১১:৫৯ এম
বাজেটের ঘাটতি পূরণ করার জন্য ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই পরিস্থিতির মধ্যে, একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ স্কিম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে, ঋণ খেলাপি, অর্থপাচারে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং অতীতে ঋণের অর্থ অপব্যবহারকারীদের এই সুবিধা প্রদান করা হবে না।
এদিকে, তিন বছরের জন্য বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার এই প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে। এই স্কিমের আওতায় ঋণগ্রহিতাগণ এক বছরের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষ এই স্কিমে বন্ধ কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালু করার ক্ষেত্রে রফতানিমুখী শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে, বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। ঋণ খেলাপি, ঋণ জালিয়াতি, অর্থপাচারে অভিযুক্ত এবং অতীতে ঋণের অর্থ অপব্যবহারকারীরা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
নীতিমালার আওতায়, ঋণ দেয়ার পূর্বে ব্যাংকগুলোকে প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা যাচাই করা আবশ্যক। এছাড়া, কেন প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে সে বিষয়ে মূল্যায়ন (নিড অ্যাসেসমেন্ট) করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা আবশ্যক। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, যেসব প্রকল্প থেকে আয় আসে না, সেখানে অর্থায়ন করলে সেই অর্থ ফেরত দেয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই নিশ্চিত করতে হবে যে, ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে এবং সেখান থেকে আয় তৈরি হচ্ছে। সেই আয় থেকেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে, আগামী বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে যে, বাজেটের আকার এবং ব্যাংক খাতের সক্ষমতা বিবেচনায় ২০ হাজার কোটি টাকার এই স্কিম কোনো নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, বেসরকারি খাতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে সেটিকে গতিশীল রাখা সরকারে অন্যতম অগ্রাধিকার। ফলে, এমনভাবে পরিকল্পনা করা হবে যাতে একটি খাতের কারণে অন্য খাত ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
এই তহবিলের অর্থ আংশিক উৎপাদনে থাকা কারখানাকে পূর্ণ উৎপাদনে নিতে মূলধন ঘাটতি পূরণ, কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, রফতানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় ব্যবহারের জন্য দেওয়া হবে।
এতদসত্বেও, বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং এর সাথে সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রতি ত্রৈমাসিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন