি) জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়াও আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কিনশাসা পৌর কর্তৃপক্ষের বরাতে এসিপি জানিয়েছে, আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষের ধারণা বৈদ্যুতিক কোনো ত্রুটি বা বিয়ের অনুষ্ঠানের সাজসজ্জা-সংক্রান্ত কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।নিহতদের মধ্যে ছিলেন কঙ্গোলিজ ন্যাশনাল রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (আরটিএনসি) ক্যামেরাম্যান গাই কিটোকো আলোমা। তিনি অতিথি হিসেবে ওই বিয়েতে যোগ দিয়েছিলেন।

এদিকে কঙ্গোর উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর রাষ্ট্রপতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর রাষ্ট্রপতির

ঠাকুরগাঁও, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়া, শিক্ষার প্রসার এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আজ (রোববার) বিকেলে ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে, বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করার জন্য এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি বলেন, "আমাদের এখানে কোনো কলকারখানা নাই। তাই লোকের কাজও পায় না। বিমানবন্দর হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।"

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ‘আমরা আশা করছি যে এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য খুব শিগগিরই কিছু বিনিয়োগকারী নিয়ে আসতে সক্ষম হব।’

তিনি এসময় চীন থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ আনার বিষয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন, যা কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের স্থানীয়ভাবে আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি কেনা হয়েছে এবং মূল্যও পরিশোধ করা হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব নিয়েছেন। সোমবার সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

রাষ্ট্রপতি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও পূরণ হয়েছে। স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, জেলায় একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন করে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত শিবগঞ্জ বিমানবন্দর চালুর আশা ব্যক্ত করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষির অনেক উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। যারা কাজ করে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই। যারা সততার সঙ্গে মানুষের সেবা এবং কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদেরকে আমরা সাহস জোগাতে চাই এবং সমর্থন করতে চাই।’

এসময় তিনি তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হওয়ার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন।

তরুণ সমাজের প্রতি মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার এবং জেলাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়তে তিনি জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন, সংঘাত, সংঘর্ষ, কিংবা প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকারের একটা সমাজ গড়ে তুলি। যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁয়ে কোন সংঘাত কোন সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলে প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, দলের মতবাদ প্রচার করবেন কিন্তু সংঘাতে জড়াবেন না।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতীতে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষদের ওপর হওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার কথা উল্লেখ করেন এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সমঝতার রাজনীতি’ বা ‘পলিটিক্স অফ রিকনসলেশন’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এসময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর পিতা-মাতা, স্থানীয় মুরুব্বি, শিক্ষকসহ তাঁর জীবনের পথচলায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনে আমার সহধর্মিনী সাহস জুগিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ লড়াই করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ-জামান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%