ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ


দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ ও দক্ষতা উন্নয়নে দেশটির দুটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। সিউলে ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া (এনইএসএ) এবং কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার (সিএকে) প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এনইএসএর সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি মৌসুমি কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষা শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। এ সময় এনইএসএর প্রতিনিধিরা কোরীয় ভাষা শিক্ষা, পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশি কর্মীদের অবদান ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: বেসাঁসোঁতে বাংলাদেশ কমিউনিটির নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলা

বৈঠকে কর্মীদের বিদেশযাত্রার আগে ব্যবহারিক কোরীয় ভাষা ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়, যাতে তারা দেশটির কর্মপরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

অন্যদিকে, সিএকের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। আন্তর্জাতিক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানান।

সিএকে ও দেশটির শীর্ষস্থানীয় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কার্যকর যোগাযোগ এবং কারিগরি দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা ব্যবহারিক কোরীয় ভাষায় দক্ষ ও নির্মাণকাজে প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি কর্মীদের এ খাতে যুক্ত করার সম্ভাবনাও উল্লেখ করেন।

বৈঠক দুটিতে কর্মীদের বিদেশযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের সভাপতি গুলজার, সম্পাদক মহব্বত নির্বাচিত

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বৈরাচারের গুলি দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ এম


স্বৈরাচারের গুলি দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান: প্রধানমন্ত্রী

‘স্বৈরাচারের গুলি কিন্তু দেখেনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে খ্রিষ্টান।’ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। তাই নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় বাংলাদেশি এবং রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেমসেন হলের পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উৎসব পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীও বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য দূর করা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নাগরিক অধিকার, সম্পত্তি দখলের অভিযোগ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। তখন কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—তা বিবেচনা করে কেউ যুদ্ধে অংশ নেননি। একইভাবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্র-জনতা, নারীসহ সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের গুলিতে যারা আহত ও শহীদ হয়েছেন, তাদের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কিংবা চিকিৎসার সময় কেউ তার ধর্ম জানতে চাননি। মানুষের জীবন রক্ষাই ছিল তখন প্রধান বিষয়।

তারেক রহমান বলেন, নাগরিকদের সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু পরিচয়ে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে সবাইকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, লন্ডনে থাকার সময় তিনি এমন পরিবেশে ছিলেন, যেখানে অন্য ধর্মের মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে বিবেচনা করার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশের আইন আমার জন্য যেভাবে প্রযোজ্য, আপনার জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য। এই দেশের ওপর আপনার যে অধিকার আছে, আমারও ঠিক সেই অধিকার রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষের আত্মত্যাগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি নিরাপদ, শান্তিময় ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

‘আপনারা কারও ভোটব্যাংক হবেন না’

একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারও ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অন্য সবার মতো তাদেরও সমান সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক ও আইনি অধিকার রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কারও ভোটব্যাংক হবেন না। আপনারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। এই দেশের স্বাধীন সব অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং অন্যান্য আইনি অধিকার আপনারাও অন্য নাগরিকদের মতো ভোগ করবেন।’

তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন তারা চান না। রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান হওয়া উচিত। সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি ও উপাসনালয়ের সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে উৎসবের এই সর্বজনীনতা দীর্ঘদিনের। একে রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজনের মধ্যে ফেলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অর্পিত সম্পত্তি দখল নিয়ে অভিযোগ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখলের প্রসঙ্গও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার অভিযোগ, ১৯৭২ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাদের সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৯৬ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে কাজ করার সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, তখন সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তাঁরা খুঁজে পাননি।

তিনি বলেন, অতীতে যাদের সম্পত্তি দখল হয়েছে, তাদের সে বিষয়ে কথা বলতে হবে এবং অধিকার আদায়ের দাবি তুলতে হবে। বিএনপির জন্মের আগের ঘটনাগুলোর দায় দলটির ওপর বর্তায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সব নাগরিকের আস্থা অর্জন করতে চায় সরকার।

‘বিএনপিকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে অপপ্রচার’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপিকে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

রিজভী বলেন, বিএনপি অতীতেও একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। তখন দলটিকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে যেভাবে প্রচার চালানো হয়েছে, গত ১৭ বছরে তা আরও পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য অতিরঞ্জিত প্রচার এবং মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।

দুর্গাপূজার সর্বজনীনতার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, বগুড়ায় তার বাড়ির সামনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বড় মেলা বসত। সারা বছর সেই মেলার জন্য অপেক্ষা করতেন তাঁরা। এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধনের পরিচয় দেয়।

ভারতীয় পর্যটকদের প্রশংসার কথা তুলে ধরলেন রিজভী

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা দেখতে ভারত থেকে পর্যটকেরা এসেছেন উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকার দেখা যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশে আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রশংসা করছেন অনেকে বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশের পূজার পরিবেশ নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের একটি দিক তুলে ধরে। অথচ অপপ্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন বিভেদ সৃষ্টির সেই প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঈন খানের আহ্বান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকল ধর্মের মানুষের ঐক্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ এম


মঈন খানের আহ্বান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকল ধর্মের মানুষের ঐক্য

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন যে, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধারণ করেন। তারা সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সবাই যেন সব সময় মিলেমিশে বসবাস করতে পারে, সেই পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের পরিবেশনায় আরতি উপভোগ করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর দুর্গাপূজায় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে আসি। এখানে একটি আলাদা পরিবেশ বিরাজমান। সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে আনন্দ উপভোগ করেন। তিনি আশা করেন যে, এ ধরনের পরিবেশ যেন সব সময় বজায় থাকে।

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী মন্তব্য করেন, শারদীয় উৎসব নিয়ে আমরা জাতীয়ভাবে গর্ববোধ করি।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক শ্রীমতি সাহা, পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক মহাবীর পতি চন্দন, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল হালিম, ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরী, কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক লিটন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আরিফ এবং পৌর বিএনপির সভাপতি হযরত আলী মিঞাসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমুদিনী কমপ্লেক্সের সেবার ইতিহাস অনন্য: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৭ এম


কুমুদিনী কমপ্লেক্সের সেবার ইতিহাস অনন্য: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন, "মানবসেবাই আসল ধর্ম।" তিনি কুমুদিনী কমপ্লেক্সকে একটি অনন্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখানে এসে যা দেখেছেন, তা একটি ইতিহাস। প্রতিষ্ঠানটি যুগ যুগ ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দিনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, "শুনেছি, কুমুদিনী কমপ্লেক্স তৃতীয় প্রজন্মের হাতে পরিচালিত হচ্ছে। তারা সবকিছু খুব সুন্দরভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। হাসপাতালটিও অনেক বড়। যুগ যুগ ধরে তারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।"

দুর্গাপূজার পরিবেশ নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার মন্তব্য করেছেন যে, পূজার সময় একটি বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়, যা সব সময় দেখা যায় না। তিনি কামনা করেন, এ ধরনের পরিবেশ যেন সব সময় বজায় থাকে।

এর আগে বিকালে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছান ভারতীয় হাইকমিশনার। সেখানে কুমুদিনী লাইব্রেরিতে চা-চক্র শেষে নৌকায় লৌহজং নদী পেরিয়ে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়িতে যান তিনি।

এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা ও মহাবীর পতি চন্দন, ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরী এবং কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় ও উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমান অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: শেখ রবিউল আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০৮ এম


ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমান অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: শেখ রবিউল আলম

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী ও ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সরকার ধর্মের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি না করে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই দেশে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবেন। তিনি বলেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার কারও করুণা নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার।"

মঙ্গলবার, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের আটটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে পূজার শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি, বিভাজন, অনৈক্য কিংবা সংঘাত চাই না। আমরা সম্প্রীতি চাই, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। আমাদের সবার একটাই পরিচয়—আমরা এই দেশের মানুষ। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে কোনো বিভাজন তৈরি হোক, তা আমরা চাই না।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি এই এলাকারই সন্তান, আপনাদের ভাই, বন্ধু ও প্রতিবেশী। আপনাদের প্রতি আমার দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা আমার দায়িত্বের অংশ।”

শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর পরিবেশে তাদের ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, “আমি আশা করি, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে, আনন্দের সঙ্গে এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে পূজা উদ্‌যাপন করছেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে কিংবা কারও নাগরিক অধিকার ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করলে আমাকে জানাবেন। আপনাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব, এটি কোনো করুণা নয়।”

ঢাকা-১০ আসনের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের বয়স এখনো আট মাস। এরই মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে চলছে এবং আগামী দিনে আরও উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে পরিবার, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%