ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জুলাইয়ে বাংলাদেশের পিএমআই বেড়ে ৫৭.৮, প্রধান সব খাতে সম্প্রসারণ


জুলাইয়ে বাংলাদেশের পিএমআই বেড়ে ৫৭.৮, প্রধান সব খাতে সম্প্রসারণ

জুলাই মাসে বাংলাদেশের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫৭ দশমিক ৮-এ উন্নীত হয়েছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) আজ যৌথভাবে প্রকাশিত ২০২৬ সালের জুলাই মাসের পিএমআই প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদন খাতের শক্তিশালী পুনরুদ্ধার জুলাই মাসের পিএমআই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। চারটি প্রধান খাতের মধ্যে তিনটিতেই সম্প্রসারণ রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদন খাতের পিএমআই ৬৫ দশমিক ৪, পরিষেবা খাতের ৫৬ দশমিক ০ এবং কৃষি খাতের ৫৫ দশমিক ২ সূচকে উন্নীত হয়েছে। তবে নির্মাণ খাত সামান্য সংকোচনের মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, আটজনের যাবজ্জীবন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কৃষি খাত টানা ১১তম মাসের মতো সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। তবে সম্প্রসারণের গতি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এ খাতে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্যে থাকলেও কর্মসংস্থান সূচক সামান্য সংকোচনে ফিরেছে। একই সঙ্গে উপকরণ ব্যয়ের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং অসমাপ্ত অর্ডারের সূচক সংকোচনের মধ্যে রয়েছে।

উৎপাদন খাত জুলাই মাসে সবচেয়ে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার করেছে। এ খাতের পিএমআই ১৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৫ দশমিক ৪-এ পৌঁছেছে। নতুন অর্ডার, নতুন রপ্তানি অর্ডার, উৎপাদন, উপকরণ ক্রয়, আমদানি, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহকারীদের পণ্য সরবরাহ সব সূচকেই সম্প্রসারণ দেখা গেছে। তবে উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং অসমাপ্ত অর্ডারের সূচক সংকোচনের মধ্যে রয়েছে।

নির্মাণ খাতের পিএমআই জুলাইয়ে ৪৯ দশমিক ৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা সামান্য সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। তবে জুনের তুলনায় এ খাতের সূচক ৯ দশমিক ১ পয়েন্ট উন্নতি করেছে। নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানে সংকোচনের হার কমেছে। অন্যদিকে উপকরণ ব্যয় ও অসমাপ্ত অর্ডারের সূচকে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।

সেবাখাত টানা ২২তম মাসের মতো সম্প্রসারণ ধরে রেখেছে। জুলাইয়ে এ খাতের পিএমআই ১ দশমিক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬ দশমিক ০-এ উন্নীত হয়েছে। নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং উপকরণ ব্যয় সূচকে দ্রুততর সম্প্রসারণ দেখা গেছে। একই সঙ্গে অসমাপ্ত অর্ডারের সংকোচনের হার কমেছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন: মজুরি বোর্ড গঠনে দলীয়করণ করেছে সরকার: গোলাম পরওয়ার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ ব্যবসায় ইনডেক্সে সব খাতেই শক্তিশালী সম্প্রসারণের চিত্র পাওয়া গেছে, যা আগামী মাসগুলোতে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ আশাবাদের প্রতিফলন।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম. মাসরুর রিয়াজ মন্তব্য করেছেন, জুলাইয়ের পিএমআই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভিত্তিতে শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে উৎপাদন খাতের তীব্র পুনরুদ্ধার এবং কৃষি ও পরিষেবা খাতের অব্যাহত সম্প্রসারণ।

তিনি বলেছেন, উৎপাদন খাতের এই পুনরুদ্ধারের সঙ্গে গত ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক রপ্তানি আয় অর্জনের বিষয়টিও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ড. রিয়াজ জানান, পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নির্মাণ খাত এখনো সামান্য সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। তবে সব খাতে উচ্চ আশাবাদ ব্যবসায়িক আস্থার উন্নতি, বৈদেশিক বাণিজ্য খাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের পর আরও সহায়ক ব্যবসায়িক পরিবেশের প্রত্যাশাকে নির্দেশ করছে।

আরও পড়ুন: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি এ্যাডভাইজারের সাক্ষাৎ

পিএমআই একটি অগ্রণী উদ্যোগ, যা দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থার সম্পর্কে সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য ধারণা প্রদান করে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকেরা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা পান।

এ সূচকটি এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের কারিগরি সহায়তায় প্রণীত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভায় ২১৯৯ শ্রমিক ও পরিবারকে ১৩ কোটি টাকা অনুদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ পি.এম


শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভায় ২১৯৯ শ্রমিক ও পরিবারকে ১৩ কোটি টাকা অনুদান

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের ৩৪তম সভায় প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মরত ২ হাজার ১৯৯ জন শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে ১২ কোটি ৯৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৮ কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।

আজ দুপুরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের ৩৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করা, দুর্যোগ-দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য। তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এবং উৎপাদন ব্যবস্থার চাকা সচল রাখতে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমজীবী ভাই-বোনেরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘামের ওপর ভর করেই দেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা ত্বরান্বিত হচ্ছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনও শ্রমজীবী মানুষ যেন বিপদে নিঃসঙ্গ বোধ না করেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন সর্বদা শ্রমিকদের অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে।’

মন্ত্রী তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুষম, কর্মবান্ধব ও শোষণমুক্ত শ্রমনীতি ও পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মোহাম্মদ কুদ্দুছ আলী সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরফ্যাশনে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চরফ্যাসন থেকে শহিদুল ইসলাম

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ পি.এম


চরফ্যাশনে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

চরফ্যাশনে পুলিশের শশীভূষণ থানার কর্তৃপক্ষ একটি পরিচয়হীন নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে চরহাছিনা এলাকার নদীর পাশ্ববর্তী একটি চর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রবিবার ময়না তদন্তের জন্য ওই লাশটি ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে শশীভূষণ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শশীভূষণ থানার ওসি মো.ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর তারা চরহাছিনা থেকে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত ওই নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নারীর পড়নে একটি পেন্টি ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। পুলিশের মতে, নারীর মৃত্যু ৭/৮ দিন আগে ঘটেছে। নদীর জোয়ারের পানিতে ভেসে আসার পর মরদেহটি চরে এসে আটকে যায়। এই কর্মকর্তা বলেন, মুখের মাংস খসে যাওয়ায় নারীর মুখমন্ডল বিকৃত হয়ে গেছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত ওই নারীর পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। যদি পরিচয় সনাক্ত না হয়, তাহলে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবির নিয়োগ বিতর্কে তদন্তের ‘সীমাবদ্ধতা’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


ইবির নিয়োগ বিতর্কে তদন্তের ‘সীমাবদ্ধতা’ নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগ নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য যাচাই-বাছাই করার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। তবে, সমাধানের লক্ষ্যে এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির কার্যপরিধির সীমাবদ্ধতা নিয়েই সংশ্লিষ্টরা এবার নতুন প্রশ্ন তুলছেন।

কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোকসানা বেগম মিলি জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রার্থীর শুধু ফলাফলের হেরফের কিনা যাচাই করার নির্দেশনা পাওয়া গেছে।

এতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে উঠা অভিযোগগুলোকে অধিকাংশই প্রশাসন কৌশলে তদন্তের বাইরে রেখেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। একাধিক প্রার্থী জানান, “আমরা এখনও তদন্ত কমিটির ওপর আস্থা রাখছি। শুধু ফলাফল যাচাই-বাছাই করার নির্দেশনা মূলত হাত পা বেঁধে দেওয়ার মতো।”

এর আগে, আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনীনের নিয়োগকে ঘিরে গণমাধ্যমে একের পর এক অভিযোগ এসেছে গত কয়েক সপ্তাহে। বিভাগীয় কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়া, নিয়োগ বোর্ডের ঠিক আগের দিন প্রার্থীর স্বামীর বোর্ড-বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী ফারহানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, এবং পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকাকালীন একাডেমিক অনিয়মের মাধ্যমে স্ত্রীর ফল বাড়িয়ে দেওয়া – ইত্যাদি অসংগতি সামনে আসে। তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভাগীয় সভাপতির গড়িমসি, এক সাংবাদিককে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং কটাক্ষের অভিযোগও উঠে আসে গণমাধ্যমে।

ভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বর্ষে অকৃতকার্য হওয়া ফিরোজা নাজনীন রিটেক পরীক্ষা দিয়ে ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে ৩.৩৮ সিজিপিএ নিয়ে স্নাতক শুরু করেন। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে তাঁর স্বামী ড. জাহিদুল বসার পরই ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তৃতীয় বর্ষে একটি মানোন্নয়নসহ সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৬৪-এ, চতুর্থ বর্ষে তা বেড়ে হয় ৩.৮৪, আর মাস্টার্সেও তিনি পান ৩.৬৪। একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া তুলনামূলক ভালো ফলধারী কয়েকজন প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় ফিরোজা নাজনীনের নিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছিল। এরপর গণমাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসলে ব্যাপক সমালোচনার স্বীকার হয়ে নিয়োগপত্র স্থগিত করে প্রশাসন। সিন্ডিকেট সভায় সদস্যদের আপত্তির মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগের মুখে গত ২১ জুলাই তিন সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলিকে, সদস্যসচিব একাডেমিক শাখার কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, আর সদস্য পদে রাখা হয় থিওলজি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলীকে।

তবে কমিটি গঠনের অফিস আদেশ ঘেঁটে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের স্বাক্ষরিত সেই আদেশে শুধু ফিরোজা নাজনীনের বিএসসি ও এমএসসির একাডেমিক ফলাফল যাচাইয়ের নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ডের আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থেকে ফল বৃদ্ধির মতো স্পর্শকাতর অভিযোগগুলো তদন্তের পরিধিতেই রাখা হয়নি। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে ক্যাম্পাসে।

বিষয়টি নিয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি বলেন, “আমাকে যে চিঠি ইস্যু করেছে ওখানে শুধু প্রার্থীর একাডেমিক ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসন নির্দিষ্ট একটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ রাখতে বলেছে। তাই চাইলেও অন্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার সুযোগ নেই আমার হাতে। দ্রুত রিপোর্ট জমা দিব।”

এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত মূল অভিযোগগুলোই যদি তদন্তের বাইরে থেকে যায়, তাহলে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে কি না–সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলিযোগাযোগ খাতে কর কমানোসহ ৫ অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ পি.এম


টেলিযোগাযোগ খাতে কর কমানোসহ ৫ অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন উপদেষ্টা

ঢাকা, ৯ আগস্ট, ২০২৬ : টেলিযোগাযোগ খাতে করের বোঝা কমানো, মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার মান উন্নয়ন, বিশেষত শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, এআই-ভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন সম্প্রসারণ, এগুলি সরকারের пятьটি অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের পথে অগ্রযাত্রা : উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও আইসিটি-নির্ভর প্রবৃদ্ধির নীতিগত অগ্রাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিষয়ে মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গড় ২২ থেকে ২৭ শতাংশের তুলনায় বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে কার্যকর করের বোঝা ৫১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এই খাতে পাঁচ বছর মেয়াদি কর কাঠামোর আওতায় ধারাবাহিক ও ভবিষ্যৎমুখী নীতি প্রণয়নের প্রয়োজন আছে। পাশাপাশি তিনি সিম কর প্রত্যাহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে থাকলেও মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার মানের ক্ষেত্রে দেশটি এখনো পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থার উন্নয়নে সেবার মান ও সক্ষমতা নিশ্চয়ই বাড়াতে হবে।

‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার_plan সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানান। এ ক্ষেত্রে এস্তোনিয়ার এক্স-রোড প্ল্যাটফর্ম অনুসরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রতিটি নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় ব্যাংক হিসাব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এআই, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা বিষয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার প্রকৌশল ও বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বের হন। তাদের এসব ক্ষেত্রে দক্ষ করার পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমেও বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইলেকট্রনিকস উৎপাদন খাত সম্প্রসারণে পোশাকশিল্পের মতো প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি ভিয়েতনামের উদাহরণ দেন। তিনি আরও জানান, এক দশকে দেশটির কনজিউমার ইলেকট্রনিকস রপ্তানি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২১৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) এক গবেষণার বিষয় উল্লেখ করে রেহান আসিফ আসাদ জানান, ব্রডব্যান্ডের বিস্তার ১০ শতাংশ বাড়লে জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

অনুষ্ঠানে অ্যামচেমের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন অনুমোদনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের কর অব্যাহতি এবং কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস ও সেমিকন্ডাক্টর-সংশ্লিষ্ট উপকরণের ওপর শুল্ক সুবিধাকে স্বাগত জানান।

তিনি প্রযুক্তি কোম্পানি ও স্টার্টআপের বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করা, আইএসপি খাতের টার্নওভার কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আরও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

অ্যামচেমের আইসিটি সাবকমিটির চেয়ার ও ওরাকল বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলার সঞ্চালনায় সংলাপে ডিজিটাল অর্থনীতি, ডিজিটাল অবকাঠামো, এআই, উদ্ভাবন ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকার-শিল্পখাতের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় মেট্রো ও টোল ব্যবস্থায় ওপেন-লুপ টিকিটিং, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের জন্য বাংলা কিউআর চালু, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগ, স্টার্টআপ স্যান্ডবক্স, পাবলিক ক্লাউড ব্যবহারের সুযোগ, জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গঠন, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও ইলেকট্রনিক চুক্তি এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তাব উঠে আসে।

এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, আরএফআইডি-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থপ্রবাহের জন্য বাংলা কিউআর উন্মুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মত হয়েছে। ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ প্ল্যাটফর্ম দেশি ও বিদেশি উভয় পেমেন্ট নেটওয়ার্কের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্টার্টআপ স্যান্ডবক্সের বিধানগুলো স্টার্টআপ কমিউনিটির সঙ্গে পরামর্শ করে পরিমার্জন করা হবে।

জাতীয় সাইবো নিরাপত্তাকে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের সমন্বয়ে একটি যৌথ দলের মাধ্যমে জাতীয় এআই নীতি প্রণয়নের কাজ শুরু হবে।

সাবমেরিন কেবল সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল সক্ষমতা ৬ টেরাবাইটের বিপরীতে সর্বোচ্চ জাতীয় চাহিদা ১২ টেরাবাইটে পৌঁছেছে এবং প্রতি দুই বছরে ডেটা ট্রাফিক দ্বিগুণ হচ্ছে। নতুন সাবমেরিন কেবল স্থাপনে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সিটিব্যাংক এনএ, সিসকো, এইচএসবিসি, মাস্টারকার্ড, মেটলাইফ, পাঠাও, পিডব্লিউসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, শপআপ ও ভিসাসহ অ্যামচেমের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অ্যামচেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমেদ, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%