০৩:৪৪ পি.এম
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং মঙ্গলবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
মিয়ানমারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই সফরের উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের পর, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের কৌশলগত অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভ্যুত্থানের পর গৃহযুদ্ধে চীন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে।
এই নির্বাচনে সু চির দল অংশ নিতে পারেনি, ফলে সামরিকপন্থী সংসদ সদস্যরা সহজ জয় পেয়ে মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, সি চিনপিং মঙ্গলবার সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর পর দুই নেতা বৈঠকে বসেন।
তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মিন অং হ্লাইং সোমবার বেইজিংয়ে পৌঁছালে, তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সফরের শুরুতে তিনি চীনের স্পেস প্রোগ্রামের কেন্দ্র বেইজিং অ্যারোস্পেস সিটি পরিদর্শন করেন।
হ্লাইংয়ের এই পাঁচ দিনের সফরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও শীর্ষ আইনপ্রণেতা ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের নেতার এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোর কারণে কিছুটা টানাপোড়েনে পড়েছে।
এপ্রিল মাসে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফর।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম এই সফর দুই দেশের ‘সর্বাত্মক কৌশলগত সহযোগিতা’ আরও গভীর করবে বলে চীন আশা করছে।
বেইজিং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে এবং এক্ষেত্রে চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একসময় তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সবচেয়ে শক্তিশালী দুইটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে।
আরও পড়ুন: নেলসন ম্যান্ডেলাকে বন্দি রাখা সেই কারাগার পরিদর্শন করলেন ড. ইউনূস
গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, দেশটি এখন খননকৃত বিরল মৃত্তিকা খনিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন