ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট


ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন যে, হিন্দু ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোন বোন উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না। ভাইয়ের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হওয়ার অধিকার দাবি করে করা এক দেওয়ানি রিভিশনে জারি করা রুল খারিজ করে দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট এমন তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে, আদালত অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন।

এই রায়টি ‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস এবং অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী এবং অন্যান্য’ শীর্ষক মামলায় আদায় করা হয়।

গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বুধবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। এই মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি

রায় ঘোষণার সময় রিভিশন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত। অপর দিকে, বিবাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার একটি জমি-সংক্রান্ত দেওয়ানি রিভিশন মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত ২০০৮ সালে জারি করা রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও অধস্তন আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার অধিবাসী রামকান্ত বিশ্বাসের এক পুত্র ও তিন কন্যাসন্তান ছিল। তিনি ১৯২০ সালে নিজের অর্থ দিয়ে তার ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে পটিয়া উপজেলাধীন ১ দশমিক ৩৫ একর নালিশি জমি ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাস তার বাবার জীবদ্দশাতেই মারা যান। আর ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাস মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর মৃত রামকান্ত বিশ্বাসের কন্যা শৌল বালা দাস উক্ত জমির মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্রে দাবি করেন। অন্যদিকে, সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী সাবিত্রী বালা জীবিত থাকাকালে ১৯৯৬ সালে জমিটি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করে দেন।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন

পরে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে (চৌকি আদালত) এই জমির উত্তরাধিকার দাবি করে দেওয়ানি মামলা করেন শৌল বালা দাস। বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, উক্ত বিক্রয় দলিলটি জাল, প্রতারণামূলক এবং কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সম্পাদিত হয়েছে।

পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে ২০০০ সালের ২২ জুন বাদীপক্ষের মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে বাদী বিচারিক আদালতের ওই রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে চট্টগ্রামের ১ম অতিরিক্ত জেলা জজ ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিলটি খারিজ করে রায় দেন।

আপিল আদালতের ওই রায় ও ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট হয়ে বাদী (আপিলকারী) দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীনে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন। শুনানি শেষে একই বছর আদালত রুল জারি করেন। ২০০৮ সালে জারি করা ওই রুল গত ৯ জুলাই খারিজ করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সময় অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে, হিন্দু দায়ভাগা আইনে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর জীবদ্দশায় ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকারী হিসেবে অধিকার নেই। রায়ে হাইকোর্ট দায়ভাগা স্কুল অব হিন্দু আইনের অধীনে বিধবা নারীর অধিকার ও উত্তরাধিকারের বিভাজন ব্যাখ্যা করে বলেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী জীবনভর স্বামীর সম্পত্তিতে স্বত্ব বা অধিকার লাভ করেন। তবে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা সীমিত।

আরও পড়ুন: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

বিধবা নারী যদি এই সম্পত্তি কারও কাছে হস্তান্তর করেন, তবে তা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার কেবল তিনিই অধিকারী যিনি বিধবার মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারী। যে ব্যক্তি বা যার উক্ত সম্পত্তিতে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারী হিসেবে কোনো আইনগত স্বার্থ বা অধিকার নেই তিনি ওই সম্পত্তি হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন না। হস্তান্তরটি ‘আইনগত প্রয়োজনে’ করা হয়নি- এমন কেবল এই যুক্তি দেখিয়ে সম্পত্তিতে অধিকারহীন কোনো ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে বা হস্তান্তরকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে বড় বিপদে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


হরমুজে বড় বিপদে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-বিরোধী যুদ্ধে যুক্ত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ তৈরি হয়েছে একটি চরম মানসিক ও সরবরাহ সংকট। দীর্ঘ দুইশত ষাট দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করায় জাহাজটিতে অবস্থানরত নাবিক ও সেনাসদস্যদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রচন্ড হতাশা ও মানসিক অবসাদ।

বিভিন্ন খবর রটেছে যে, ক্রমাগত মানসিক চাপে বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য জাহাজ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে, প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-কে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছে পেন্টাগন। ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর থেকে ছেড়ে আসা জাহাজটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর প্রণালি পার হয়ে ভারত মহাসাগরের পথে রয়েছে, যা শিগগিরই লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হবে।

সাধারণত, মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজগুলো ছয় থেকে নয় মাসের জন্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু যুদ্ধের কারণে লিংকনের কার্যকাল অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সান ডিয়াগো থেকে রওনা হওয়া এই রণতরীটি ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের কারণে শুধু যে সেনাসদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তা নয়, বরং জাহাজটিতে সুপেয় পানি, খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেরও চরম ঘাটতি দেখা দেয়। নৌবাহিনী স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় ডাকসেবাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, যদিও বর্তমানে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে, লিংকনের নাবিকদের এমন দুর্দশার খবর চাউর হতেই মার্কিন রাজনীতিতে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেও, ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা এই ঘটনায় পেন্টাগনের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। অ্যারিজোনার সিনেটর রুবেন গ্যালেগো একে বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে পরিদর্শনের জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তবে এসব অভ্যন্তরীণ সংকট এবং তীব্র উদ্বেগের তোয়াক্কা না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন বা পেন্টাগন কোনো পক্ষই ইরান যুদ্ধের অবসান অথবা এই অনির্দিষ্টকালের ব্লকহেড কীভাবে শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দিতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে নিহত বেড়ে ৬, কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


জাপানে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে নিহত বেড়ে ৬, কারণ কী?

জাপানের রাজধানী টোকিওর নিকটবর্তী চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন ভারী বর্ষণের ফলে অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। প্রবল বর্ষণের কারণে এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান বন্যা ও ভূমিধসের হুমকির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার। একই সঙ্গে, পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার কারণে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দরে রাতভর আটকে ছিলেন প্রায় সাত হাজার যাত্রী।

জাপানি কর্তৃপক্ষ এই বৃষ্টিপাতকে নজিরবিহীন বলে ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে লেভেল ৫ জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়, কিন্তু শুক্রবার সকালে তা পরিবর্তন করে লেভেল ৪ করা হয়েছে। তবে বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান বলে কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করছে।

জাপানের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে, কিয়োদো নিউজ এজেন্সি এবং আসাহি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী আছেন, যিনি একটি সড়কে প্লাবিত হয়ে থাকা গাড়ির ভেতরেই মারা যান। অন্যদিকে, আরও দুজন রাস্তার উপর হঠাৎ পড়ে গিয়ে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

চিবা প্রিফেকচারে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কিছু এলাকা প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার থেকে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, আগস্ট মাসের গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বেশি। এটি জাপানে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টিপাতও বটে।

চিবা প্রিফেকচার গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, জাপানের ঐতিহাসিক আবহাওয়ার মানদণ্ড অনুযায়ী, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। অতীতে তিনি অনেক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছেন, তবে এ ধরনের পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা তার হয়নি।

গভর্নর কুমাগাই আরও বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানাচ্ছে, পূর্বাঞ্চলে উষ্ণ এবং আর্দ্র বায়ু প্রবেশ করে ওপরের স্তরের ঠান্ডা বায়ুর সঙ্গে মিলে যায়, যার ফলস্বরূপ এই প্রবল বর্ষণের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টির অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।

প্রবল বর্ষণে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার এক লাখেরও বেশি পরিবারের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালেও বেশ কিছু রেল পরিষেবা বন্ধ রয়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃষ্টিপাত এবং পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার ফলে নারিতা বিমানবন্দরেও যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। প্রায় সাত হাজার যাত্রী সেখানে রাতভর আটকা ছিলেন। বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও যাত্রীরা আটকা পড়েন। চিবা প্রিফেকচারাল সরকারের ভবনে রাত কাটান প্রায় এক হাজার ৮০০ মানুষ।

নারিতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকল ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার কথা রয়েছে। জাপানের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তাদের কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে। তবে কোনো ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা নেই।

চিবার ইচিকাওয়া শহরের এক নারী এনএইচকেকে বলেন, বৃষ্টি হঠাৎ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি উদ্বিগ্ন যে আগামী কয়েক দিনে তিনি তার ব্যবসা খুলতে পারবেন কি না।

জাপানে এই প্রবল বৃষ্টিপাতের আগে চলতি সপ্তাহে দেশটি এবং এর প্রতিবেশী অঞ্চলে একের পর এক ঝড় এসেছে। জাপান, ফিলিপাইন এবং চীনে একই সময়ে ডলফিন, চ্যান-হোম এবং পেইলু নামে তিনটি ঝড় আঘাত হানে।

ডলফিন জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে প্রবল বৃষ্টি নিয়ে আসে, যা হাজার হাজার ভবনকে বিদ্যুৎহীন করে ফেলে, গাছপালা উপড়ে যায় এবং ফ্লাইট বাতিল হয়।

ফিলিপাইনের উত্তরে বন্যার আশঙ্কায় বেশিরভাগ এলাকায় স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সপ্তাহান্তে চীনের পূর্বাঞ্চলে ডলফিন আঘাত হানার আগে ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমান বছরের জন্য চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ছিল ডলফিন।

এই প্রতিবেদন লেখা চলাকালীন, জাপানের চিবা প্রিফেকচারে নজিরবিহীন বৃষ্টির কারণে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন পাঁচজন। বন্যা এবং ভূমিধসের তাই ঝুঁকির কারণে সেখানে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জোরারগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২, চুরি মামলার আসামি গ্রেফতার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


জোরারগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২, চুরি মামলার আসামি গ্রেফতার ১

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলা জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫৭৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী এবং চুরির মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল পৌনে ৮টার দিকে এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম জামালপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় নিজ বসতগৃহ থেকে ৫২৫ পিস ইয়াবাসহ মোঃ আজিজুল ইসলাম তারেক (২৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তারেক ওই এলাকার আব্দুল মোতালেব ওরফে মতিন ড্রাইভারের ছেলে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ওসমানপুর ইউনিয়নের বাঁশখালী মুহুরী প্রজেক্ট বাজার এলাকা থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মোঃ এমরান (২৪) নামের আরেক তরুণকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় গ্রেফতার করেন এসআই (নিঃ) মোঃ মামুন হাসান। গ্রেফতারকৃত এমরান স্থানীয় আহসানুল হক দিদারের ছেলে।
অন্য এক অভিযানে চুরির মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (২১)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে জোরারগঞ্জের বিশ্বরোড এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করেন এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক উদ্দিন। গ্রেফতারকৃত মেহেদী বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার মহেশপুর গ্রামের মৃত মোঃ ফারুকের ছেলে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন তুলাতলি এলাকায় বসবাস করছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতারণার অভিযোগে সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


প্রতারণার অভিযোগে সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে মামলা

জালিয়াতি এবং প্রতারণার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিনিয়োগকারীদের একটি দল, যাদের অভিযোগে আছেন আমেরিকান পপতারকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্থা ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড’।

পূর্ববর্তী বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয় ভুয়া আশ্বাস দিয়ে, যে সেলেনার ব্যক্তিগত সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে এবং ওয়ান্ডারমাইন্ডের সাফল্য হবে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটিতে সেলেনা গোমেজ সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে ও ‘চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার’ এবং মার্কেটিং প্রধানের পদে থাকলেও, কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে বিগত তিন বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

মামলার নথির মধ্যে, পাঁচজন বিনিয়োগকারী যে যৌথভাবে এই অভিযোগ এনেছেন, তারা ২০২২ সালে সেলেনার খ্যাতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিশাল অনুসারীদের প্রভাবের ভিত্তিতে সংস্থাটিতে ১২ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটিরও বেশি) বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু গত তিনটি বছরে প্রতিষ্ঠানটি ধসে পড়ার উপক্রম হওয়া সত্ত্বেও কোন প্রতিষ্ঠাতা, নির্বাহী কর্মকর্তা বা পরিচালক বিনিয়োগকারীদের কিছু বলেননি। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের কোম্পানির পতনকে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে।

এই মামলায় সেলেনা গোমেজের সঙ্গে তার মা ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, কমন ল জালিয়াতি ও চুক্তি ভঙ্গের মতো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদীরা তাদের বিনিয়োগের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দাবি করেছেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে বিনিয়োগের সময় কোম্পানির বাজারমূল্য ৯৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং একটি যুগান্তকারী অ্যাপ নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। কিন্তু মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এসব অংশীদারত্ব বা বিজ্ঞাপনী চুক্তির কোনো অস্তিত্ব ছিল না এবং শেষ পর্যন্ত ওই অ্যাপও তৈরি হয়নি।

অবশ্য, গত বছর ‘দ্য কাট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর বিনিয়োগকারীরা প্রথমবার অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা জানতে পারেন। সেখানে বলা হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফ্ল্যাটফর্মটিকে সংকটে ফেলে দিয়েছে। মামলাটিতে উল্লেখ রয়েছে যে, সেলেনা তার মায়ের সাথে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

কোম্পানির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ার সেলেনা, তার মা ম্যান্ডি এবং সাবেক সঙ্গী পিয়ারসনের যৌথ মালিকানায় ছিল। মামলার কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা যায়, সেলেনার মা টিফি বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিলেন যে, তাদের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার পিয়ারসন নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি প্রায় ৭২ লাখ টাকা) বাড়িভাড়া মেটাতে বিনিয়োগকারীদের তহবিল ব্যবহার করেছেন, এবং তিনি ২০২৩ সালে ওয়ান্ডারমাইন্ড ছেড়ে যান।

তবে, বৃহস্পতিবার পিয়ারসন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তিনি আদালতের সামনে গিয়ে প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত আছেন যে, তিনি কখনো বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করেননি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সেলেনা, ম্যান্ডি বা ওয়ান্ডারমাইন্ডের কর্তৃপক্ষের থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%