০৪:২৭ এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় গড়ে তোলেন, কোনো ভোটব্যাংক না হয়ে। তিনি অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেমসেন হলের পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি না করে সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করার রাজনীতিতে সরকার বিশ্বাসী নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা কারও ভোটব্যাংক হবেন না। আপনারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। এই দেশের স্বাধীন সব অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং অন্যান্য আইনি অধিকার আপনারাও অন্য নাগরিকদের মতো ভোগ করবেন।’
আরও পড়ুন: ভারতের উত্তরাখণ্ডে মাদরাসায় জুমার ছুটি বাতিল, বিজেপি সরকারের নতুন নিয়মে বিতর্ক
তিনি আরও বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন তারা চান না। রাষ্ট্রের কাছে সব নাগরিকের অধিকার সমান। সংবিধান ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য স্বীকার করে না। সরকার সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি ও উপাসনালয়ের সমান অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে বৈষম্য থাকবে না এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। কোথাও ধর্মের সংখ্যা বেশি, কোথাও কম। কিন্তু বাংলাদেশে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করতে চায় না। সবার পরিচয় বাংলাদেশি নাগরিক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব পরিচয়কে সম্মান করা প্রয়োজন। তিনি ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বী’র পরিবর্তে ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী’ ও ‘বৈদিক’ পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে রক্ত দিয়েছেন। একইভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মানুষের হৃদয় ষড়যন্ত্রে জয় করা সম্ভব নয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব নাগরিকের অধিকার সমান থাকবে এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশকে ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গত নির্বাচনে তাদের অবস্থান সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এখন সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দেশ গড়তে হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭২ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন স্থানে তাদের সম্পত্তি দখল করা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের সম্পত্তি দখলের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দুঃখ লাগে, আপনারা স্পষ্টভাবে সেই কথাগুলো বলেন না।’ অতীতে যাদের সম্পত্তি দখল হয়েছে, তাদের সে বিষয়ে কথা বলা এবং অধিকার আদায়ের দাবি তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদের ৮০তম জন্মদিন কাল
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপির জন্মের আগে ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর দায় বিএনপির ওপর বর্তায় না। তার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তিনি অতীতের শাসকদের সমালোচনা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাস্তবেও তা কার্যকর করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সব ধর্মের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলেই তাদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চান। এ সময় তিনি উপস্থিত পূজারি, ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
আরও পড়ুন: মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিএনপিতে স্থান নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন